Thursday, 21st November, 2019
Choose Language:

সর্বশেষ
সংবাদ
৯টি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতিতে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় লোকদের সাহায্যে এগিয়ে আসার আহ্বান
২৪ জুলাই ২০১৬, রবিবার,
প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে দেশের কয়েকটি নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের ৯টি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। বন্যাকবলিত ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় লোকদের সাহায্যে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর জনাব মকবুল আহমাদ আজ ২৪ জুলাই প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলেন, “বন্যাদুর্গত জেলাগুলোতে জরুরী ভিত্তিতে পানিবন্দী লোকদের উদ্ধার করা এবং তাদের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য, বস্ত্র, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসা সামগ্রীসহ চিকিৎসক দল পাঠানো প্রয়োজন।  

প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে দেশের প্রধান কয়েকটি নদীতে অব্যাহতভাবে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির ফলে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, রংপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, সুনামগঞ্জ, যশোর, ফরিদপুর জেলায় বন্যা পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বন্যাদুর্গত জেলাগুলোতে প্রায় ৪ লক্ষ লোক পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ৯টি জেলায় প্রায় শতাধিক ইউনিয়নের প্রায় ৫ লক্ষ লোক বন্যাকবলিত হয়েছে। বন্যার কারণে শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি ঢুকে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গিয়েছে। হাজার হাজার কাঁচা ঘর-বাড়ি বন্যার পানিতে ধসে পড়েছে। কৃষি জমির রোপা আমন ধান, বীজতলা ও উঠতি ফসল, পাট, তরিতরকারী, শাক-সবজি বন্যার পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছে এবং পুকুরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গিয়েছে। বন্যাদুর্গত এলাকায় গরু-মহিষ, ছাগল, হাঁস-মুরগী নিয়ে কৃষক বিপাকে পড়েছে। ফসল হারা কৃষকের কান্না ও আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠলেও সরকারের কোন সাহায্য-সামগ্রী এখন পর্যন্ত বন্যাকবলিত এলাকায় পৌঁছেনি। বন্যাদুর্গত এলাকায় পেটের পীড়াসহ নানা রোগ-ব্যাধি ছড়িয়ে পড়েছে। আগামী আরও ৪/৫ দিন পানি বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। আরো পানি বৃদ্ধি পেলে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। 

বন্যাকবলিত অঞ্চলের পানিবন্দী লোকদের জরুরী ভিত্তিতে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় দেয়া প্রয়োজন। সেই সাথে বন্যাদুর্গত লোকদের জন্য জরুরী ভিত্তিতে খাদ্য, বস্ত্র, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা গ্রহণ ও অসুস্থদের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসা সামগ্রীসহ চিকিৎসক দল পাঠানো এবং গৃহহীনদের জন্য গৃহ-নির্মাণ সামগ্রী পাঠানোর জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। 

সেই সাথে বন্যাদুর্গত লোকদের সাহায্যার্থে প্রয়োজনীয় সাহায্য সামগ্রী নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমি দানশীল সচ্ছল ব্যক্তি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সংস্থা এবং বিশেষভাবে জামায়াতে ইসলামীর সংশ্লিষ্ট শাখা সংগঠনের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”