Thursday, 12th December, 2019
Choose Language:

সর্বশেষ
সংবাদ
মিয়ানমারের মুসলমানদের উপর গণহত্যা বন্ধের দাবিতে দেশব্যাপি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ পালিত
২৩ নভেম্বর ২০১৬, বুধবার,
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন  বলেছেন,  মিয়ানমানমার বর্গীদের রোহিঙ্গাদের উপর চালানো বরর্বতা ও নির্মমতা হালাকুখানের বাগবাদ ধবংসের নির্মমতাকেও হার মানিয়েছে। নির্বিচারে চলছে ইতিহাসের জঘণ্যতম গণহত্যা। সেনাবাহিনী সহ স্থানীয় সন্ত্রাসীরা মুসলিম অধ্যুষিত এলাকার বাড়ীঘরে হামলা, লুট-তরাজ, অগ্নিসংযোগ ও নারীদের গণধর্ষণ চালাচ্ছে। তিনি মিয়ানমারের মুসলমানদের উপর চালানো নির্মম গণহত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং রোহিঙ্গাদের রক্ষায় জাতিসংঘ, ওআইসি সহ বিশ্বসংস্থাগুলোকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহবন জানান। 
 
তিনি আজ রাজধানীতে কেন্দ্র ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচীর অংশ হিসাবে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর বর্বর গণহত্যার প্রতিবাদের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত এক বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে একথা বলেন। বিক্ষোভ মিছিলটি মিরপুর ১০ নং গোল চত্তর থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য মাহফুজুর রহমান, মজলিশে শুরা সদস্য অধ্যাপক আনোয়ারুল করিম, মোস্তাফিজুর রহমান, আশরাফুল আলম, নাসির উদ্দীন, ডা. শফিউর রহমান, আবুল ফজল, জসিম উদ্দীন ও একেএম সোলাইমান সহ বিভিন্ন থানার সেক্রেটারিগণ।
 
তিনি বলেন, মিয়ানমার সেনা বাহিনী ও স্থানীয়  সন্ত্রাসীরা পুরা রাখাইন রাজ্যকে নরকে পরিণত করেছে। সেখানে গত প্রায় দেড় মাস ধরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ৪ শতাধিক মুসলামনকে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে। শতাধিক নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে সাড়ে তিন হাজার ঘরবাড়ি। গৃহহীন হয়ে পড়েছেন ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ। ধর্ষণের পর কাউকে কাউকে হত্যাও করার ঘটনাও ঘটেছে। ঘাতকদের নারকীয় তান্ডব এখনো অব্যাহত আছে। প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গা মুসলমানরা বাংলাদেশ সীমান্ত অতিক্রম করার চেষ্টা করলে বাংলাদেশ সরকার তাদেরকে বাধা দিচ্ছে। মূলত সরকার রোহিঙ্গাদের রক্ষায় কোন ভূমিকা তো পালন করছেই না বরং তাদেরকে আবারও ঘাতকের মুখেই  ঠেলে দিচ্ছে। তিনি আন্তর্জাতিকভাবে জনমত তৈরি ও রোহিঙ্গাদের রক্ষায় সরকারকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।
 
তিনি বলেন, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ পুরো রাখাইন রাজ্যকে বধ্যভূমিতে পরিণত করেছে। 'সেনাবাহিনী বিভিন্ন পাড়ার বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে। মুসলমানদের সহায়-সম্পদ লুন্ঠন করা হচ্ছে। লোকজনকে গুলি করে হত্যা করে লাশের সাথে পৈশাচিক আচরণ করছে। প্রতিনিয়ত পোড়া লাশের গন্ধ বাতাসে ভেসে আসছে। ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে লোকজন যখন বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে, তখন হেলিকপ্টার গানশিপ থেকে গুলিবর্ষণ করে তাদের হত্যা করা হচ্ছে।' 'রোহিঙ্গারা যেখানে গিয়ে লুকাচ্ছে, সেখানে রাস্তা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময়ে পথেঘাটে, খালে নদীতে তাদের মেশিনগান দিয়ে গুলি করে মেরে ফেলা হচ্ছে।' তিনি নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের রক্ষায় বিশ্বের শান্তিপ্রিয় মানুষকে সোচ্চার হওয়া এবং মানবিক সাহায্য প্রদানের জন্য আহবান জানান।

এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুস সবুর ফকির বলেছেন, রোহিঙ্গাদের আর্তনাদে রাখাইন রাজ্যের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠেছে। গ্রামের পর গ্রাম পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তুপে। প্রতিনিয়ত স্বজনহারাদের আহাজারী শোনা যাচ্ছে। অগণিত বনি আদম আশ্রয় নিচ্ছে বনে-জঙ্গলে বা কোন উন্মুক্ত স্থানে। জীবন বাঁচাতে কেউ কেউ সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে আসার চেষ্টা করছে। কিন্তু সরকার তাদেরকে আশ্রয় না দিয়ে উল্টো তাদেরকে বর্মী ঘাতকদের মুখেই ঠেলে দিচ্ছে। তিনি মিয়ানমারে গণহত্যার তীব্র নিন্দা জানান এবং রোহিঙ্গাদের আশ্রয় সহ রোহিঙ্গাদের বাঁচাতে সরকারকে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণের আহবান জানান। 
 
তিনি আজ রাজধানীতে কেন্দ্র ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচীর অংশ হিসাবে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর বর্বর গণহত্যার প্রতিবাদের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত এক বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে একথা বলেন। বিক্ষোভ মিছিলটি গেন্ডারিয়া রেল স্টেশন থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জুরাইনে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন শিবিরের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি রিয়াজ উদ্দীন, সেক্রেটারি শফিউল আলম, জামায়াতে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিশে শুরা সদস্য ডা. খন্দকার আবু ফতেহ, নিজামুল হক নাঈম, আব্দুর রহীম ও শাহজাহান খান, জামায়াত নেতা মহীউদ্দীন, বোরহান উদ্দীন, আনোয়ার হোসেন ও মোহাম্মদ আলী, ছাত্রনেতা আবদুল হামিদ, কাজী মাসুম, মুজিবুর রহমান মঞ্জু, তারেক নাসরুল্লাহ ও নূরুজ্জামান প্রমূখ।
 
আব্দুস সবুর ফকির বলেন, ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’ স্যাটেলাইটে ধারণ করা বিভিন্ন চিত্র বিশ্লেষণ করে বলেছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের একটি গ্রামের এক হাজারেরও বেশি বাড়ী ধ্বংস করা হয়েছে। গত ২১ নভেম্বর এক প্রতিবেদনে রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। জাতিসংঘ বলছে, সহিংসতার ঘটনায় এ পর্যন্ত সেখানকার ত্রিশ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। সেনাবাহিনী ৬৯ জন রাখাইনকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তবে মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, নিহতের সংখ্যা আরো অনেক বেশি। এ পর্যন্ত সহ¯্রাধিক নাগরিককে তারা আটক করেছে বলে রাষ্ট্রীয় মাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে। মূলত বর্মী বর্গীরা মুসলমানদের উপর নির্মম গণহত্যা চালিয়ে মাতম প্রকাশ করলে বিশ্ববিবেক রহস্যজনকভাবে নিরব। তিনি রোহিঙ্গাদের রক্ষায় জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ওআইসি সহ বিশ্বসংস্থাগুলোকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহবান জানান।
 
তিনি বলেন, রাখাইন প্রদেশের মংডু জেলার উত্তরে ঘটনার ভয়াবহতা অতীতের সকল রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। প্রায় সাত দশক আগে থেকে রাখাইন প্রদেশে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের সূত্রপাত। নানান অজুহাতে ছলচাতুরিতে সে দেশের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সীমান্তরক্ষীরা বারবার নিপীড়ন চালিয়েছে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর। বর্বর অমানবিকতার সকল রেকর্ড ছাড়ানোর কথা বিশ্বজুড়ে পৌঁছে গেছে। উদ্বেগ উৎকণ্ঠা প্রকাশ করা হয়েছে। অনুরোধও জানানো হয়েছে জাতিসংঘসহ বিশ্বের শক্তিশালী সরকারের পক্ষ থেকে। কিন্তু মিয়ানমার সরকার উদ্বেগ উৎকণ্ঠা ও অনুরোধকে উপেক্ষাই করে চলেছে। উপরন্তু রোহিঙ্গা নিধন অভিযানের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে।

এছাড়াও চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর, বরিশাল, কুমিল্লা, গাজীপুর, মোমেনশাহী, নারায়াণগঞ্জ রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, নাটোর, বাগেরহাট, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মাগুরা, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কক্সবাজারসহ সারাদেশেই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ পালন করে জামায়াত।