আমরা কথা দিয়েছিলাম, কথা রেখেছি। কারণ আমরা এই দেশকে ভালোবাসি, এ দেশের মানুষকে ভালোবাসি। যাকে ভালোবাসি, তার ক্ষতি করি না। আমরা এই বাংলাদেশকে নিরাপদ, শান্তি ও উন্নতির বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলব- আপনাদের সহযোগিতা, ভালোবাসা, সমর্থন ও ভোট নিয়ে, যদি আপনারা আমাদের উপযুক্ত মনে করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আজ ২৭ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) রাতে বাগেরহাটে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমার আগে আমার ভাইয়েরা কথা বলেছেন। নতুন করে বক্তব্য দিতে এখানে আমি দাঁড়াইনি। আমি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এখানে বক্তব্য দিতে আসিনি। আমি এসেছি ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠার তাণ্ডব থেকে শুরু করে পিলখানায় সামরিক অফিসারদের হত্যাকাণ্ড, এরপর জামায়াতে ইসলামের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দকে যুদ্ধাপরাধের মিথ্যা অপবাদ দিয়ে হত্যার প্রতিবাদ জানাতে। এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে যাদের আমাদের হাজারো কর্মীকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং পুরো সাড়ে ১৫ বছরজুড়ে এ দেশের সকল রাজনৈতিক দল, আলেম-ওলামা, সাংবাদিক, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিশু থেকে বৃদ্ধ, মা থেকে বাবা- ঠান্ডা মাথায় যাদের খুন করা হয়েছে। আমরা তাদের ঘরে ঘরে যাওয়ার চেষ্টা করেছি।
তিনি আরও বলেন, সর্বশেষ ২৪-এর জুলাইয়ে আমাদের যে যুবসমাজ বুক চিতিয়ে আজাদির জন্য লড়াই করে জীবন দিয়ে গেছে, আহত ও পঙ্গু হয়েছে- আমরা তাদের ঘরে ঘরে, জনে জনে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। সেদিন যে মা-বাবা তাদের সন্তান হারিয়েছেন, যে যুবতী বোনটি তার স্বামী হারিয়েছে, শিশুরা তাদের বাবা হারিয়েছে- আমরা চাঁদের চোখের কোণায় চোখের পানি দেখিনি, রক্তের ফোঁটা দেখেছি। তাদের আপনজনদের খুন করা হয়েছিল; সেই খুনিদের বিচারের প্রয়াস শুরু হয়েছে। জানি না সব বিচার সম্ভব হবে কি না, তবে নিশ্চিত- যার যার পাওনা আখিরাতে পেয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, প্রিয় দেশবাসী, যখন কোনো শহীদ পরিবারের কাছে যেতাম, ছোট ছোট বাচ্চারা আমার হাত ধরে টেনে দেওয়ালের কাছে নিয়ে যেত এবং ছবি দেখিয়ে বলত, “আমার বাবা কি আর ফিরে আসবেন?” এই অবুঝ শিশুদের প্রশ্ন শুনে আমরা স্তব্ধ হয়ে যেতাম, ঠোঁটের ভাষা বন্ধ হয়ে যেত। তখন চোখের ভাষায় কথা বলতাম। আমাদের চোখের পানিও ওদের চোখের পানির সঙ্গে পড়ত। আমি তাদের হয়েই আজ এখানে দাঁড়িয়েছি।
আমি দাঁড়িয়েছি সেই মানুষদের হয়ে, যাদের আপনজনকে তুলে নিয়ে গুম করা হয়েছে, আয়না ঘরে রাখা হয়েছে। তাদের আপনজনেরা জানে না তারা কোথায়। যেখানেই যেতাম, এমন কিছু মানুষ ছুটে আসত- বলত, “ভাই, আমার সন্তানকে তুলে নিয়ে গেছে। তার কোনো সন্ধান জানেন? সে কি জীবিত? জীবিত থাকলে কোথায় আছে? আর যদি না থাকে, তবে তার কবরটা কোথায়- একটু দেখিয়ে দিতে পারবেন?” যদি জীবিত থাকে, আল্লাহ যেন আমার বুকের ধনকে আমার কাছে ফিরিয়ে দেন। আর যদি দুনিয়া থেকে চলে যায়, তবে তার কবরটা দেখে একটু শান্তি নিতে চাই। ওই কবরের মাটি ছুঁয়ে দিতে পারবেন? এই সমস্ত মানুষের কাছে আমাদের কোনো জবাব ছিল না।
তিনি আরও বলেন, অনেক আদম সন্তান, এ দেশের নিরীহ মানুষ, রাজনৈতিক দলের নেতা, হুজুরদের মিথ্যা মামলায় জেলে নেওয়া হয়েছে। মাঝে মাঝে কোর্টে দেখতাম- বড় দাড়িওয়ালা, পাগড়ি পরা, টুপি দেওয়া- দেখে মনে হতো বড় কোনো আলেম। সবাইকে তো চিনতাম না। এরকম একজন আলেম যেখানে আমাকে রাখা হয়েছিল, তার উল্টো পাশে। আমি দেখলাম, তাঁর পায়ে বেরি পরানো। কোর্টের ওসিকে সালাম পাঠালাম। তিনি এলেন। জিজ্ঞেস করলাম, “উনি কে?” তিনি একজনের নাম বললেন- আমি নাম বলতে চাই না। আমি ওসিকে বললাম, “উনি যদি সেই আলেম হন, তবে তিনি হাজারো আলেমের শিক্ষক। আপনি কি দয়া করে তাঁর বেরিটা খুলে একটু আমার পায়ে লাগিয়ে দেবেন?” ওসি বললেন, “কেন?” আমি বললাম, “সহ্য হয় না।”
এরকম জ্যেষ্ঠ আলেমদের, ওস্তাদদের, ওলামা-মাশায়েখদের এক জেল থেকে আরেক জেলে বেরি লাগিয়ে বছরের পর বছর রাখা হয়েছে। কী অপরাধ? একটাই- তারা অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন, আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল ﷺ–এর বিষয়ে যারা কুৎসা রটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। এই অপরাধে তাদের হেনস্তা করা হয়েছে। আমি তাদের হয়েই আজ এখানে দাঁড়িয়েছি।
২০১৩ সালের ৫ই মে থেকে শুরু করে যাদের হত্যা করা হয়েছে- তাদের হয়েও আমি এখানে দাঁড়িয়ে আছি। এখানে সাংবাদিক বন্ধুরাও আছেন- তাদেরকেও খুন করা হয়েছে, সীমান্তের ওপারে ফেলে দেওয়া হয়েছে। আমি সেই মজলুমদের পক্ষে এখানে দাঁড়িয়েছি।
আমি সেই ১৮ কোটি মজলুম মানুষের পক্ষে দাঁড়িয়েছি, যাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সিন্ডিকেট করে আকাশচুম্বী করা হয়েছিল, জীবন বিষিয়ে তোলা হয়েছিল। সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে যারা এসব করেছে- আমি তাদের বিরুদ্ধেই এখানে দাঁড়িয়েছি।
আমীরে জামায়াত বলেন, আপনারা কী চান সেই ফ্যাসিবাদের কালো হাত আবার ফিরে আসুক? একজন সাধারণ বিবেকবান মানুষও এটা চাইতে পারে না। আশ্চর্য! যে দলটির ১১ জন শীর্ষস্থানীয় নেতাকে খুন করা হলো, হাজারের বেশি সহকর্মীকে দুনিয়া থেকে উঠিয়ে দেওয়া হলো, ২৫০-এর অধিক সহকর্মীকে আয়না ঘরে বন্দি করা হলো, গুম করা হলো; যাদের নেতৃবৃন্দের বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো; যাদের নিবন্ধন কেড়ে নেওয়া হলো, প্রতীক কেড়ে নেওয়া হলো; দিশেহারা হয়ে শেষ পর্যন্ত সংগঠনটাকেই নিষিদ্ধ করা হলো- সেই মজলুম সংগঠন, যখন তরুণদের ত্যাগের বিনিময়ে মুক্তি পেল, আমরা আল্লাহর কাছে সিজদা করলাম। সেই রাতেই ঘোষণা করলাম- আমরা সব ভুলে গেলাম, কারো প্রতি কোনো প্রতিশোধ নেব না।
বাংলাদেশের মানুষ সাক্ষী- আমরা কারো ওপর প্রতিশোধ নেইনি। আমরা সহকর্মীদের বলেছি, এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নেই, তাই জনগণের জানমাল রক্ষার দায়িত্ব আমাদের নিতে হবে। আমরা পাহারাদার হয়ে ঘর থেকে বের হয়েছি। টানা ১৫ দিন রোদ-বৃষ্টিতে আমাদের সহকর্মীরা মানুষের জান, মাল ও ইজ্জতের পাহারা দিয়েছে। পরে সরকার গঠিত হলে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত হলে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা বলে আমরা সহকর্মীদের ফিরিয়ে এনেছি। বলেছি- প্রয়োজনে আবারও যাব।
আমরা সহকর্মীদের বলেছিলাম- ধৈর্য ধরুন। আপনারা সাক্ষী, আমাদের কোনো কর্মী চাঁদাবাজি গ্রহণ করেনি। অনেক দুঃখ-কষ্ট ও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, কিন্তু চাঁদাবাজি হারাম- তাই আমাদের কর্মীরা সে পথে হাত বাড়ায়নি। আমরা কোনো স্ট্যান্ড দখল করিনি, নিরীহ মানুষকে মামলা দিয়ে শত শত আসামি বানাইনি, মামলা-বাণিজ্য করিনি।
অনেকে বলেন, আমাদের সরকার চালানোর অভিজ্ঞতা নেই। কিন্তু যারা এসব বলেন, তারা যখন প্রথম সরকার গঠন করেছিলেন, তখন কিভাবে চালিয়েছিলেন? অথচ আমরা যখন ছয় সাল জোট সরকারের অংশ ছিলাম, তখন আমাদের নেতৃবৃন্দ দায়িত্ব পালন করেছেন। দুজন মন্ত্রী সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই মানুষগুলিই আজ আপনাদের সামনে এসেছে। অতীতে যেমন রেখেছিলাম, বর্তমানেও আপনারা যদি আমাদের ওপর আস্থা রাখেন, আমরা আপনাদের আস্থার ঋণ পরিশোধ করব, ইনশাআল্লাহ।
প্রিয় দেশবাসী, আপনারা যা চান আমরাও তাই চাই। আমাদের যুবসমাজ যা চায় আমরাও তাই চাই। আমাদের মা-বোনেরা যা চান, আমরাও তাই চাই।
যুবসমাজ কী চায়, তা জাতিকে জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে তারা রায় দিয়েছে। তারা কী ফ্যাসিবাদ ফেরাতে চায়? না- তারা ইনসাফের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। তারা আস্থা রেখেছে আমাদের সন্তানদের ওপর। আমাদের সন্তানেরা রাস্তায় প্রতিদান দিয়ে চলেছে। অনেকে বলেন, ডাকসু গত ৫০ বছরে যা করতে পারেনি, তারা চার মাসে তার চেয়ে বেশি করেছে। তারা আল্লাহকে ভয় করে, কথা দিয়ে কথা রাখে।
অনেকে আমাকে বলেন, আপনারা জিতলে কী করবেন? আমি বলি- ডাকসু যা করেছে, আমরা তার চেয়ে বেশি করব। আজ নারীরা বলছেন—, ামরা আমাদের ইজ্জতের পাহারাদার হিসেবে জামায়াতকে দেখতে চাই। একজন আধুনিক পোশাক পরা বোনকে সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করেছিলেন, আপনি কাকে ক্ষমতায় দেখতে চান? তিনি বলেছিলেন, জামায়াত। জিজ্ঞেস করা হলে কেন? তিনি বলেছিলেন, “জামায়াত আমার ভালো লাগে।” বলা হলো জামায়াত এলে তো আপনি এভাবে পোশাক পরতে পারবেন না। তিনি বলেছিলেন, “পরব না, তারা যা পরবেন আমিও তাই পরব।” কেন ভালো লাগে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, “নিরাপদ বোধ করি, তাই আমার পুরো জামায়াতকে ভালো লাগে।”
আজ মায়েরা আমাদের ওপর আস্থা রাখছেন। কারণ ৫৪ বছরে অন্যরা শুধু কথা দিয়েছে, কিন্তু মায়েদের ইজ্জতের যথার্থ সম্মান দেয়নি।
আমরা সবাই মায়ের পেট থেকে এসেছি। মায়ের ঋণ কখনো শোধ করা যায় না। জানপ্রাণ দিয়ে মায়ের সম্মান রক্ষা করতে হবে। ইনশাআল্লাহ, আমরা শাসনের সুযোগ পেলে মায়েদের সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত করব। তাদের চলাচল, কর্মসংস্থান সব ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করব।
আমরা অত্যন্ত ব্যথিত, দুঃখিত ও লজ্জিত- এই নির্বাচনে ফ্যাসিবাদের পদতলে পিষ্ট হওয়া সব দল অংশগ্রহণ করছে; কিন্তু দুই-একটি দল ইসলামের প্রতি মায়েদের এই ভালোবাসা সহ্য করতে পারছে না।
গণতন্ত্রের অর্থ- জনগণের রায়, চিন্তা ও মতের ওপর আস্থা রাখা। সবাইকে কথা বলার সুযোগ দিতে হবে।
আজ দেখলাম- একজন উন্মাদের মতো বলছে, জামায়াতের নারী কর্মীরা কোথাও এলে তাদের পোশাক খুলে নেওয়া হবে। আরেকজন চাপাইনবাবগঞ্জে বলছে- হাত দিয়ে হিজাব-মেকআপ ছিঁড়ে ফেলা হবে। পুলিশে দেওয়া হবে। এটাকেই কি গণতন্ত্র বলে? নির্বাচনের আগেই যদি এমন করেন, পরে কী করবেন? একদিকে ফ্যামিলি কার্ড, অন্যদিকে বিরোধী দলের নারীর গায়ে হাত-দুটো একসঙ্গে চলতে পারে না।
যদি সত্যিই সম্মান দেখাতে চান, আগে নিজের মাকে সম্মান দেখান, এরপর বাংলার প্রতিটি নারীকে মায়ের মর্যাদা দিন।
আমি স্পষ্ট করে বলছি, আমাদের নিজের জীবনের চেয়েও মায়ের ইজ্জতের দাম বেশি। কোনো মায়ের সঙ্গে অসভ্য আচরণ হলে, ২৪-এর মতো আবারও বিস্ফোরিত হতে হবে—বলতে হবে, জীবন দেব কিন্তু মায়ের মর্যাদা দেব না। যারা মায়েদের নিয়ে এমন করে, তারা কীভাবে আশা করে মায়েরা তাদের সমর্থন দেবে? আমরা দোয়া করি- আল্লাহ তাদের শুভবুদ্ধি দিন।
আজ ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় হামলা হচ্ছে- কেন এই মাঘ মাসে এত মাথা গরম? আদর্শ নিয়ে মাথা ঠান্ডা রেখে জনগণের কাছে যান, সুন্দর করে কথা বলুন, আমরা ওয়েলকাম করব। কিন্তু গায়ের জোরে ফ্যাসিবাদী কায়দায় নির্বাচন প্রভাবিত করতে চাইলে যুবসমাজ ঘুমিয়ে নেই।
যুবকদের বেকার ভাতার কথা বলছেন, যুবকরা কি সেটা চেয়েছে? আমরা যুবকদের বেকার ভাতা দিয়ে অপমান করতে চাই না। আমরা তাদের হাতকে দেশ গড়ার কারিগর করতে চাই, মর্যাদার কাজ দিতে চাই—যাতে তারা গর্ব করে বলতে পারে, “এ দেশ আমার।”
ইনশাআল্লাহ, দলীয় জোট সরকার গঠন করতে পারলে আমরা দুর্নীতি দূর করব। চাঁদাবাজি বন্ধ করব। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করব- প্রেসিডেন্ট থেকে সাধারণ কৃষক সবাই সমান বিচার পাবে। আল্লাহকে ভয় করি, কাউকে ভয় করি না।
আমাদের তৃতীয় অঙ্গীকার, মানুষের মুখে ও পেটে ভাত তুলে দেওয়া। রিজিকের মালিক আল্লাহ। জরুরি হলো সুশাসন। যারা দেশকে ভালোবাসে, তাদের হাতেই শাসনের দায়িত্ব দিতে হবে।
ব্যাংক ডাকাতি, শেয়ারবাজার লুট- এসবের বিচার হবে। সুযোগ পেলে জনগণের টাকা উদ্ধার করব, ইনশাআল্লাহ।
রাজনীতি স্বচ্ছ হলে দেশও স্বচ্ছ হবে। অপরাধী যেই হোক, ছাড় নেই।
আমাদের অনেক শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। সুযোগ পেলে তাদের শিক্ষার ব্যবস্থা করব। তাদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতের নেতৃত্ব আসবে।
পৈতৃক সূত্রে রাজনীতি নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব চাই।
সব দেশকে বন্ধু চাই, প্রভু নয়। প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক চাই, তবে সম্মানের ভিত্তিতে।
আমরা বিভক্তি নয়—ঐক্য চাই। হিন্দু–মুসলমান–বৌদ্ধ–খ্রিস্টান সবাই একসঙ্গে শান্তিতে থাকতে চাই।
ধর্ম নয়, নাগরিকত্ব, দেশপ্রেম ও যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন হবে।
বাগেরহাটসহ পিছিয়ে পড়া অঞ্চলগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ইনসাফ কায়েম হলে দুর্নীতি বন্ধ হবে।
১২ তারিখের ঐতিহাসিক ভোটে দায়িত্ব পালন করুন। “হ্যাঁ” মানে আজাদি, “না” মানে গোলামি। ইনসাফের পক্ষে ভোট দিন।
নিজের ভোটের পাহারা দিন, অন্যের ভোটেরও। জোর করে ভোট দেওয়ানো বন্ধ করুন।
