Monday, 09th December, 2019
Choose Language:

সর্বশেষ
সংবাদ
মাওলানা নিজামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ স্থগিত করার আহ্বান
৭ মে ২০১৬, শনিবার,
•  নিজামীর বিচার প্রক্রিয়া সুস্পষ্টত মান সম্মত হয়নি- স্টিফেন জে র‌্যাপ
•  সাজা স্থগিত করে আন্তর্জাতিক ন্যায্য বিচারের মানদণ্ড অনুযায়ী স্বাধীন তদন্ত করতে হবে- ইংল্যান্ডের বার হিউম্যান রাইটস কমিটি
•  সকল ট্রায়াল ও সাজা স্থগিত করে স্বাধীন ও আন্তর্জাতিক রিভিউ করতে হবে- ৮জন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞের আহ্বান
•  প্রধানমন্ত্রীকে আল্লামা ইউসুফ আল কারযাভীর চিঠি 
•  নৃশংসতাকে ত্রুটিপূর্ণ বিচারপ্রক্রিয়া দিয়ে ভোলানো ঠিক হবে না- অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
 
জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, ব্যক্তিত্ব ও বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে। তারা বলছেন, বিচার প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মানদল্ড ও ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করা হয়নি। তারা অবিলম্বে মাওলানা নিজামীসহ ট্রায়াল এবং সাজা স্থগিত করে স্বাধীন ও আন্তর্জাতিক রিভিউ করার আহ্বান জানান। এক্ষেত্রে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে সুপারভিশন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। 
 
স্টিফেন জে র্যা প: মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের যুদ্ধাপরাধ ও বৈশ্বিক অপরাধের বিচারবিষয়ক বিভাগের সাবেক বিশেষ দূত স্টিফেন জে র্যা প মৃত্যুদণ্ডের বিধান আন্তর্জাতিক আইনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত নিজামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ স্থগিত রাখার জন্য তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এটা দু:খজনক যে মতিউর রহমান নিজামীর বিচার প্রক্রিয়া সুস্পষ্টত মানসম্মত হয়নি। এটা সাধারণ ব্যাপার, আন্তর্জাতিক আইনের যে সব বিধান বাংলাদেশ সমুন্নত করেছে, সেই অনুযায়ী এই মৃত্যুদণ্ড সমর্থনযোগ্য নয়। 
বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের যুদ্ধাপরাধ ও বৈশ্বিক অপরাধের বিচারবিষয়ক বিভাগের বিশেষ দূত হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময় সংগঠিত নৃশংসতার বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের আমন্ত্রণে সফর করেছি। আমি আমার সময়কালে ৫ বার ঢাকা সফর করেছি। 
 
তিনি বলেন, ইন্টারন্যাশনাল কভোন্যান্ট অন সিভিল এন্ড পলিটিক্যাল রাইট্স-আইসিসিপিআর এর বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় অংশিদার। এই চুক্তিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার মামলায় সর্বোচ্চ সুরক্ষা দেয়া হয়েছে। আইসিসিপিআর এর- ৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডাদেশের সেফগার্ড নিশ্চিত করা হয়েছে। অনুচ্ছেদ-১৪ এ প্রসিকিউশন ও ডিফেন্স উভয়পক্ষের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আমরা দেখেছি মামলার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে প্রসিকিউশনকে দেয়া হয়েছে ২২ মাস আর ডিফেন্সের জন্য দেয়া হয়েছে মাত্র ৩ সপ্তাহ। শুধু এটাই নয়, প্রসিকিউশন ২৬জন সাক্ষী আনতে পেরেছিল আর ডিফেন্সের জন্য মাত্র ৪ জন অনুমোদন দেয়া হয়। তিনি ডকুম্যান্ট প্রদর্শনের বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে বৈষম্যের কথা তুলে ধরেন। 
 
ইংল্যান্ডের বার হিউম্যান রাইটস কমিটি: বার হিউম্যান রাইট্স কমিটি অর ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েল্স (বিএইচআরসি) অবিলম্বে জামায়াতে ইসলামীর প্রধান মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছে। গতকাল শুক্রবার দেয়া এক বিবৃতিতে একথা জানানো হয়। 
 
বিবৃতিতে বলা হয়, বিএইচআরসি এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে নিজামীসহ পুরো বিচার প্রক্রিয়ার ত্রুটি, আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ এবং ন্যায্য বিচারের মানদণ্ড রক্ষায় ঘাটতির জন্য সমালোচনা করা হয়েছে। 
এই সংক্রান্ত বিচারের সকল কার্যক্রম ও সাজা স্থগিত করে আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া এবং ন্যায্য বিচারের মানদণ্ড অনুযায়ী স্বাধীন তদন্ত করার জন্য বিএইচআরসি পক্ষ থেকে জোর দাবি জানানো হয়। 
 
বিবৃতিতে বিচার প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ত্রুটি বিচ্যুতি তুলে ধরে বলা হয়, বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে সংঘটিত গণহত্যার বিচারে বিএইচআরসি দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। কিন্তু এটা সম্ভব ন্যায্য বিচারের আন্তর্জাতিক নর্মস এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমে, যে ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার আগে অঙ্গিকারাবদ্ধ ছিল। 
 
৮ জন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞের উদ্বেগ: যুক্তরাজ্যের হাউজ অব লর্ডস এর সদস্য লর্ড কারলাইল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাপরাধ ও বৈশ্বিক অপরাধের বিচারবিষয়ক সাবেক উপ-রাষ্ট্রদূত বেথ ভ্যান স্কাসিক, হার্ভাড ল স্কুলের প্রফেসর এ্যালেক্স উইটিং, ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্পেশাল ইনভ্যাস্টিগেশন টাস্কফোর্স (এসআইটিএফ) প্রধান প্রসিকিউটর ডেভিড স্কাউনডেম্যান, কমনওয়েলথ ল’ইয়ার্স এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মার্ক স্টিফ্যান্স, ইউনিভার্সিটি অল লন্ডনের ক্রিমিনাল ল বিভাগের প্রফেসর কেভিন জন হেলার, ইউনিভার্সিটি অব টরেন্টো এর রিসার্চ ফেলো ড. মার্ক ক্রিস্টান এবং নো পিস ইউদাউট জাস্টিস এর লিগ্যাল কাউন্সেল আলিসন স্মীথ এক যৌথ বিবৃতিতে ১৯৭১ সালে সংঘটিত ঘটনার বিচার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং জাতিসংঘকে আন্তর্জাতিকভাবে তত্ত্বাবধান করার আহ্বান জানান। 
যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, ১৯৭১ সালে সংগঠিত ঘটনার বিচারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড রক্ষা করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে, বিশেষ করে যে সব মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। 
 
তারা বলেন, দীর্ঘস্থায়ী ও ইতিবাচক প্রক্রিয়ার জন্য সব কিছুর ঊর্ধ্বে ন্যায্য বিচারের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং স্বাধীনতা, স্বচ্ছতা এবং সেই সব চুক্তির ধারাকে স্থান দিতে হবে, যেগুলোতে বাংলাদেশ অনুস্বাক্ষর করেছে। কিন্তু ১৯৭১ সালে সংগঠিত ঘটনার বিচারের ক্ষেত্রে বিচারের সেই মানদণ্ড রক্ষা করা হচ্ছে না। তারা বলেন, এসব বিচারের ক্ষেত্রে মানদণ্ড রক্ষা করা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয়। এটা ঠিক ভিকটিমের বিচার পাওয়ার নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি অভিযুক্তকেও যথাযথ ডিফেন্স এবং প্রক্রিয়াগত মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। 
 
বিবৃতিতে তারা বলেন, আমরা জোর সুপারিশ করছি, সকল ট্রায়াল এবং সাজা স্থগিত করে স্বাধীন ও আন্তর্জাতিক রিভিউ করতে হবে। তারা জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক সুপারভিশন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। 
প্রধানমন্ত্রীর কাছে ইউসুফ আল কারযাভীর চিঠি : মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বাতিল করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দিয়েছেন মুসলিম দুনিয়ার প্রখ্যাত আলেম আল্লামা ইউসুফ আল কারযাভী। কাতারে বসবাসরত এই প্রভাবশালী আলেম ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অফ মুসলিম স্কলার'স এর চেয়ারম্যান। 
 
চিঠিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইসলামী আন্দোলন ও দলগুলোর নেতৃবৃন্দ ও ওলামায়ে কিরামকে ৪০ বছর পূর্বের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রেফতার এবং বিচার বিভাগ থেকে তাদেরকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করার ঘটনাটি আমাদেরকে ব্যথিত করেছে। প্রকৃতপক্ষে তাদের অনেকেই সমাজের গণ্যমান্য এবং জাতীয় সংসদের সদস্য এবং মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
 
তিনি বলেন, আব্দুল কাদের মোল্লা, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং বিরোধী দলীয় নেতা সালাহ উদ্দিন কাদেরসহ যাদের ইতোপূর্বে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে এবং জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযম ও নায়েবে আমীর আবুল কালাম ইউছুফ (আল্লাহ তাদের রহম করুন) সহ যারা চিকিৎসার অভাবে জেলখালানায় জীবন হারিয়েছেন; তারাসহ বাংলাদেশের অন্যান্য যত ওলামায়ে কিরাম ও নেতৃবৃন্দ মৃত্যুর প্রহর গুণছেন; - বিশ্ব মুসলিম তাদের সকলের জন্যে সমবেদনা জ্ঞাপন করছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কলারস’ এর বোর্ড অব ট্রাস্টি এবং এর সকল সদস্যদের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি অনুরোধ ও আহ্বান করছি যে, আপনি এই অন্যায় সিদ্ধান্ত ও মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করার জন্যে ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। 
 
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সমাজ ও মুসলমানদের কল্যাণার্থে এই ধরনের আপত্তিকর সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকবেন; যা বিভক্তি নয় বরং ঐক্যের পথে, ধ্বংস নয় বরং নির্মাণের পথে, ভাঙন নয় বরং সমাজ গঠনে সহায়ক হবে।
তিনি কুরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এই ব্যাপারে সতর্ক করেছেন যে, “কাউকে হত্যা অথবা পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কাজ করা হেতু ব্যতীত কেউ কাউকে হত্যা করলে সে যেন দুনিয়ার সকল মানুষকে হত্যা করল।” (সূরা মায়েদা, আয়াত ৩২) আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, ‘কেউ ইচ্ছাকৃত কোন মু’মিনকে হত্যা করলে তার শাস্তি জাহান্নাম; সেখানে সে চিরস্থায়ী হবে এবং আল্লাহ তার প্রতি রুষ্ট হবেন, তাকে অভিশাপ দিবেন এবং তার জন্যে মহা-শাস্তি প্রস্তুত রাখবেন।’ (সূরা নিসা, আয়াত – ৯৩)। নবী কারীম (স) বলেন, ইবনে মাসউদ (রা.) বর্ণনা করেন যে, ‘ কেয়ামতের ময়দানে মানুষের মাঝে সর্বপ্রথম হত্যার বিষয়ে হিসাব নেয়া হবে’। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, ‘ কেয়ামতের ময়দানে নিহত ব্যক্তি তার হত্যাকারীকে আল্লাহর দরবারে ধরে এনে বলবেন, হে রাব্বুল আলামীন তাকে জিজ্ঞাসা করুন, সে কেনো আমাকে হত্যা করেছে? অতএব, ওলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকে এ ধরনের আপত্তিকর সিদ্ধান্ত স্থগিত-করণ এবং রক্তক্ষয়ী বিষয়গুলো এড়িয়ে গিয়ে স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যে উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।
 
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল : জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ড বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। মাওলানা নিজামীর চূড়ান্ত মৃত্যুদণ্ড রায়ের পর সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ আহ্বান জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের উচিত মতিউর রহমান নিজামীর আসন্ন মৃত্যুদণ্ড স্থগিত রাখা এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ব্যাপারে স্থগিতাদেশ আরোপ করা। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট আজ (বৃহস্পতিবার) নিজামীর চূড়ান্ত আবেদন নাকচ করে দেয়।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান প্রধান মতিউর রহমান নিজামীকে অক্টোবর ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি), বাংলাদেশ, মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। তাকে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সংঘটিত হত্যা, ধর্ষণ এবং বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
 
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়ার প্রচারাভিযান পরিচালক, জামিন কর বলেন, সুপ্রীম কোর্টের মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে এ মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার সিদ্ধান্তে আমরা ভীত। একাত্তরের ভয়াবহ মুক্তিযুদ্ধে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি ন্যায়বিচার তাদের প্রাপ্য। কিন্তু এর সাথে সাথে আমরা এটাও বিশ্বাস করি যে মৃত্যুদণ্ড কিছুতেই এই অন্যায়ের জবাব হতে পারে না।
আরেকটা জীবন নিয়ে নেয়া মানে সহিংসতার এ চক্রকে চিরস্থায়ী করা। আমরা বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি পরবর্তী সংকটের কথা বিবেচনায় রেখে অবিলম্বে এই মৃত্যুদণ্ড আরোপে স্থগিতাদেশ ঘোষণা করা হোক।
 
সরকারের দায়িত্ব যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে জবাবদিহি নিশ্চিত করা। এটি অবশ্যই ইতিবাচক সবার জন্য যে এ পথে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে অগ্রসর হয়েছে। কিন্তু অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং জাতিসংঘসহ বেশ কিছু বিশ্বাসযোগ্য প্রতিষ্ঠান আইসিটির বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহ প্রকাশ করেছে। অথচ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সম্পূর্ণ এড়িয়ে গেছে।
জামিন কর আরো বলেন, অতীতের নৃশংসতায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের এ ত্রুটিপূর্ণ বিচারপ্রক্রিয়া দিয়ে ভোলানো ঠিক হবে না। আজকের সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যে বাংলাদেশজুড়ে বিক্ষোভের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সবার উচিত কোনরকম সহিংসতার সৃষ্টি যেন না হয় সে ব্যাপারে সজাগ থাকা।
 
নিরাপত্তা বাহিনীর শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার অধিকারকে সম্মান করতে হবে এবং একই সাথে সব পক্ষের রাজনৈতিক নেতাদের নিশ্চিত করতে হবে মানবাধিকার লংঘন করা থেকে তাদের সমর্থকেরা যাতে বিরত থাকে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে সর্বাবস্থায়। অপরাধ বা অপরাধীর চরিত্র যাই হোক না কেন এ মনোভাবের কোন পরিবর্তন হবে না।
 
প্রতিবেদনে প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে বলা হয়, ২০১৫ সালে বাংলাদেশ কমপক্ষে ১৯৭ জনকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছে। এর মধ্যে চারজন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) মৃত্যুদণ্ডের সাজা পেয়েছে। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ চারজনের মৃত্যুদণ্ডের কার্যক্রম সম্পাদন করেছে।
 
২০১০ সালে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশ যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে ১৯৭১ সালে সংগঠিত মানবাধিকার বিরোধী সকল অপরাধের সাজা প্রদানের জন্য। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সরকারের এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও স্বচ্ছ বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাতে আসল অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয় সে বিষয়ে গুরুত্ব দেয়ার ব্যাপারে বলেছিল।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=233892