Monday, 18th January, 2021
Choose Language:

সর্বশেষ
সংবাদ
ত্রুটিপূর্ণ অভিযোগে মীর কাসেম আলীর সাজা - খন্দকার মাহবুব হোসেন
২০ জুন ২০১৬, সোমবার,
মীর কাসেম আলীর প্রধান আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, মীর কাসেম আলীকে ত্রুটিপূর্ণ অভিযোগে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছে। আপিল বিভাগ নিজেরাই স্বীকার করছেন, অভিযোগ ত্রুটিপূর্ণ, তার পরও সেই অভিযোগে মৃত্যুদন্ড বহাল রাখা হয়েছে। এটা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী এবং আমরা মনে করি, জসিমের মৃত্যুর ব্যাপারে ১১ নম্বরে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সে ব্যাপারে আমরা আপিল বিভাগে রিভিউর পর খালাস পাবো।
 
গতকাল রোববার দুপুরে সুপ্রিম র্কোট বার মিলনায়তনে রিভিউ দাখিলের পর এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় মীর কাসেম আলীর ছেলে এবং তার আইনজীবী ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সহ-সম্পাদক এডভোকেট মো.সাইফুর রহমান, এডভোকেট মো.ইউসুফ আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 
 
জসিমের হত্যাকান্ডের ব্যাপারে প্রসিকিউশন যেসব সাক্ষ্য প্রমাণ দিয়েছেন সবই শোনা কথা। তবে এখানে জসিমের এক বড় ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন। তার নাম রাজিব হুমায়ুন। তদন্তকারী কর্মকর্তা তার সাথে যোগাযোগ করেছিলেন, কিন্তু তাকে সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। আমরা মনে করি, তার মতো শিক্ষিত ব্যক্তি, যিনি আপন ভাই, তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হলে প্রকৃত সত্য প্রকাশ হতো। 
 
তিনি বলেন, সে কারণেই আমরা মনে করি, জসিমের ব্যাপারে মীর কাসেম আলী সাহেবকে অবশ্যই আপিল বিভাগ রিভিউতে খালাস দেবেন। দুটি ব্যাপারে একটি হলো আপিল বিভাগ নিজেই স্বীকার করেছেন, ট্রাইব্যুনালে যে বিচার হয়েছে সেখানে তাকে অ্যাবেটর হিসেবে দেখানো হয়েছে। কিন্তু আপিল বিভাগ তাকে অ্যাবেটর না দেখিয়ে সরাসরি প্রধান আসামী হিসেবে সাজা দিয়েছেন। এতে আইনের ব্যত্যয় ঘটেছে। এটা আইনসম্মত হয়নি। সেই কারণেই আমরা বিশ্বাস করি, ১১ নম্বর অভিযোগে, যেখানে জসিম হত্যাকা-ের ব্যাপারে তাকে মৃত্যুদ- দেয়া হয়েছে, সেটা কোনো অবস্থায়ই বহাল থাকবে না।
 
সাক্ষ্য প্রমাণ যা ছিল জসিমের ভাই জীবিত থাকা অবস্থায় জসিমের প্রসিকিউশনের তরফ থেকে তাকে সাক্ষ্য না দিয়ে কতগুলো বানানো সাক্ষী দিয়ে তার বিচারের চেষ্টা করা হয়েছে। সেখানে অবশ্যই আইনের ব্যত্যয় ঘটেছে।

তিনি বলেন, একটা জিনিস অবশ্যই মনে রাখতে হবে, মীর কাসেম আলী রাজনীতিবিদ ছিলেন না। তিনি ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ছিলেন।
 
তিনি বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে (মীর কাসেম) বাংলাদেশের মাটিতে মানুষের শিক্ষার জন্য, মানুষের কল্যাণের জন্য, মানুষের সুচিকিৎসা করার জন্য কাজ করেছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের বেকার যারা আছেন তাদের কর্মসংস্থানে তিনি সমাজসেবক হিসেবে কাজ করেছেন বলে উল্লেখ করেন খন্দকার মাহবুব হোসেন। 

তিনি বলেন, আমরা আশা করবো যে সাক্ষ্য প্রমাণ আছে ও প্রসিকিউশন যে সাক্ষ্য দিয়েছেন সেখানে আমরা প্রমাণ করেছি এই ঘটনার সময় মীর কাসেম আলী চট্টগ্রামে ছাত্রসংঘের কিছু ছিলেন না।
 
ওই সময় তিনি ঢাকা ছিলেন। এজন্য আমাদের দালিলিক ও মৌখিক সাক্ষ্য রয়েছে। প্রসিকিউশনের সাক্ষীতেও তাই রয়েছে। তাই যদি হয় যুদ্ধকালে যে যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল তখন অল্প সময়ের মধ্যে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়া অসম্ভব ছিল। এটা আপিল বিভাগ অবশ্যই বিবেচনায় নিবেন। তার রায় আশা করি সঠিকভাবে পর্যালোচনা করা হবে।

তিনি বলেন, আমরা রিভিউ আবেদনে সবটাই খালাস চেয়েছি। তবে আমরা বেশির ভাগ গুরুত্ব দিয়েছি ১১ নম্বর অভিযোগে যাতে মৃত্যুদ- দেয়া হয়েছে সেটাতে। সর্বোচ্চ আদালত স্বীকার করেছেন ট্রাইব্যুনাল অ্যাবেটর হিসেবে রায় দিয়েছেন। আর আপিল বিভাগ মূল অপরাধী হিসেবে তাকে রায় দিয়েছেন। এতে আইনের ব্যত্যয় ঘটেছে।
http://goo.gl/q8bsoe