Thursday, 28th May, 2020
Choose Language:

সর্বশেষ
সংবাদ
দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছাঃ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সহ গ্রেফতারকৃত সকল নেতা-কর্মীকে ঈদের পূর্বেই মুক্তির আহ্বান
১০ সেপ্টেম্বর ২০১৬, শনিবার,
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর জনাব মকবুল আহমাদ পবিত্র ঈদুল আয্হা উপলক্ষ্যে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুস সুবহান ও আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং সকল নেতা-কর্মীকে মুক্তি দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আজ ১০ সেপ্টেম্বর নিম্নোক্ত বিবৃতি প্রদান করেছেনঃ-
 
“কুরবাণীর মহান আদর্শ নিয়ে পবিত্র ঈদুল আয্হা আমাদের দ্বারে সমাগত। মুসলমানদের নিকট ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আয্হা- এ দু’টি ঈদই আনন্দের দিন। এ দু’ঈদে মানুষ সকল ভেদাভেদ, হিংসা, বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে পরস্পর পরস্পরের নিকটবর্তী হয় এবং ঈদগাহে গিয়ে নামাজ আদায় করে। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আয্হা আমাদেরকে শুধু আনন্দই দেয় না, মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ও অনৈক্য ভুলে গিয়ে পরস্পরকে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যরে বন্ধনে আবদ্ধ করে সামাজিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করে। ঈদ আমাদের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও জাতীয়ভাবে ঐক্যের বন্ধন শক্তিশালী করে। 
 
ঈদুল আযহা মানুষকে ত্যাগ ও কুরবাণীর আদর্শে উজ্জীবিত করে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও শোষণ দূর করে একটি শোষণমুক্ত ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য ত্যাগ স্বীকারে অনুপ্রেরণা দেয়। আমরা যদি ত্যাগের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সকলেই বাস্তবজীবনে ইসলামী আদর্শ অনুসরণ করে সমাজে ন্যায় ও ইনসাফ কায়েম করতে পারি তাহলেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব হবে।
 
হযরত ইব্রাহিম (আঃ) ত্যাগের যে মহান আদর্শ স্থাপন করে গিয়েছেন সেইভাবে আমরাও যদি আল্লাহর দ্বীনের জন্য নিজেদের প্রিয়বস্তু, ধন-সম্পদ কুরবাণী করার জন্য প্রস্তুত হতে পারি তাহলেই আমাদের কুরবাণী স্বার্থক হবে। 
 
জাতি এমন এক সময় পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপন করতে যাচ্ছে যখন গোটা দেশে চলছে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, হত্যা, গুম ও গ্রেফতার অভিযান। সরকার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন, সাবেক এমপি মাওলানা আবদুস সুবহান ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মুফাসসিরে কুরআন, সাবেক এমপি আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল জনাব এটিএম আজহারুল ইসলামসহ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে জেলে আবদ্ধ করে রেখেছে। দেশের জনগণ তাদের মুক্তি চায়। সরকার জামায়াতে ইসলামীকে নেতৃত্ব শূন্য করার হীন উদ্দেশ্যেই তাদের বিচারের নামে প্রহসন করে হত্যার চক্রান্ত করছে। 
 
গত আগস্ট মাসে জামায়াতের সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযমের ছেলে সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আমান আল আযমী ও সাবেক কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য শহীদ মীর কাসেম আলীর ছেলে ব্যারিষ্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে সাদা পোশাকধারী এক দল লোক বাসা থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গুম করে রেখেছে। তাদেরকে তাদের পরিবারের নিকট ফিরিয়ে দেয়ার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। 
 
জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির ও ইসলামী ছাত্রী সংস্থার বহু নেতাকর্মীকে সরকার অন্যায়ভাবে বন্দী করে রেখে কষ্ট দিচ্ছে। সরকারের সকল ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ার জন্য আমি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। 
 
পরিশেষে ঈদুল আয্হা উপলক্ষ্যে আমি দেশবাসী সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি এবং মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করছি তিনি আমাদের সবাইকে সুন্দর পরিবেশে ঈদুল আয্হা উদ্যাপন করার ও ঈদুল আয্হার শিক্ষা বাস্তব জীবনে ধারণ করার তাওফিক দান করুন। সেই সাথে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ সকল নেতা-কর্মী এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ও ইসলামী ছাত্রী সংস্থার গ্রেফতারকৃত সকল নেতা-কর্মীকে ঈদুল আযহার পূর্বেই মুক্তি দেয়ার জন্য আমি সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”