সর্বশেষ সংবাদ

২৭ ডিসেম্বর ২০১৬, মঙ্গলবার, ২:৪৬

জামায়াত নেতা মো: হাফিজুল হককে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করার ঘটনার প্রতিবাদগ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির যে সিদ্ধান্ত সরকার গ্রহণ করেছেন তা সম্পূর্ণ অন্যায়, অযৌক্তিক ও গণবিরোধী

আগামী ১লা জানুয়ারী থেকে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করে প্রায় দ্বিগুণ করার সরকারী সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল ডাঃ শফিকুর রহমান আজ ২৭ ডিসেম্বর প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলেন, “আগামী ১লা জানুয়ারী থেকে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির যে সিদ্ধান্ত সরকার গ্রহণ করেছেন তা সম্পূর্ণ অন্যায়, অযৌক্তিক ও গণবিরোধী।

বর্তমান সরকার জনগণের নির্বাচিত নয় বলেই গত ৯ মাসের মধ্যে গ্যাসের মূল্য দ্বিতীয়বার বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমান সরকার জনগণের নির্বাচিত হলে এ ধরণের গণবিরোধী অন্যায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারত না। নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে যে, আবাসিক দুই চুলার গ্যাসের দাম বাড়িয়ে ৬৫০ টাকা থেকে এক হাজার এবং সিএনজি গ্যাসের মূল্য প্রতি ঘনমিটারে ৩৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। যা বর্তমান মূল্যের প্রায় দ্বিগুণ। একইভাবে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের ক্ষেত্রেও গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে। বাংলাদেশ এনার্জী রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) প্রস্তাব অনুযায়ী গ্যাসের মূল্য গৃহস্থালীতে ১৪০ শতাংশ, ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ১৩০ শতাংশ, বিদ্যুতে ৬৩ শতাংশ, সারে ৭২ শতাংশ, শিল্পে ৬২ শতাংশ, বাণিজ্যিকে ৭২ শতাংশ ও সিএনজিতে ৮৩ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি পাবে।

গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির ফলে দেশের অর্থনীতির উপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। এতে দ্রব্যমূল্য বাড়বে, শিল্প ও কৃষি উৎপাদন খরচ, যাতায়াত ভাড়া ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসহ সকল পণ্যের মূল্য বাড়বে ও মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পাবে। ফলে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা হ্রাস পাবে। বর্তমানে মানুষ দ্রব্যমূল্যের চাপে নিদারুণ কষ্টে জীবন-যাপন করছে। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি করে প্রকারান্তরে জনদুর্ভোগই বাড়ানো হয়েছে। গণদাবী এবং বাস্তব অবস্থার দাবি হচ্ছে গ্যাসের মুল্যবৃদ্ধি না করে দ্রব্যমূল্য যাতে জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

কাজেই দেশের জনগণের স্বার্থের কথা চিন্তা করে অবিলম্বে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির এ অন্যায়, অযৌক্তিক ও গণবিরোধী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার জন্য আমি সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”