Sunday, 15th December, 2019
Choose Language:

সর্বশেষ
সংবাদ
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে জামায়াতের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল
১৬ ডিসেম্বর ২০১৬, শুক্রবার,
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, শোষণ, বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে বিশ্বমানচিত্রে বাংলাদেশ নামের একটি রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটেছে। কিন্তু মহান বিজয়ের সাড়ে ৪ দশক অতিক্রান্ত হলেও দেশে ন্যায়বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ক্ষুধা, দারিদ্র ও বৈষম্যের যাতাকলে পিষ্ট দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী। গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা সাংবিধান  স্বীকৃত হলেও সরকার তা হরণের মাধ্যমে স্বাধীনতার চেতনা ধ্বংস করে দেশে জুলুমতন্ত্র ও ফ্যাসীবাদী শাসন কায়েম করেছে। তিনি শহীদ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল মুক্তিযোদ্ধাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন, শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান ও শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া করেন।
 
তিনি আজ রাজধানীর একটি মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী আয়োজিত মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে  একথা বলেন। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহাগনরীর কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুস সবুর ফকির ও ঢাকা মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য এ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দীন। উপস্থিত ছিলেন যাত্রাবাড়ী জোনের সহকারি পরিচালক আ জ ম রুহুল কুদ্দুস, ঢাকা মহনগরীর মজলিশে শুরা সদস্য ডা. খন্দকার আবু ফতেহ ও মাওলানা আমিরুল ইসলাম, জামায়াত নেতা মনির হোসাইন, তাজুল ইসলাম, আতিকুর রহমান চৌধুরী, কামাল উদ্দীন ও গাজী আবুল কাসেম প্রমূখ। 
 
নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ক্ষমতাসীনরা  দেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধবংস করেছে। সরকার অঘোষিতভাবে দেশে বাকশালী শাসন কায়েম করেছে। দেশে মত প্রকাশের কোন স্বাধীনতা নেই। বিরোধী মতকে দমনের সব আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে। সরকার ইতোমধ্যেই বেশকিছু গণমাধ্যম বন্ধ করে দিয়েছে।এ সরকারের আমলেই পিলখানা হত্যাকান্ডের মাধ্যমে সীমান্তকে অরিক্ষিত করে দেয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে সরকারি দলের অঙ্গপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোন নির্বাচনই অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহনযোগ্য হয়নি। 
 
তিনি  বলেন, সরকার অবৈধ ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতেই দেশে বিরাজনীতিকরণ শুরু করেছে। দেশ ও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা যখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি সেখানে পরিকল্পিতভাবে বিভেদ সৃষ্টি করে দেশের রাজনীতিকে অস্থিতিশীল করে রাখা হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগে মামলা দিয়ে জুলুম-নির্যাতনের স্টিমরোলার চালানো হচ্ছে। দুর্নীতি, লুটপাট, চাদাঁবাজি ও দলীয়করণের কারণে সরকার সকল ক্ষেত্রে চরমভাবে ব্যার্থতার পরিচয় দিয়েছে। মানুষের জান মাল ইজ্জত-আব্রুর কোন নিরাপত্তা নেই। গুম, খুন, ধর্ষণ, গুপ্তহত্যা, ক্রস ফায়ার ও অপহরণসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। এমনকি মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যুরও কোন গ্যারান্টি নেই। ফ্যাসিবাদী-বাকশালীরা ক্ষমতায় থাকলে জনগনের জানমালের আরো অনিরাপদ হয়ে উঠবে। এভাবে কোন ভাবেই স্বাধীনতা ও মহান বিজয়ের সুফল অর্জন করা সম্ভব নয় । তাই তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পূর্ণদ্ধারের করে সরকারে পতন ঘন্টাকে তারান্বিত করতে আহবান জানান।
 
আব্দুস সবুর ফকির বলেন, বিজয়ের চার দশক পরেও আমরা স্বাধীনতার সুফল ঘরে তুলতে পারিনি। স্বাধীনতা প্রত্যেক মানুষের কাঙ্খিত হলেও গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় আমাদেরকে জীবন দিতে হয়-এটা খুবই দুঃখজনক। তাই স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে আমাদেরকে আবারও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
 
এ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দীন বলেন, গণতন্ত্র, সাম্য ও আত্মনির্ভরশীলতা মহান বিজয়ের চেতনা হলেও ৪ দশক পরেও আমরা পশ্চাদপদ। তাই স্বাধীনতা ও মহান বিজয়ের সুফল পেতে হলে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসে কোন বিকল্প নেই।