Monday, 18th January, 2021
Choose Language:

সর্বশেষ
সংবাদ
হ্যাকিং-এর মাধ্যমে অধিক পরিমাণ অর্থ চুরির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ
১০ মার্চ ২০১৬, বৃহস্পতিবার,
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের নামে রিজার্ভের অর্থ থেকে হ্যাকিং-এর মাধ্যমে ১১০ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৮শত কোটি টাকা চুরি করে হাতিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল ডাঃ শফিকুর রহমান আজ ১০ মার্চ প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের নামে রিজার্ভের অর্থ থেকে হ্যাকিং এর মাধ্যমে ১১০ মিলিয়ন ডলার বা ৮শত কোটি টাকা চুরির ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে এ টাকা উদ্ধারের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। 
 
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের নামে রিজার্ভের অর্থ থেকে ১১০ মিলিয়ন ডলার বা আটশত কোটি টাকা চুরির ঘটনায় ইতোমধ্যেই দেশের জনগণের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ জন কর্মকর্তার পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী জনাব আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রয়োজনে অর্থ উদ্ধারের জন্য মামলা করার কথা বলেছেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকটি ইতোমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে যে, শুধু এই অর্থ নয়, বিপুল পরিমাণ অর্থ খালাশ করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রায় ৩০টি এ্যাডভাইস পাঠানো হয়েছে। যা সত্যি জাতিকে আতংকিত করে তুলেছে। রিজার্ভ ব্যাংকে গচ্ছিত রাখা এই অর্থ প্রবাসী বাংলাদেশীদের ঘাম জড়ানো পরিশ্রম এবং বাংলাদেশের স্বল্প আয়ের পোষাক শ্রমিকসহ বিভিন্ন রপ্তানি শিল্প সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের কষ্টার্জতি অর্থ। অর্থমন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে এর পূর্ণ দায়ভার বহন করতে হবে। 
 
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র- বেহাত হওয়া অর্থের পরিমাণ ১১০ মিলিয়ন ডলার বলে জানিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র- চুরি যাওয়া অর্থের একাংশ উদ্ধার করার কথাও জানিয়েছে। এতো অধিক পরিমাণ অর্থ হ্যাকড হয়ে চুরি যাওয়ার দায়-দায়িত্ব সরকার কিছুতেই এড়াতে পারেন না। 
 
এ সরকারের আমলে ইতোপূর্বেও বাংলাদেশে বহু অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারীর ঘটনা দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। ২০১২ সালে সোনালী ব্যাংকের আড়াই হাজার কোটি টাকা অর্থ কেলেঙ্কারীর ঘটনা ফাঁস হওয়ার কথা সকলেই জানেন। ২০১৬ সালের ৩০ জানুয়ারী প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায় যে, বেসিক ব্যাংকের ৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। হলমার্ক গ্রুপের ৩ হাজার ৬০৬ কোটি ৪৮ লক্ষ টাকা কেলেঙ্কারীর ঘটনা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল। হলমার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় জনতা ব্যাংকের জিএমসহ ৪ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। হলমার্ক কেলেংকারির ঘটনা সম্পর্কে তাচ্ছিলের সাথে অর্থমন্ত্রী জনাব আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছিলেন “এ পরিমাণ টাকা তেমন কিছুই নয়।” সেই সময় হলমার্ক কেলেংকারির সাথে সরকারের একজন উপদেষ্টার সংশ্লিষ্ট থাকার কতা বেরিয়ে আসলেও রহস্যজনক কারণে তাকে রক্ষা করা হয়েছে।

জনতা ব্যাংকেও বহু অর্থ কেলেঙ্কারি ধরা পড়েছে। যার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডঃ আবুল বারাকাত। গত ফেব্রুয়ারী মাসে জনতা ব্যাংকের ২৫১ কোটি টাকার দুর্নীতি ধরা পড়েছে এবং ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বিভিন্ন সময় জনতা ব্যাংকের শত শত কোটি টাকা জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশিত হয়েছে।
 
এ ছাড়াও বহুল আলোচিত শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারির ঘটনা দেশের প্রায় ৩২ লক্ষ শেয়ার ব্যবসায়ীকে পথে বসিয়ে দিয়েছে এবং এই ঘটনার যন্ত্রণা সহ্য করতে না  পেরে কমúক্ষে ৫জন আত্মহত্যা করেছে। গত ফেব্রুয়ারী মাসে রাজধানীর কয়েকটি বেসরকারী ব্যাংকে এটিএম কার্ড জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়েছে। জালিয়াতি চক্রের কয়েকজনকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছিল। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই প্রিমিয়ার ব্যাংক থেকে ৩৪ লক্ষ টাকা ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়ার খবর চলতি মাসের প্রথম দিকে প্রকাশিত হয়েছে। দেশী ও বিদেশী জালিয়াত চক্র এ সব ঘটনার সাথে জড়িত। 
 
দেশবাসী উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সাথে লক্ষ্য করছে যে, উপরে উল্লেখিত অর্থ কেলেঙ্কারির কোন ঘটনারই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হয়নি এবং এসব অর্থ কেলেঙ্কারির নায়কদের বিচারও হয়নি। এ সমস্ত অর্থ কেলেঙ্কারির সাথে সংশ্লিষ্ট, দুর্বৃত্ত এবং নেপথ্যের নায়ক রাঘব বোয়ালরা বরাবরই ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। সরকার সব ঘটনা ধামা চাপা দিয়েছে। এ সব ঘটনার রহস্য সরকার দেশবাসীকে জানতে দেয়নি। সরকারী দলের রাঘব-বোয়ালরা জড়িত থাকার কারণেই কি সরকার এসব অর্থ কেলেঙ্কারি ধামা চাপা দিয়েছে?

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের নামে রিজার্ভের অর্থ থেকে ১১০ মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা কোন রকম ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা যেন না করা হয়। এ ব্যাাপারে একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে হ্যাকডের মাধ্যমে চুরি হয়ে যাওয়া এ অর্থ উদ্ধারের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং এর সাথে জড়িত দেশী-বিদেশী কুচক্রি মহলকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি প্রদানের আহ্বান জানাচ্ছি।”