১৫ মে ২০১৭, সোমবার, ৫:৫২

আল্লামা সাঈদীকে নিয়ে সরকারের রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ ও অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দেশব্যাপি বিক্ষোভ

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়া আল্লামা সাঈদী’র নিঃশর্ত মুক্তি দাবী করে বলেন, টালবাহানা না করে অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিন। তাঁর মুক্তি যত বিলম্বিত হবে গণ-আন্দোলন তত প্রলম্বিত ও জোরদার হবে। আর সে গণ-আন্দোলনের মাধ্যমেই সরকারের পতন নিশ্চিত করে আল্লামা সাঈদীসহ সকল নেতৃবৃন্দকে মুক্ত করা হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।

আজ সোমবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম শীর্ষ নেতা আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর রিভিউ আবেদন খারিজের পর রাজধানীর মৌচাকে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত তাৎক্ষনিক বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

বিক্ষোভ মিছিলে আরো উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য শামসুর রহমান, কামাল হোসাইন, ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরী পূর্ব সভাপিত সোহেল রানা মিঠু, মহানগরী শুরা সদস্য আবদুল বারী আকন্দ, মহিবুল হক ফরিদ, মতিউর রহমান, আমিনুর রহমান, মাহবুবুর রহমান, জামায়াত নেতা মোতাসিম বিল্লাহ, নূর মোহাম্মদ মন্ডল, ছাত্রনেতা মাহদি হাসান সানি, যোবাইর,হাফিজ উদ্দিন,রিদোয়ান, মারুফ ও আহসান হাবিব প্রমূখ নেতৃবৃন্দ।

মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, সরকার মিথ্যা মামলা দিয়ে সম্মানিত জাতীয় নেতৃবৃন্দকে কারাগারে বন্দি রেখে একের পর এক সাঁজানো নাটক মঞ্চস্থ করছে। কিন্তু তৌহিদি জনতা তাদের এ-অন্যায় বেশিদিন আর সহ্য করবেনা। বার বার এমন অন্যায়ে দেশের শীর্ষ আলেম-ওলামাসহ বিভিন্ন পেশাজীবীরা এই ঘৃণ্য উদ্দেশ্যমূলক বিচার কাজের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ও তাঁর মুক্তির জোর দাবী করেছেন। সারাদেশে এহেন অন্যায়ের বিরূদ্ধে জনগণের প্রতিবাদে রাজপথ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। কিন্তু সরকার জনগণের আন্দোলনকে নস্যাৎ করার জন্য জনগণের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লাঠিয়ালবাহিনী হিসেবে ব্যবহার করছে। প্রকৃতপক্ষে সরকার পুলিশ বাহিনীকে জনতার বিরূদ্ধে অপব্যবহার করে জনরোষ থেকে রক্ষা পাবেনা। তাই সময় থাকতে সরকারের উচিৎ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরিহার করে নিরাপরাধ নেতৃবৃন্দকে মুক্তি দিয়ে জনরোষ থেকে নিজেদের মুক্তির পথ নিশ্চিত করা। নচেৎ এই সরকারকে গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে বিদায় করতে জনগণ বাধ্য হবে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর উত্তরের সহকারি সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান বলেছেন, সরকার দেশ থেকে ইসলাম ও ইসলামী মূল্যবোধ ধ্বংস করতেই সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে প্রখ্যাত মুফাসসিরে কুরআন, বিশ্ববরেণ্য আলেমে দ্বীন ও সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদন্ডে দন্ডিত করেছে। কিন্তু দেশের ইসলামপ্রিয় তৌহিদী সরকারের ষড়যন্ত্র কখনোই মেনে বেবে না বরং সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তিনি দন্ডাদেশ বাতিল করে অবিলম্বে আল্লামা সাঈদীকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় সরকারকে গণরোষের মুখোমুখি হতে হবে। 

তিনি আজ রাজধানীতে প্রখ্যাত মুফাসসিরে কুরআন ও সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আমৃত্যু দন্ডাদেশ বহালের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত এক বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে একথা বলেন। বিক্ষোভ মিছিলটি মিরপুর ১০নং চত্তর থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কাজীপাড়ায় গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের শুরা সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান, ডা. শফিউর রহমান, নাসির উদ্দীন ও আলাউদ্দীন মোল্লা, ছাত্রনেতা ডা. মুজাহিদুল ইসলাম, আব্দুল আলীম ও জোবায়ের প্রমূখ।

মাহফুজুর রহমান বলেন, সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিক ও আদর্শিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে বিরাজনীতিকরণের পথ বেছে নিয়েছে। তারা অবৈধ ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করার জন্য একের পর এক জাতীয় নেতৃবৃন্দকে হত্যা করে দেশকে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছে। আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে বিশাবালীকে হত্যার ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও ফরমায়েসী অভিযোগে তাকে শাস্তি দেয়ার হীন উদ্দেশ্যেই নিহত বিশাবালীর ভাই সুখরঞ্জন বালীকে সরকার গুম করেছে। ফলে আল্লামা সাঈদী ন্যায়-বিচার প্রাপ্তী থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। থলির বিড়াল বেড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় এ মামলায় বিশাবালী পরিবারের কোন সদস্যের সাক্ষী গ্রহণ করা হয়নি। মূলত সরকার সাজানো মামলা, ফরমায়েসী সাক্ষী ও দলীয় প্রসিকিউশনের মাধ্যমে একজন বরেণ্য আলেমকে শাস্তি দিয়ে জুলুম-নির্যাতন চালাচ্ছে। কিন্তু দেশপ্রেমী ও ইসলামপ্রিয় জনতা সরকারের জুলুম-নির্যাতন আর দীর্ঘ হতে দেবে না বরং সরকারের সকল দেশ ও জাতিস্বত্ত্বাবিরোধী ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দেবে। তিনি সরকারের ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।