বিবৃতি

২৭ মার্চ ২০১৬, রবিবার, ৭:১৬

রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়ার চক্রান্তের প্রতিবাদে ২৮ শে মার্চ দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা শান্তিপূর্ণ হরতাল

সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দিয়ে দেশকে ধর্মহীন রাষ্ট্রে পরিণত করার গভীর চক্রান্তের প্রতিবাদে আগামীকাল ২৮ মার্চ সোমবার দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা শান্তিপূর্ণ হরতাল আহবান করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান আজ ২৭ মার্চ এক বিবৃতি প্রদান করেছেনঃ-

বিবৃতিতে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ শতকরা ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশ। বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। পৃথিবীর অনেক মুসলিম দেশেই রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম রয়েছে। জনগণের পক্ষ থেকে এমন কোন দাবি উঠেনি যে, সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিল করতে হবে। হাতে গোনা কতিপয় রাষ্ট্র ও ধর্ম বিদ্বেষী ব্যক্তিকে খুশি করার জন্য সরকার যদি সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে তাহলে এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ তা কখনো মেনে নিবে না। যে সব ব্যক্তি রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে যুক্তি দেখাচ্ছেন তা মোটেই গ্রহণ যোগ্য নয়। বরং ধর্মনিরপেক্ষতার দাবিদার অনেক দেশেই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় বহু মানুষের জানমাল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকার পরও এদেশে সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতি বজায় রয়েছে। বাংলাদেশে কখনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয় না। সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় অধিকারের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানগণ সর্বদা শ্রদ্ধাশীল। দেশের ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিগণ সংখ্যালঘুদের ওপর জুলুম নির্যাতন চালিয়েছে এর কোন প্রমাণ নেই।

রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের সাথে এ দেশের মানুষের আবেগ-অনুভূতি জড়িত। এ আবেগ-অনুভূতিকে গুরুত্ব না দিয়ে সরকার যদি রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেন তাহলে তা দেশের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না।

তাই সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দিয়ে দেশকে ধর্মহীন রাষ্ট্রে পরিণত করার গভীর চক্রান্তের প্রতিবাদে এ দেশের মানুষের আবেগ-অনুভূতির সাথে একাত্ম হয়ে আমি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আগামীকাল ২৮ মার্চ সোমবার দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা শান্তিপূর্ণ হরতাল আহ্বান করছি।

আমি আশা করছি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মী এবং দেশবাসী এ শান্তিপূর্ণ হরতালের কর্মসূচি সফল করবেন।”

বিঃদ্রঃ এ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ী, হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস ও সংবাদপত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট গাড়ি হরতালের আওতামুক্ত থাকবে।