৯ এপ্রিল ২০২১, শুক্রবার, ৩:১০

এলপি গ্যাসের দাম ১২ এপ্রিল থেকে বাড়ছে !

চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি এলপি গ্যাসের দাম নির্ধারণের জন্য বিক্রয়কারী কোম্পানিগুলোর দাম নিয়ে গণশুনানি করে বিইআরসি। বিইআরসির আইন অনুযায়ী শুনানির ৯০ দিনের মধ্যে আদেশ দেওয়ার নিয়ম। সেই হিসেবে ১৪ এপ্রিল শেষ হচ্ছে সময়। কমিশন তার আগে ১২ এপ্রিল দামের ঘোষণা দিতে চায়। তখন কমিশন এও জানায়, এই দাম সবসময় এক থাকবে না। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে প্রতিমাসেই সমন্বয়ের চিন্তা করা হচ্ছে।

কমিশনের এক সদস্য জানান, আমাদের আইন অনুযায়ী গণশুনানির পর ৯০ দিনের মধ্যে দামের আদেশ দেওয়ার নিয়ম। সে অনুযায়ী কাজ করছি। সব গুছিয়ে এনেছি। এখন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা। তিনি জানান, যেহেতু ১৪ তারিখ সরকারি ছুটি, পরদিন থেকে রমজান শুরু। তাই এর আগে ১২ এপ্রিলেই ঘোষণা দিতে চাই আমরা। এদিকে দাম কেমন হবে অথবা কবে থেকে কার্যকর হবে সে বিষয় তিনি বলেন, দাম সবার দিক বিবেচনা করে ঠিক করা হয়েছে। তবে কবে থেকে কার্যকর হবে তা নিয়ে এখনও আলোচনা করছি। কেউ বলছেন ১ তারিখ থেকেই, কেউ বলছেন ঘোষণার দিন থেকে হলেই ভালো।

বিইআরসি জানায়, সাধারণত সৌদি সিপি (কনট্রাক্ট প্রাইস) অনুযায়ী দেশে এলপিজির দাম নির্ধারিত হয়। এবারও তাই হবে। তবে তা নিয়ন্ত্রণ করবে বিইআরসি। এখন দেশে সৌদি আরবের এলপিজি বাজারদরের সঙ্গে এলসি মার্জিন, জাহাজ ভাড়া, কয়েক ধাপের পরিবহন ব্যয়, ডিলারের লভ্যাংশ, উদ্যোক্তার মুনাফা ধরে দাম ঠিক করা হয়। কমিশনের নতুন ফরমুলাতে সৌদি সিপি ও ভ্যাট ছাড়া প্রতিমাসের দাম নির্ধারণের বাকি সব নির্দিষ্ট রাখা হবে। এর আগে অবশ্য গণশুনানিতে সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানিগুলোর প্রতি কেজি এলপিজির দাম প্রায় ৭২ টাকা করে একটি অভিন্ন দাম নির্ধারণের সুপারিশ করেছিল কমিশনের গঠিত মূল্যায়ন কমিটি। এ হিসাবে সরকারি কোম্পানির সাড়ে ১২ কেজি এলপিজির দাম পড়তো ৯০২ টাকা, এবং বেসরকারি কোম্পানিগুলোর পড়তো ৮৬৬ টাকা। উল্লেখ্য, কমিশনের কাছে সরকারি কোম্পানি ৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করার প্রস্তাব করেছিল। তবে মূল্যায়ন কমিটি তাদের সিলিন্ডারের দাম আরও ২০০ টাকা বাড়িয়ে ৯০২ টাকা এবং বেসরকারি কোম্পানিগুলোর জন্য ১ হাজার ২৬৯ থেকে কমিয়ে ৮৬৬ টাকা করার সুপারিশ করে।

প্রশ্ন উঠেছে, দেশে সরকারি এলপিজির দাম কেন বাড়াতে হবে? কমিশন বলছে এক দেশে এলপিজির দুই ধরনের দাম থাকা উচিত নয়। এক্ষেত্রে সরকারি এবং বেসরকারি উভয় প্রকার এলপিজির দাম অভিন্ন ৭২ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করে কারিগরি কমিটি। এতে সরকারি এলপিজি বিক্রি করে যে মুনাফা হবে তা ওই কোম্পানিকে না দিয়ে পৃথক একটি তহবিলে রাখার সুপারিশ করেছে কমিশন গঠিত কারিগরি কমিটি।

সরকারি এলপিজির বোতলে সাড়ে ১২ কেজি থাকায় এর দাম ৯০২ টাকা। অন্যদিকে বেসরকারি এলপিজির বোতলে ১২ কেজি এলপিজি থাকায় দাম হচ্ছে ৮৬৬ টাকা। সরকারি এলপিজি দেশের মোট এলপিজি সরবরাহ এক শতাংশেরও নিচে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর এলপি গ্যাস লিমিটেড বছরে মাত্র ১৫ হাজার ৫০০ মেট্রিকটন উৎপাদন করে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি প্লান্ট বছরে ১০ হাজার মেট্রিক টন এবং কৈলাশটিলার প্লান্ট বছরে সাড়ে পাঁচ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন করে। দেশের যেসব জায়গায় গ্যাস সরবরাহ নেই সেখানকার সরকারি কর্মকর্তারাই গৃহস্থালীতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কম দরে এই এলপিজি ব্যবহারের সুযোগ পান। উদ্বৃত্ত থাকলে তা ডিলারদের মাধ্যমে দেশের সাধারণ ভোক্তাদের সরবরাহ করে কোম্পানিটি। অন্যদিকে বেসরকারি এলপিজি উৎপাদন ও সরবরাহকারীরা সবার জন্যই এলপিজি বাজারজাত করে।

https://dailysangram.com/post/449011