২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, মঙ্গলবার, ১২:০৫

গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ পালিত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহা. রেজাউল করিম বলেছেন, জনমত ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ উপেক্ষা করে সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি প্রমাণ করে সরকার জনগণের কল্যাণের চেয়ে নিজেদের আখের গোছাতেই ব্যস্ত। মূলত এই গণবিরোধী সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোন অধিকার নেই। তাই গণবিচ্ছিন্ন সরকারের ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি গ্যাসের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় সরকারকে গণরোষের মুখোমুখি হতে হবে।

তিনি আজ রাজধানীতে দফায় দফায় গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে কেন্দ্র ঘোষিত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচীর অংশ হিসাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত এক বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে একথা বলেন। বিক্ষোভ মিছিলটি ১০ নং গোলচত্তর থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ ১১নং এ গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারি সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের মজলিশে শুরা সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক আনোয়ারুর করিম, আবুল হাসান, আশরাফুল আলম, এ্যাডভোকেট ইব্রাহিম খলিল, আলাউদ্দীন মোল্লা, নাসির উদ্দীন ও আব্দুস সাকী এবং ছাত্রনেতা আব্দুল আলীম প্রমূখ।

ড. রেজাউল করিম বলেন, সরকার দেশ পরিচালনায় সার্বিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। সরকারের ব্যর্থতার কারণেই গণদুর্ভোগ এখন চরমে ওঠেছে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি না পেলেও দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি এখন লাগামহীন। উপর্যুপরি জনগণের উপর একের পর এক করের বোঝা চাপিয়ে অনির্বাচিত সরকার নিজেদের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাস ও কামনা-বাসনা চরিতার্থ করতে তৎপর। মূলত আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই গণদুর্ভোগ বৃদ্ধি পায় এবং দেশে দুর্ভিক্ষের মত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। মূলত অনির্বাচিত ও গণবিরোধী সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে ততদিন গণদুর্ভোগ বাড়বে বৈ কমবে না। তাই দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এই ফ্যাসীবাদী ও স্বৈরাচারি সরকারকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের গ্যাস খাত কোন লোকসানী বা অলাভজনক খাত নয়। বিগত অর্থবছরে পেট্রোবাংলা প্রভূত মুনাফা করলেও সরকার কোন কারণ ছাড়াই গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। এ বিষয়ে জনমত ও বিশেষজ্ঞ কমিটির মতামতও উপেক্ষিত হয়েছে। একদিকে সরকার রাষ্ট্রের লোকসানী খাতগুলোকে অযৌক্তিকভাবে ভর্তূকি দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের লুটপাটের সুযোগ করে দিচ্ছে, অপরদিকে সম্পূর্ণ অনাকাঙ্খিতভাবে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি করে জনজীবনকে দুর্বিসহ করে তোলা হচ্ছে। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন খরচ বাড়বে। ফলে নিম্মমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তের মানুষের মধ্যে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পরবে। তিনি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে গণদুর্ভোগ থেকে রক্ষা করতে অবিলম্বে গ্যাসের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।

গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ ও সরকারি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবীতে নগরীতে মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত।

গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সকালে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ। মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারী ড. এ্যাড. হেলাল উদ্দিন এর নেতৃত্বে মিছিলটি মৌচাক থেকে শুরু হয়ে মগবাজারে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এ্যাডভোকেট ড. মু. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘গ্যাসের দাম দফায় দফায় বৃদ্ধির ঘোষণা সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনযাত্রার মানকে আরো বিপর্যস্ত করে তুলবে। যা অগণতান্ত্রিক, অযৌক্তিক এবং গণবিরোধী। সরকারের ভুল নীতির ফলে জ্বালানি খাতে যে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে, তার দায় জনগণের উপর চাপানোর অপচেষ্টা হিসেবে গ্যাসের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। জনগণ এই গণবিরোধী সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

তিনি আরো বলেন, এই মূহুর্তে গ্যাসের দামবৃদ্ধির যৌক্তিক কোন কারণ নেই। কারণ যৌক্তিকভাবে বিচার করলে দেখা যাবে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। তেলের সাথে গ্যাসের সম্পর্ক নিবীড় হওয়ায় বরং গ্যাসের দাম কমানোই সময়ের দাবী। সেখানে সরকার দাম বৃদ্ধির যে অবান্তর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা এ দেশের মানুষ কখনোই মেনে নেবে না।’ তিনি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির এ অন্যায় ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান।

বিক্ষোভ মিছিলে অন্যন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য শামছুর রহমান ও কামাল হোসাইন, মহানগরী শূরা সদস্য সগির বিন সাঈদ, আমিনুল ইসলাম, মতিউর রহমান, ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরী পূর্ব সভাপতি ছাত্রনেতা সোহেল রানা মিঠু, মুগদা থানা জামায়াতের সেক্রেটারী বনি আমিন, সবুজবাগ থানা সেক্রেটারী আবদুল বারী ও পল্টন থানা সেক্রেটারি নূর মোহাম্মদ মন্ডল প্রমূখ নেতৃবৃন্দ।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগরীর নেতৃবৃন্দ বলেন,বর্তমান সরকারের দফায় দফায় গ্যাসের দাম বৃদ্ধিই প্রমাণ করে এই সরকার জনস্বার্থ ও দেশবিরোধী। দীর্ঘদিন ধরে সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষ খুব দুর্ভোগের মধ্যে আছে। এ পর্যায়ে গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সরকারের একটি হঠকারী ও জনবিরোধী পদক্ষেপ । এক বছরে দুই বার গ্যাসের দাম বাড়ানোর ফলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং দ্রব্যমূল্য আরেক দফা বৃদ্ধি পাবে। গ্যাসের দাম উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবী জানান।

মঙ্গল বার (২৮-০২-২০১৭) গ্যাসের দাম দফায় দফায় বৃদ্ধির সরকারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে তা প্রত্যাহারে দাবীতে দেশব্যাপী কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরী শাখার উদ্যোগে সকাল ৮ টায় মহানগরীর কোট বাজার এলাকায় এক বিক্ষোভ মিছিল উত্তর সমাবেশে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। ।

জামায়াত নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, বর্তমান জোর করে আসা সরকার গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে গুপ্তহত্যা, হামলা ও মামলার মাধ্যমে বিরোধীদেরকে নিশ্চিন্ন করতে চাচ্ছে। তাই বিরোধীদের গণতান্ত্রিক কর্মকান্ড পালনে পুলিশ বাহিনী দিয়ে বাধা দিচ্ছে এবং দমন-নিপীড়ন চালাচ্ছে। সরকার জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতাদের আটক করে ও সারা দেশব্যাপী গ্রেফতার অভিযানের মাধ্যমে জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করে রাখতে চাচ্ছে। তাই যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অপবাদ দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের একের পর এক ফাঁসির রায় কার্যকর করছে। সরকারের এসব অগণতান্ত্রিক কর্মকান্ডের জন্য এক দিন জবাবদীহী করতে হবে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সরকারী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার ও জামায়াত নেতৃবৃন্দের মুক্তির জোর দাবী করেন।

সরকার দফায় দফায় অন্যায় ও অযৌক্তিক ভাবে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে দরিদ্র ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে। দেশের সচেতন মানুষ মনে করেন গ্যাসের দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা নেই। এটা সরকার মানুষের সাথে প্রতারণা করে অর্থনৈতিক দু:খ দুর্দশা তৈরীর জন্য এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সরকার জনগনের ভোটে নির্বাচিত না হওয়ায় জনগণের স্বার্থ রক্ষা করছে না। নেতৃবৃন্দ গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবী জানান।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্র ঘোষিত বিক্ষোভ দিবসে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে থানায় থানায় আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে নেতৃবৃন্দ উপরোক্ত কথা বলেন।

জামায়াতে ইসলামী হালিশহর,ডবলমুরিং,সদরঘাট,চকবাজার,চান্দগাঁও ও বায়েজিদ থানার উদ্যোগে পৃথক পৃথক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ জামায়াত নেতা এ.খালেদুল আনোয়ার,আবু জাওয়াদ,এম.এ.গফুর,আবু গালিব, বেলায়েত হোসেন ও এম.জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জামায়াত নেতা ফজলে এলাহি শাহীন, আখতার, জসিম,আবু তাহের, মুহাম্মদ ইবনে হোসাইন, এস.এম.মাহমুদ ও এম.এ. হান্নান প্রমুখ। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, দ্রব্যমূল্য আকাশ চুম্বি ও বাসা ভাড়া বৃদ্ধিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষের দাম মানুষের ক্রম ক্ষমতার বাইরে। এরপরও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি সাধারণ জনগণের জীবন যাত্রার মানকে আরো কঠিন করে তুলেছে। দুর্নীতি,নিজেদের অপকর্ম,লুটপাট হওয়া অর্থ জনগণের কাছ থেকে বাধ্যতামূলক ভাবে আদায় করে নিজের অপকর্ম আড়াল করতে চায় সরকার। জামায়াত নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণা প্রত্যাহার করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবী জানান।