বিবৃতি

১২ এপ্রিল ২০১৭, বুধবার, ১১:৫১

জাতির ঘাড়ে ভিন্ন ধর্মের সংস্কৃতি চাপিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্রের কঠোর নিন্দা

মঙ্গল শোভা যাত্রা বিজাতীয় সংস্কৃতির অংশ এবং ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১২ এপ্রিল “মঙ্গল শোভা যাত্রা বাঙালী সংস্কৃতির অংশ, ধর্মীয় সংশ্লিষ্টতা নেই।” মর্মে অসত্য মন্তব্য করে জাতির ঘাড়ে ভিন্ন ধর্মের সংস্কৃতি চাপিয়ে দেয়ার যে ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন তার কঠোর নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান আজ ১২ এপ্রিল প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলেন, “মঙ্গল শোভা যাত্রার ব্যাপারে বাংলাদেশের ওলামায়ে কেরাম একমত যে, মঙ্গল শোভা যাত্রা বিজাতীয় সংস্কৃতির অংশ এবং ইসলামের দৃষ্টিতে এটি সম্পূর্ণ হারাম। গতকাল ১১ এপ্রিল বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতকালেও মঙ্গল শোভা যাত্রা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। তারপরেও প্রধানমন্ত্রী কিসের ভিত্তিতে মন্তব্য করলেন যে, ‘মঙ্গল শোভা যাত্রা বাঙালী সংস্কৃতির অংশ, এর সাথে ধর্মীয় সংশ্লিষ্টতা নেই।’

প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, বাংলাদেশের সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম এবং রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ বিদ্যমান আছে। এ অবস্থায় ক্ষমতার জোরে দেশের সংবিধান লংঘন করে দেশের জনগণের উপর ভিন্ন ধর্মের অপসংস্কৃতি চাপিয়ে দেয়া উচিত হবেনা। ভিন্ন ধর্মের রীতিনীতি তিনি দেশের শতকরা ৯০ জন মুসলমানের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা চালালে তার পরিণতি শুভ হবে না।

বাংলাদেশে সর্ব প্রথম ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে ১লা বৈশাখ মঙ্গল শোভা যাত্রার প্রবর্তন করা হয়। মঙ্গল শোভা যাত্রায় বড় বড় পুতুল, হুতোম পেঁচা, হাতি, কুমির ও ঘোড়াসহ নানা জীব-জানোয়ারের মুখোশ পড়ে প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ এক সাথে অশালীন পোশাক পরে অশ্লীল ভঙ্গিতে ঢোল বাদ্যের তালে তালে নৃত্য করে সড়ক প্রদক্ষিণ করার রীতি চালু করা হয়েছে, যা ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম।

হিন্দু সমাজে শ্রী কৃষ্ণের জন্ম দিনে মঙ্গল শোভা যাত্রার আয়োজন করা হয়। তারা তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী মঙ্গলের প্রতীক হিসেবে পেঁচা, রামের বাহন হিসেবে হনুমান, দুর্গার বাহন হিসেবে সিংহের মুখোশ পরে ও দেবতার প্রতীক হিসেবে সূর্য এবং অন্যান্য জীব-জন্তুও মুখোশ পরে মঙ্গল শোভা যাত্রা করে থাকে।

শতকরা ৯০ ভাগ মুসলমানের ঈমান-আকিদা ও দেশের ওলামায়ে কেরামের মতামত এবং ইসলামী আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে প্রধানমন্ত্রীর ভ্রান্ত ও পথভ্রষ্ট বক্তব্য প্রত্যাহার এবং মঙ্গল শোভা যাত্রা বন্ধের জন্য জরুরী ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”