Monday, 18th January, 2021
Choose Language:

সর্বশেষ
সংবাদ
খালাস চেয়ে রিভিউ করা হবে – আইনজীবী || মীর কাসেম আলীর আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
৭ জুন ২০১৬, মঙ্গলবার,
জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীর আপিলের রায় প্রকাশের পর তা নিয়ম অনুযায়ী কারাগারে পৌঁছেছে। ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানায় স্বাক্ষরের পর রায় ঢাকা কেন্দ্রীয কারাগারে পৌঁছায়। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হওয়ায় অনুলিপি হাতে পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে রিভিউ করার সুযোগ পাবেন তিনি। এরই মধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে তিনি খালাস চেয়ে আপিলের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করবেন। অনুলিপি হাতে পেলে নির্দিষ্ট সময়ে এই রিভিউ করা হবে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী। 

গতকাল সোমবার দুপুরে ২৪৪ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ অপর বিচারপতিদের স্বাক্ষরের পর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হলো। অন্য বিচারপতিরা হলেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান। গত ৮ মার্চ আপিল বিভাগ সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেন। এর তিন মাস পর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়। 

রায় প্রকাশের পর অনুলিপি এ মামলার বিচারিক আদালত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। পরে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার মো. শহীদুল আলম ঝিনুক জানান, বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ার উল হক নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনালের তিন বিচারক সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় মৃত্যু পরোয়ানায় স্বাক্ষর করেন। এর পর লাল কাপড়ে মুড়ে এই মৃত্যু পরোয়ানা ট্রাইব্যুনাল থেকে পাঠানো হয় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। সেখান থেকে পরোয়ানা যাবে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে। 

রায় প্রকাশের পর হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার সাব্বির ফয়েজ বলেন, এখন নিয়ম অনুযায়ী মীর কাসেম আলীর এই রায় ট্রাইব্যুনাল হয়ে কারাগারে পাঠানো হবে। ট্রাইব্যুনাল কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী রায়ের অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, ঢাকার জেলা প্রশাসক, কেন্দ্রীয় কারাগার এবং মীর কাসেম আলীর কাছে পৌঁছে দেবে। 

খালাস চেয়ে রিভিউ আবেদন করবেন 
মীর কাসেম আলীর আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর নিয়ম অনুযায়ী খালাস চেয়ে তিনি রিভিউ আবেদন দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন তার প্রধান আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। তিনি বলেন, রায়ের কপি হাতে পাওয়ার নিয়ম অনুযায়ী আমরা রিভিউ আবেদন দায়ের করব। তিনি বলেন, রায়ের অনুলিপি পাওয়ার দিন থেকে রিভিউ আবেদন দায়েরের ১৫ দিন গণনা শুরু হবে। তিনি আরো বলেন, আশা করছি রিভিউতে আমরা ন্যায়বিচার পাব।

অন্যদিকে আপিল বিভাগের রায় রিভিউ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার পরিবারও। মীর কাসেম আলীর ছেলে ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেমও রিভিউ করার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি এখনো পাইনি। রায়ের কপি পাওয়ার পর রিভিউয়ের প্রস্তুতি নেয়া হবে।

অন্যদিকে আপিল বিভাগের রায় প্রকাশের পর এক ব্রিফিংয়ে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, মীর কাসেম আলী যদি রিভিউ আবেদন না করেন তবে নিয়ম অনুযায়ী কারাকর্তৃপক্ষ তার মৃত্যুদ- কার্যকরের পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করবে। তবে এক্ষেত্রে রিভিউ আবেদন করার জন্য তাকে ১৫ দিনের সময় দেয়া হবে। ১৫ দিনের মধ্যে তাকে রিভিউ দায়ের করতে হবে। রিভিউ দায়ের করলে ওই রায়ের ওপরই নির্ভর করবে তার দ- প্রক্রিয়ার পরবর্তী কার্যক্রম।

গত ৮ মার্চ আপিল আংশিক মঞ্জুর করে তিনটি অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি এবং সাতটি অভিযোগে সাজা বহাল রাখা হয়। এর মধ্যে ১১ নম্বর অভিযোগে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিম উদ্দিন আহমেদ হত্যার অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের দেয়ার মৃত্যুদ-ের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। এই অভিযোগে মীর কাসেম আলীর আইনজীবীদের যুক্তি ছিল-অভিযোগটিতে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সাক্ষী হতে পারতেন জসিম উদ্দিনের আপন ভাই অধ্যাপক ড. রাজিব হুমায়ুন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তদন্ত কর্মকর্তা তার সাক্ষাৎকারও নিয়েছেন। কিন্তু তাকে এ মামলার সাক্ষী করা হয়নি।

আপিলের সংক্ষিপ্ত রায়ে বলা হয়, আসামীপক্ষের আপিল আংশিক মঞ্জুর করা হলো। প্রসিকিউশন করা অভিযোগের মধ্যে ৪, ৬ ও ১২ নম্বর অভিযোগ থেকে মীর কাসেম আলীকে খালাস এবং ২, ৩, ৭, ৯, ১০, ১১ ও ১৪ নম্বর অভিযোগে মীর কাসেম আলীকে ট্রাইব্যুনালে দেয়া দ- বহাল রাখা হলো। এর মধ্যে ১১ ও ১২ নম্বর অভিযোগে মীর কাসেম আলীকে মৃত্যুদ- দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। ১২ নম্বর অভিযোগ থেকে আপিল বিভাগ খালাস দিলেও ১১ নম্বর অভিযোগে তার মৃত্যুদ- বহাল রাখা হয়েছে।

২০১৪ সালের ২ নবেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে দু’ সদস্য মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদ-ের রায় প্রদান করেন। প্রসিকিউশনের আনীত ১১ ও ১২ নম্বর অভিযোগে মুক্তিযোদ্ধা জসিম ও জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে হত্যার অভিযোগে তাকে এই দন্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্যে ১২ নম্বর অভিযোগে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে রায় প্রদান করা হয়। এ ছাড়া ২ নম্বর অভিযোগে ২০ বছর, ৩, ৪, ৬, ৭, ৯ ও ১০ নম্বর অভিযোগে মীর কাসেম আলীকে ৭ বছর করে এবং ১৪ নম্বর অভিযোগে ১০ বছর কারাদ-ের আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।

অপরদিকে ১, ৫, ৮ ও ১৩ নম্বর অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয় তাকে। ওইদিন মোট ৩৫১ পৃষ্ঠার রায়ের মধ্যে ১১ পৃষ্ঠার সংক্ষিপ্ত রায় পড়ে শোনায় ট্রাইব্যুনাল। 

একই বছরের ৩০ নবেম্বর ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদ-ের রায় থেকে খালাস চেয়ে আপিল করেন মীর কাসেম আলী। তার পক্ষে আইনজীবীরা আপিলটি দাখিল করেন। আপিলটি পাঁচটি ভলিউমে ১৭৫০ পৃষ্ঠার। ১৫০ পৃষ্ঠায় ১৮১টি যুক্তিতে খালাস চাওয়া হয়েছে। 

২০১২ সালের ১৭ জুন মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে ওই দিনই তাকে গ্রেফতার করে বিকেল সোয়া চারটার দিকে ট্রাইব্যুনালে নিয়ে আসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
http://goo.gl/QuQ61m