বিবৃতি

৯ অক্টোবর ২০১৬, রবিবার, ৫:৪৮

রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে জামায়াতকে জড়িয়ে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর বক্তব্য ভিত্তিহীন মিথ্যা

বিদ্যুৎ ও জ্বালানী প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু গত ৮ অক্টোবর শনিবার রাজধানী ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত আলোচনা সভায় “যারা রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরোধিতা করছে তাদের বেশির ভাগই জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে জড়িত” মর্মে যে ভিত্তিহীন মিথ্যা বক্তব্য প্রদান করেছেন তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার আজ ০৯ অক্টোবর প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলেন, “বিদ্যুৎ ও জ্বালানী প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য ভিত্তিহীন মিথ্যা ও জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের অন্ধ বিরোধিতার শামিল।

সুন্দরবনের নিকটে রামপালে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের বিরোধিতা শুধু জামায়াত ও ছাত্রশিবির একাই করছে না। দেশের সকল পরিবেশবাদী বিজ্ঞানী, দেশের বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, এনজিও এবং পেশাজীবী সংগঠনসহ সকল জনকল্যাণকামী দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল এ প্রকল্পের বিরোধিতা করছে। ইউনেস্কোসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল রামপালে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য এবং জীব-জন্তু রক্ষার জন্য দেশের স্বার্থ বিরোধী ঐ প্রকল্প বন্ধ করার সুপারিশ করেছে। ঐ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সুন্দরবন ধ্বংস হবে এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটে বাংলাদেশের মহাসর্বনাশ হবে বলে পরিবেশবাদী বিজ্ঞানীগণ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে লীলাভূমি সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিয়ে দেশী-বিদেশী সকলেই উদ্বিগ্ন।

দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে শুধুমাত্র জেদের বশবর্তী হয়ে কার স্বার্থে সরকার এ হঠকারিতার পরিচয় দিচ্ছে, আজ তা গোটা দেশবাসীর কাছে বিরাট প্রশ্ন ও বিস্ময়।

রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের বিরোধিতা করার জন্য বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরকে দায়ী করে যে একপেশে, অনৈতিক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অন্ধ বক্তব্য দিয়েছেন তা দেখে মনে হয় জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের বিরোধিতা করা যেন তাদের এক দুরারোগ্য মানসিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে।

দেশের ১৬ কোটি মানুষ জামায়াতে ইসলামীকে একটি স্বচ্ছ, দেশপ্রেমিক ও উন্নয়নকামী দল হিসেবেই চেনে এবং জানে। জামায়াতে ইসলামীর বিরোধিতাকারীরা সত্য আড়াল করে ইনিয়ে বিনিয়ে যাই বলুক না কেন, দেশের আপামর জনগণ তা বিশ্বাস করে না।”