আমীরে জামায়াত

জনাব মকবুল আহমাদ বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ইসলামিক রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমীর।

বাংলাদেশে ইসলামী আন্দোলন শুরু করার ক্ষেত্রে যে কয়জন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ আছেন মুহতারাম মকবুল আহমাদ তাদের অন্যতম। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন। অত্যন্ত সহজ সরল ব্যক্তিত্ব জনাব মকবুল আহমাদ ১৯৩৯ সালে ২ আগস্ট ফেনী জেলার দাগনভূইয়া উপজেলার ওমরাবাদ গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম নাদেরুজ্জামান। পাচ ভাই ও তিন বোন। পরিবারের সকল সদস্যই ইসলামী আন্দোলনের সাথে জড়িত। তিনি ১৯৬৬ সালে লক্ষ্মীপুর নিবাসী প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন ঢাকা আর্মেনিটোলা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের হেড মাওলানা ওহিদুল হকের কনিষ্ঠা কন্যা মুহতারেমা সুরাইয়া বেগমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের তিন ছেলে ও ২ মেয়ে। ১৯৬২ সালে স্নাতক ডিগ্রী অর্জনের পর তিনি সরকারী চাকুরী গ্রহণ করেন। পরে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি দৈনিক সংগ্রামের নিজস্ব সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সমাজ সেবামূলক কাজের সাথেও জড়িত রয়েছেন। তিনি নিজ এলাকায় প্রতিষ্ঠিত ‘ওমরাবাদ পল্লী মংগল সমিতি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। ১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত গজারিয়া হাফেজিয়া মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৬ ও ১৯৭৯ সালে রাবেতা আলম আল ইসলামীর মেহমান হিসেবে দু’বার ‘বায়তুল্লাহ’ জিয়ারত করেন। সম্প্রতি জাপান ইসলামী সেন্টারের দাওয়াতে তিনি জাপান সফর করেন। তিনি ১৯৯৮-৯৯ সালে দৈনিক সংগ্রামের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সাল হতে তিনি ফালাহ-ই-আম ট্রাস্টের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। তিনি স্থানীয় সিলোনিয়া আনজুমানে ফালাহিল মুসলিমিন ট্রাস্ট ও ফেনী ইসলামী সোসাইটির সভাপতি। এছাড়াও তিনি ফেনী আল জামেয়াতুল ফালাহহিয়া ট্রাস্টের সদস্য এবং দাগনভূইয়া সিরাজুম মুনিরা ট্রাস্টের সভাপতি।

ছাত্রজীবন হতে তিনি সক্রিয়ভাবে ইসলামী আন্দোলনের সাথে জড়িত। ছাত্রজীবন শেষ করে ১৯৬২ সালে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন এবং ১৯৬৬ সালে জামায়াতে ইসলামীর রুকন (সদস্য) হন। ১৯৬৭ সাল থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত ফেনী শহর এবং ১৯৬৮ সাল থেকে ১৯৭০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ততকালীন ফেনী মহকুমার আমীরের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য পদে ফেনী-সোনাগাজী নির্বাচনী এলাকা থেকে জামায়াতের নমিনী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ সময় তিনি নোয়াখালী জেলা আমীরের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কাজ শুরু হওয়া থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পালন করেন। ১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নিজ এলাকা হতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

জামায়াতে ইসলামীর আন্দোলনকে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত সাংগঠনিকভাবে বিস্তৃতি করতে মুহতারাম মকবুল আহমাদের ভূমিকা উল্লেখ করার মতো। ১৯৮৯ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত তিনি সহকারী সেক্রেটারী জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৪ সাল থেকে তিনি কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীরের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ ইসলামিক ইনস্টিটিউট পরিচালিত আধুনিক প্রকাশনীর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বরত। ২০১০ সালের জুন থেকে ২০১৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৬ সালের ১৭ অক্টোবর থেকে তিনি অদ্যবধি পর্যন্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচিত আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।

ব্যক্তিজীবন

“বাসের ভেতরে সীট না পেয়েও যিনি বাসের ছাদে বসে সাংগঠনিক প্রোগ্রামের কারণে সফরে গিয়েছেন, সাংগঠনিক কাজ ও ব্যক্তিগত কাজ-এ দুটো যিনি চুলচেরা হিসাব নিকাশ করে প্রতিটি পা’ ফেলেন, সৎ কর্মই যার জীবনের লক্ষ্য, মুখে যা বলেন, বাস্তবেও তা করার চেষ্টা করেন, কথা ও কাজে যার মিল খুঁজে পাওয়া যায়, যার জীবনের লক্ষ্যই হলো মানুষের কাছে দ্বীন কায়েমের দাওয়াত পৌঁছানো, একবার পরিচয় হলে যার নাম তিনি নোট করে রাখেন- ১০ বছর পর হলেও তাকে খুঁজে বের করেন, দ্বীনের দাওয়াত দেন, যার ডায়েরীতে লিখিতভাবে আছে দাওয়াত পৌঁছানোর সমস্ত ছোট বড় অনেকেরই তালিকা। দিল যার স্বচ্ছ-সুন্দর, যার জীবন এক সুন্দর নিয়মের ছকে বাঁধা, যিনি প্রতিনিয়তঃ মনে জাগরুক রাখার চেষ্টা করেন- আল্লাহ তাআলার এ বাণী- ‘লীমা তাকুলূনা মা লা- তাফ আলুন’- “এমন কথা কেন বল, যা তোমরা কার্যত করো না।”- সূরা সফঃ

তিনি হলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচিত আমীর এবং প্রথম কাতারের নেতাদের মধ্যে অন্যতম একজন জনাব মকবুল আহমাদ। ২০০০ সাল থেকে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১০ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত  জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমী্রের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর তৃতীয় আমীর হিসেবে নির্বাচিত হন।  

জন্ম ও শিক্ষা:
ফেনি জিলার দাগনভূঁইয়া উপজেলাধীন ওমরাবাদে ১৯৩৯ সালের ২রা আগস্টে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। পূর্বচন্দ্রপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা জীবন শুরু হয়। প্রাথমিক শিক্ষা শেষে দাগনভূঁইয়ার কামাল আতাতুর্ক হাইস্কুলে ভর্তি হন। অতপর তিনি ফেনি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ে নবম শ্রেনীতে ভর্তি হন এবং ১৯৫৭ সালে কৃতিত্বের সাথে জায়লস্কর হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন। তিনি ১৯৫৯ সালে বি.এ. পাস করেন।

কর্মজীবন:
জনাব মকবুল আহমদ বি.এ. পাস করার পর সরকারী চাকুরীতে যোগদান করেন। একবছর পর সরকারী চাকুরী ছেড়ে তিনি শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেন এবং ১৯৭০ সাল পর্যন্ত সরিষাদী উচ্চবিদ্যালয় ও ফেনী স্ট্রোল হাইস্কুলে শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭০ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ফেনী মহকুমাধীন ‘দৈনিক সংগ্রাম’ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সত্তর দশকের দিকে ‘বাংলাদেশের ব্লাকগোল্ড’ শিরোনামে বাংলাদেশের কক্সবাজারের চিংড়ি মাছের উৎপাদনের উপর তার লেখা একটি প্রতিবেদন ব্যবসায়ী জগতে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে। বিষয় ছিল ‘বাংলাদেশের ব্লাকগোল্ড’ (চিংড়ি সম্পদ) সৌদী আরবের ‘তরল সোনাকে (পেট্রোল)” হার মানাবে?

ইসলামী আন্দোলন ও রাজনৈতিক জীবন
ছাত্র জীবন থেকেই মকবুল আহমদ ইসলামী আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। ছাত্র জীবন শেষ করেই ১৯৬২ সালে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন এবং ১৯৬৬ সালে রুকুনিয়াতের শপথ গ্রহণ করেন। ১৯৬৭ সাল থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত তিনি ফেনী শহর আমীরের দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৬৮ সাল থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত মহকুমা আমীরের দায়িত্ব পালন করেন। ’৭০ সালের শেষ দিকে তিনি বৃহত্তর

নোয়াখালী জিলা আমীরের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদে নির্বাচনে ফেনী সদর সোনাগাজী নির্বাচনী এলাকায় জামায়াত মনোনীত প্রার্থী হিসাবে এবং ১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী ২ এলাকা থেকে অংশ নেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর চট্টগ্রাম বিভাগে তিনি দ্বীনী দাওয়াতের কাজ করেন। অতপর জনাব মকবুল আহমদ ১৯৭৯ সাল থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের কেন্দ্রিয় সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

১৯৮৯ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের অন্যতম সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০০৩ থেকে তিনি জামায়াতের অন্যতম নায়েবে আমীর হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। জনাব মকবুল আহমদ জনগণের ঘরে ঘরে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানোর ব্যাপারে সদা জাগ্রত এবং বিরামহীন ব্যক্তিত্ব। তিনি নিরলস ও নিরবচ্ছিন্নভাবে সাধারণ জনগণের কাছে ইসলামী দাওয়াত পৌঁছানোর কাজ করে চলেছেন।

সমাজ সেবা:
ছাত্র জীবন থেকেই তিনি সমাজকল্যাণমূলক কাজের সাথে জড়িত আছেন। তাঁর জীবনের চারিত্রিক বৈশিষ্ট হলো মানুষের সেবা করা। ১৯৬২ সালে যুবকদের সহযোগিতায় ওমরাবাদে (নিজ গ্রামে) “ওমরাবাদ পল্লীমঙ্গল সমিতি” নামে একটি সমিতি গঠন করেন। তিনি উক্ত সমিতির ১০ (দশ) বছর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। সমিতির সভাপতি হিসেবে তিনি অনেক স্থানীয় রাস্তাঘাট নির্মাণ ও মেরামতের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং গরীব ও অসহায় লোকদেরকে সহযোগিতা প্রদান করেন।

১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত তিনি গজারিয়া হাফেজিয়া মাদরাসায় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে গজারিয়া হাফেজিয়া মাদরাসায় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি বর্তমানে ফালাহ-ই-আম ট্রাস্ট, ঢাকা; সিলোনীয়া আঞ্জুমানে ফালাহীল মুসলেমীন ট্রাস্ট এবং ফেনী ইসলামিক সোসাইটি, দাগন ভূঁইয়া সিরাজুম মুনীরা সোসাইটির চেয়াম্যান, ২ বছর দৈনিক সংগ্রামের চেয়ারম্যান ছিলেন এবং বর্তমানে দৈনিক সংগ্রাম ট্রাস্টি বোর্ডের একজন ডাইরেক্টর। ফেনী ইসলামিক সোসাইটির প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঐতিহ্যবাহী “ফেনী শাহিন একাডেমীর” সভাপতি।

সুপরিচ্ছন্ন জীবনের অধিকারী জনাব মকবুল আহমদ সহজ ও সাধারণ জীবন যাপনে অভ্যস্ত। এ নশ্বর দুনিয়ায় তিনি আল্লাহর একজন খাঁটি দাস হিসেবে বসবাস করতে সদা সচেষ্ট। আখেরাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি কিভাবে অর্জন করা যায় এটাই তাঁর জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। নিঃসন্দেহে বর্তমান এবং অনাগতদের জন্য তিনি একজন অনুপ্রেরণার উৎস।

সাহিত্য কর্ম ও দেশভ্রমণ:
রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামীর মেহমান হিসাবে তিনি ২বার হজ্জ পালন করেন। তিনি জাপান ও কুয়েত (সাংগঠনিক প্রয়োজনে) সফর করেন। সাপ্তাহিক সোনার বাংলায় “জাপান সফর- দেখার অনেক, শিখার অনেক” এ বিষয় তার সফর অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি সুন্দর লিখা প্রকাশিত হয়।

বৈবাহিক জীবন:
জনাব মকবুল আহমদ ১৯৬৬ সালে মুহতারেমা সুরাইয়া বেগমকে বিবাহ করেন। তাদের তিন ছেলে এবং দুই মেয়ে। উল্লেখ্য, তার স্ত্রী একজন রুকন। 

উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলী

আল্লাহর সন্তুষ্টি জীবনের লক্ষ্য

জনাব মকবুল আহমাদের জীবনের উদ্দেশ্য হলো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। এ লক্ষ্যে তিনি তার জীবনকে সাজানোর চেষ্টা করেছেন। বিভিন্ন আলোচনা, শিক্ষা বৈঠক, শিক্ষাশিবির, দায়িত্বশীল বৈঠক ও বিভিন্ন সভায় তিনি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের জীবন কেন্দ্রীভূত করার বিষয়কে সামনে রেখে বক্তব্য উপস্থাপন করতেন। তিনি স্কুল জীবনের ঘটনা উল্লেখ করে বলেনঃ “স্কুল জীবনে আমার আর একটা সুন্দর ঘটনা মনে পড়ে। আমরা যখন ছাত্র ছিলাম প্রায়ই একটা রচনা আসত ‘তোমার জীবনের উদ্দেশ্য কী (Your aim in life)।’ কেউ কেউ লিখত ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, মন্ত্রী ইত্যাদি হবো। আমরাও লিখেছি, নাম্বার পেয়েছি, আবার শিক্ষকতার জীবনে ছাত্ররা লিখেছে আমরা নাম্বারও দিয়েছি।

কিন্তু ইসলামী আন্দোলনে যোগ দেয়ার পর, ‘কুল ইন্না ছালাতি, ওয়া নুসুকি, ওয়া মাহ-ইয়া ইয়া, ওয়া মামাতি, লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন’। এ আয়াতের তরজমা মর্মার্থ জানার পর জীবনের ধারণা, উদ্দেশ্য সব বদলে গেল। অনেক জায়গায় আলোচনায় এটা বলার চেষ্টা করি আমার জীবনের উদ্দেশ্য কখনো ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, মন্ত্রী প্রভাবশালী নেতা হওয়া উল্লেখ করার মতো বিষয় হতে পারে না। বড়জোর জীবনে কী প্রফেশন Choice করবো তার জন্য এটা বলা যায়। সত্যিকার মানুষের জীবনের লক্ষ্য তাই হওয়া উচিত যা আমাদের স্রষ্টা, প্রতিপালক মহান আল্লাহ তার কোরআনে আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য লক্ষ্য কী হওয়া উচিত তা বলে দিয়েছেন। ‘কুল ইন্না ছালাতি, ওয়া নুসুকি, ওয়া মাহ-ইয়া ইয়া, ওয়া মামাতি, লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন’ (সূরা আন’আম-১৬২) অর্থাৎ আমার নামাজ, আমার কুরবানি, আমার জীবন, আমার মৃত্যু সবই মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহর জন্য। যখনই যেখানে কথা বলেছি, তখনই এ Reference এনেছি সবাই অনুভব করেছে এটাই তো আসলে আমাদের জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। আমি জীবনে যত কাজ করব সবই এ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই করব। যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, অস্তিত্ব দান করেছেন, আমাকে প্রতিপালন করেছেন, সুখ শান্তি জীবনোপকরণ দিয়েছেন- তাকেই সবসময় কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ রেখে তার আদেশ নিষেধ মেনে চলার মধ্যেই আমাদের সকল কল্যাণ নিহিত। বর্তমানে আমরা যা দেখছি, যত জুলুম-নির্যাতন, অন্যায় অবিচার, মানুষের অবর্ণনীয় দুঃখ কষ্ট, মানুষ নিজ প্রতিপালককে না জানা, না মানা, তার নির্দেশিত পথে না চলার কারণেই হচ্ছে। দুর্ভাগ্য এ কারণেই এ অধপতন হচ্ছে তাও জানে না। লেখাপড়ায় টেকনোলজি জানা, জীবনের সুখ-সুবিধা বেশি পাওয়ার পদ্ধতিই প্রধান। কিন্তু তার স্রষ্টাকে জানার কোনো চেষ্টা নেই।”