সর্বশেষ সংবাদ

১ জানুয়ারি ২০১৭, রবিবার, ২:২২

জামায়াতের নেতা-কর্মীকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতারের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ

এমপি লিটনের খুনিদেরকে আড়াল করতেই পরিকল্পিতভাবে জামায়াত শিবিরের ওপর দোষ চাপানো হচ্ছে

দুর্বৃত্তদের গুলিতে গাইবান্ধা-১ আসনের আওয়ামী লীগের এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন খুন হওয়ার পর খুনিদেরকে আড়াল করার হীন উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের ওপর দোষ চাপিয়ে গণহারে গাইবান্ধা, নীলফামারী, রংপুর ও লালমনিরহাট জেলায় জামায়াতের প্রায় অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান আজ ০১ জানুয়ারী ২০১৭ প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলেন, “একজন এমপির বাড়িতে দুর্বৃত্তরা ঢুকে তাকে গুলি করে হত্যা করার ঘটনাই প্রমাণ করে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কী সাংঘাতিক অবনতি ঘটেছে! অথচ সরকার ও দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অহরহ বলে বেড়াচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। আমি এ হত্যাকান্ডের নিন্দা জ্ঞাপন করছি এবং প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদানের দাবি করছি।

দেশে কোন ঘটনা ঘটলেই তার তদন্ত ছাড়াই জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের ওপর দোষ চাপিয়ে নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করে রিমান্ডে এনে অত্যাচার চালানো হয়। সরকার জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের ওপর আর কত অত্যাচার চালাবে? আমরা বারবার বলেছি জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির সন্ত্রাসের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তাই কোন হত্যাকান্ডের সাথে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সম্পৃক্ত থাকার প্রশ্নই আসে না। প্রকৃত খুনিদের আড়াল করার হীন উদ্দেশ্যেই জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে এ সব বক্তব্য দেয়া হয়। অতীতে বারবার বিভিন্ন ঘটনার সাথে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে সম্পৃক্ত করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। কিন্তু কোন ঘটনাই আজ পর্যন্ত তারা প্রমাণ করতে পারেনি।

আওয়ামী লীগের এমপি লিটন হত্যার পর সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও পলাশবাড়িসহ গাইবান্ধা, নীলফামারী, রংপুর, লালমনিরহাট জেলায় বাড়ি ঘরে হানা দিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রায় অর্ধশতাধিক নিরপরাধ নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। সুন্দরগঞ্জে জামায়াত সমর্থক ডা. আবদুল গাফ্ফারের দোকান এবং বাড়িতে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। অথচ এ ঘটনার সাথে তাদের কোন সম্পৃক্ততা নেই। আমি আওয়ামী লীগ কর্মী এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নৃশংসতার তীব্র নিন্দা করছি এবং বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি এবং গ্রেফতারকৃত নেতা-কর্মীদের নিঃশর্তভাবে অবিলম্বে মুক্তি প্রদানের দাবি জানাচ্ছি। সেই সাথে জনগণকেও এ ধরনের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি।”