বিবৃতি

১৯ নভেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার, ৭:০১

“নতুন আমীর নিয়ে জামায়াতে নানা প্রশ্ন” শীর্ষক প্রথম আলো পত্রিকার অসত্য প্রতিবেদনের তীব্র নিন্দা

আজ ১৯ নভেম্বর দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে রিপোর্টার সেলিম জাহিদের “নতুন আমীর নিয়ে জামায়াতে নানা প্রশ্ন” শীর্ষক প্রতিবেদনের তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাওলানা এটিএম মা’ছুম আজ ১৯ নভেম্বর প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলেন, “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং জামায়াতকে জনগণের সামনে হেয় প্রতিপন্ন করার হীন উদ্দেশ্যেই এ অসত্য রিপোর্টটি প্রকাশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি ঐতিহ্যবাহী গণতান্ত্রিক ইসলামী দল। জামায়াতে ইসলামী পরিচালিত হয় সংগঠনের গঠনতন্ত্রের মাধ্যমে। গঠনতন্ত্রে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচন প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থাকে অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এখানে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার কোনো সুযোগ নেই। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভোট চাওয়া কিংবা প্রার্থী হিসেবে কাউকে উপস্থাপনেরও কোনো সুযোগ নেই। বর্তমান আমীর জনাব মকবুল আহমাদ ‘এখনও আমীর আছেন’। বার্ধক্যজনিত কারণে সংগঠনের দায়িত্ব থেকে বিদায় নেওয়ার জন্য তিনি সংগঠনের নিকট আবেদন পেশ করেন ও গঠনতন্ত্র মোতাবেক কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা কর্তৃক প্যানেল নির্ধারণের সময় তাকে ভোট না দেয়ার আহবান জানান। কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে তার এই অনুরোধ গ্রহণ করেন এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্যদের নিকট তার আবেদন পৌঁছানো হয়। জনাব মকবুল আহমাদকে কৌশলে বাদ দেয়া হয়েছে এ কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা কর্তৃক নির্বাচিত ৩ জনের প্যানেলে ডা. শফিকুর রহমান ৬ ভোট বেশি পেয়ে এক নম্বরে থাকেন মর্মে প্রথম আলোর রিপোর্টে দেয়া এ তথ্য সঠিক নয়। পুরুষ এবং মহিলা রুকনদের ভোট এক ধরনের ব্যালটে গ্রহণ করা হয়েছে এবং পুরুষ ও মহিলা ভোট আলাদা করে গণনা করা হয়নি। তাই কে নারী ভোট বেশী পেল তা নির্বাচন কমিশনসহ অন্য কারোর জানার কোনোই সুযোগ নেই। এ সব তথ্যাদি প্রথম আলোর সংশ্লিষ্ট রিপোর্টারের সম্পূর্ণ মনগড়া এবং মিথ্যা। এখানে স্বাধীনভাবে পূর্ণ আমানতদারির সাথে রুকনগণ আমীরে জামায়াত নির্বাচনে ভোট প্রদান করেছেন।

এত দ্রুততার সাথে কেন ফলাফল ঘোষণা করা হলো মর্মে যা বলা হয়েছে তা অযৌক্তিক। আমীরে জামায়াতের নির্বাচনের তফসিল ছিল ‘১৭ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে।’ ভোট গ্রহণ শেষে প্রিজাইটিং অফিসার এবং তার সাহায্যকারী আরও ২/৩ জনকে স্থানীয়ভাবে ভোট গণনা করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। তারা ভোট গণনার রিপোর্ট লিখিতভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নিকট পাঠিয়েছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ ৫ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত ফলাফল তৈরি করেন এবং ১২ নভেম্বর সেই ফলাফল ঘোষণা করেন। সূতরাং নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করতে কোনো তাড়াহুড়া করা হয়নি। এখানে তাড়াহুড়ার প্রশ্নই আসে না। আমীরে জামায়াত নির্বাচনের সকল প্রক্রিয়া নিয়মতান্ত্রিকভাবে গঠনতন্ত্র মোতাবেক যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

অতীতের ঐতিহ্য অনুযায়ী স্বচ্ছতা এবং পূর্ণ আমানতদারির সাথেই আমীরে জামায়াত নির্বাচনের ভোট গ্রহণ এবং ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। কিছু দিনের মধ্যেই নতুন আমীরে জামায়াত শপথ গ্রহণ করবেন এবং দায়িত্ব ভার বুঝে নেবেন। তাই অযথা বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এ ধরনের রিপোর্ট প্রকাশ করা কারো কাম্য নয়। আমরা আশা করি দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা কর্তৃপক্ষ আমাদের প্রতিবাদটি যথাস্থানে ছেপে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করবেন।”