২৭ এপ্রিল ২০২১, মঙ্গলবার, ৮:৫৪

রাজধানীর বায়ুদূষণ বৃদ্ধির মধ্যেই প্রকল্পের টাকা শেষ

ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ (কেইস) প্রকল্পের সব টাকা ব্যয়ের পরও বায়ুদূষণ কমেনি; উল্টো প্রতিদিন দূষণ বাড়ছে।
নগরীর বায়ুর মান বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) অনুযায়ী গত বছরের নভেম্বর থেকে বায়ুমান খুবই খারাপ হতে থাকে। চলতি বছরের শুরু থেকে বাতাসে দূষণের মাত্রা এতই বেড়ে যায় যে প্রায় প্রতিদিনই দূষণের তালিকায় বিশে^ ঢাকার নাম শীর্ষে উঠে আসে। এক পর্যায়ে দূষণে কয়েক বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করে রাজধানী। তারই ধারাবাহিকতায় চলমান লকডাউনের প্রথম দিকে বায়ুদূষণ কিছুটা কমলেও তা কখনো সহনীয় পর্যায়ে আসেনি। এরই মধ্যে গতকাল সোমবার থেকে আবার বাড়তে শুরু করেছে দূষণ। তবে এখন লকডাউন শিথিলতায় নগরীতে গাড়ি বৃদ্ধি পাওয়ায় আবার দূষণ বাড়ছে।

লকডাউনের শুরুতে নগরীর বায়ুর মান বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর ছিল ১১০ থেকে ১১৮ এর মধ্যে। কিন্তু রোববার রাত থেকে একিউআই সূচকে ঢাকার স্কোর ছিল ১৭৫, যার গুণগত মানকে অস্বাস্থ্যকর হিসেবে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে।

পরিবেশ অধিদফতরের তথ্য মতে, বায়ুদূষণের স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ এর মধ্যে থাকার অর্থ হলো এর মান অস্বাস্থ্যকর, যা সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলবে।

স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার জানান, ২০২০ সালের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের তুলনায় ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ১১ ভাগ, ফেব্রুয়ারিতে ৫ ভাগ এবং মার্চ মাসে ২১ ভাগ বায়ুদূষণ বেড়েছে। এখন গত বছরের তুলনায় দূষণ বেশি আছে। তিনি জানান, লকডাউন চলাকালে প্রতিদিন ঢাকার দু’টি করে মোট ১০ এলাকায় স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) ৮ ঘণ্টা করে বায়ুর মান পরিমাপ করছে। এতে দেখা গেছে, লকডাউন থেকে মানুষ যখন স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে, তখন রাজধানীর বায়ু খারাপ হচ্ছে। যখন গাড়ি চলছে নগরীর বায়ুদূষণ বাড়ছে। তারই ধারাবাহিকতায় লকডাউনের শুরুতে দূষণ কিছুটা কমলেও গত শুক্রবার তা বেড়ে ১১২-তে উঠে। কিন্তু এরই মধ্যে শনিবার তা চলে যায় ১৫২ থেকে ১৫৩তে; যা মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী ঢাকার পরিবেশ উন্নয়নের জন্য নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ (কেইস) প্রকল্প ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে গ্রহণ করা হয়। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ছিল পরিবেশ অধিদফতর ও ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

কিন্তু প্রকল্পের টাকা যথাযথভাবে খরচ না করে মোট ব্যয়ের ১৮২ কোটি টাকাই দেখানো হয়েছে কর্মচারীদের বেতনভাতা বাবদ। আর মিডিয়া ক্যাম্পেইনে গেছে ৩৪ কোটি টাকা। বিদেশ ভ্রমণে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৩৩ কোটি টাকা, কানসালট্যান্সিতে গেছে ৩৩ কোটি, মেলা বাবদ ১০ লাখ টাকা, কালচারাল প্রোগ্রামে ৯ লাখ আর কর্মকর্তাদের কাপড় ধোয়ায় গেছে ১ লাখ। অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্পের ৮০২ কোটি টাকা অনিয়ম আর দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট শেষ করা হয়েছে।

ফলে প্রকল্পের পুরো অর্থ ব্যয় হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এ অবস্থায় নতুন করে আরো সাত হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেয়া হচ্ছে।

https://www.dailynayadiganta.com/last-page/578447