1 January 2017, Sun

কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশন, কর্তব্য ও ক্ষমতা

*অধিবেশন 
১। আমীরে জামায়াত যে কোন সময় কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশন আহ্বান করিতে পারিবেন।
২। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সাধারণ অধিবেশন বৎসরে অন্তত দুইটি হইবে।
৩। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার মোট সদস্য সংখ্যার এক তৃতীয়াংশের উপস্থিতিতে অধিবেশনের কোরাম হইবে।
৪। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার এক তৃতীয়াংশ সদস্যের স্বাক্ষরিত রিকুইজিশন নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে আমীরে জামায়াত মজলিসের অধিবেশন আহ্বান করিবেন।
৫। রিকুইজিশন নোটিশ প্রাপ্তির পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অধিবেশন আহ্বান করা না হইলে নোটিশদাতা সদস্যগণ ১৫ দিনের নোটিশ দিয়া অধিবেশন আহ্বান করিতে পারিবেন।
কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার কর্তব্য ও ক্ষমতা

১। কর্তব্য
সামষ্টিকভাবে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা এবং ব্যক্তিগতভাবে উহার প্রত্যেক সদস্যের কর্তব্য নিম্নরূপ হইবে ঃ
(ক) আল্লাহ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আনুগত্য ও হুকুম পালনকে সব কিছুর উপরে গুরুত্ব প্রদান করা।
(খ) আমীরে জামায়াত, মজলিসে শূরা এবং উহার প্রত্যেক সদস্য এই গঠনতন্ত্রে বর্ণিত আক্বীদা, উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য এবং ইসলামী নীতির অনুসারী আছেন কিনা তাহার পর্যবেক্ষণ করা।
(গ) মজলিসের অধিবেশনসমূহে নিয়মিত উপস্থিত হওয়া।
(ঘ) প্রত্যেক বিষয়ে নিজের ইলম, ঈমান ও বিবেক-বুদ্ধি অনুযায়ী স্বীয় প্রকৃত মত স্পষ্ট ভাষায় ব্যক্ত করা।
(ঙ) জামায়াতের ভিতরে আলাদা জামায়াত বা গ্র“প সৃষ্টির কাজ হইতে বিরত থাকা। মজলিসে শূরা কিংবা জামায়াতের মধ্যে যদি কোন ব্যক্তিকে এই ধরনের কাজে লিপ্ত দেখা যায়, তবে তাঁহাকে উৎসাহিত কিংবা তাঁহার সম্পর্কে উপেক্ষার নীতি অবলম্বন না করিয়া তাঁহার সংশোধনের জন্য চেষ্টা করা।
(চ) জামায়াত ও উহার কাজে যেখানে যতখানি দোষ-ত্র“টি অনুভূত হইবে তাহা দূর করিবার জন্য চেষ্টা করা।

২। ক্ষমতা
কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার ক্ষমতা নিম্নরূপ হইবে ঃ
(ক) জামায়াতের গঠনতন্ত্রের ব্যাখ্যাদান ও উহার সংশোধন।
(খ) কেন্দ্রীয় বাইতুলমালের হিসাব পরীক্ষার জন্য অডিটর নিয়োগ এবং তাঁহার পেশকৃত রিপোর্ট বিবেচনা।
(গ) কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন গঠন।
(ঘ) সকল পর্যায়ের নির্বাচন পদ্ধতি নির্ধারণ।
(ঙ) জামায়াতের কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা ও বাজেট অনুমোদন।
(চ) আমীরে জামায়াত ও তাঁহার অধীন কেন্দ্রীয় বিভাগসমূহের সেক্রেটারীদের জিজ্ঞাসাবাদ ও কাজ-কর্মের পর্যালোচনা।
(ছ) গণতন্ত্র ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে যখন যে পদক্ষেপ প্রয়োজন তাহা গ্রহণ।
(জ) প্রয়োজন হইলে বিশেষ অবস্থায় সদস্য (রুকন) সম্মেলনে যোগদানের জন্য সদস্যগণের (রুকনগণের) প্রতিনিধি সংখ্যা নির্ধারণ।
(ঝ) কেন্দ্রীয় সদস্য (রুকন) সম্মেলন ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশনসমূহের কাজ-কর্মের নিয়ম প্রণালী প্রণয়ন।
(ঞ) জামায়াতের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হাসিলের জন্য উহার গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণ।
(ট) মোট সদস্যের দুই তৃতীয়াংশের মতের ভিত্তিতে আমীরে জামায়াতকে অব্যাহতি প্রদান।
(ঠ) স্বীয় ক্ষমতাবলী কিংবা উহার কিয়দংশ স্বীয় ইচ্ছানুরূপ শর্ত সাপেক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ কিংবা সদস্যগণের সমন্বয়ে গঠিত কোন কমিটি বা বোর্ড, আমীর বা সেক্রেটারী জেনারেল বা অপর কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের উপর অর্পণ।
(ড) কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা নির্বাচনে প্রতিনিধিত্বের আনুপাতিক হার নির্ধারণ।

  • কোন সময় কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশনের জন্য নির্দিষ্ট কোরাম সংখ্যক মজলিস সদস্যও যদি কর্তব্য পালনের জন্য অধিবেশনে উপস্থিত হইতে না পারেন, তাহা হইলে সমগ্র দেশের উপজেলা/থানা আমীরগণের সমন্বয়ে গঠিত একটি মজলিস কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার স্থলাভিষিক্ত হইবে এবং উহা নিজেই কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা গঠন করিবার ব্যবস্থা করিবে অথবা গঠনতন্ত্রের মূল ভাবধারাকে বহাল রাখিয়া আমীরে জামায়াতের সহযোগিতা ও পরামর্শের জন্য কোন উপযুক্ত ও বাস্তব উপায় উদ্ভাবন করিবে।
  • কোন বিষয়ে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সহিত আমীরে জামায়াতের মতানৈক্য হইলে উক্ত বিষয়ে জামায়াতের সদস্য (রুকন) সম্মেলনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।