Friday, 24th January, 2020
Choose Language:

সর্বশেষ
সংবাদ
সেক্যুলার শিক্ষানীতির আলোকে শিক্ষা আইন ২০১৬ প্রণয়নের উদ্যোগের তীব্র প্রতিবাদ
২০ এপ্রিল ২০১৬, বুধবার,
জাতীয় পাঠ্যপুস্তক ও সিলেবাস থেকে ইসলাম এবং মুসলিম ভাবধারা বিলুপ্ত করে সেক্যুলার শিক্ষানীতির আলোকে তড়িঘড়ি করে শিক্ষা আইন ২০১৬ প্রণয়নের সরকারী উদ্যোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল ডাঃ শফিকুর রহমান আজ ২০ এপ্রিল প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলেন, “দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ঈমান-আক্বিদা, ইসলামী শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ ধ্বংস করার হীন উদ্দেশ্যেই সরকার তড়িঘড়ি করে সেক্যুলার শিক্ষানীতির আলোকে শিক্ষা আইন ২০১৬ প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

সরকার শতকরা ৯২ শতাংশ মুসলমানের দেশে ক্ষমতার জোরে সেক্যুলার শিক্ষানীতির ভিত্তিতে আইন প্রণয়ন করে দেশ ও জাতিকে ধ্বংস করার চক্রান্ত শুরু করেছে। সরকার দেশের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের ঈমান-আক্বিদা এবং ইসলামী মূল্যবোধ ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করছে। 

সরকার সেক্যুলারিজমের নামে জাতির ঘাড়ে ধর্মহীন বিজাতীয় শিক্ষানীতি ও শিক্ষা আইন চাপিয়ে দিচ্ছে। জাতিকে ধর্মহীন করার উদ্দেশ্যে দেশের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের ধর্মহীন শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। সরকার দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ধর্মীয় অস্তিত্ব, স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ বিলুপ্ত করার জন্য প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠপুস্তক থেকে ইসলামী ভাবধারার গল্প-কবিতা, প্রবন্ধ এবং ইতিহাস-ঐতিহ্য বাদ দিয়ে পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করছে। উদাহরণ স্বরূপ উল্লেখ করা যায় যে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণিতে ‘সবাই মিলে করি কাজ’ শিরোনামে শেষনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) এর জীবনী ভিত্তিক একটি রচনা ছিল, তা বাদ দেয়া হয়েছে। তৃতীয় শ্রেণিতে প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা.) ও চতুর্থ শ্রেণিতে দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা.) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী ছিল তা বাদ দেয়া হয়েছে। উদাহরণ আর না বাড়িয়ে বলা যায় যে, এভাবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের সকল শ্রেণিতেই ইসলামী মূল্যবোধ এবং ইতিহাস-ঐতিহ্য সমৃদ্ধ বিষয়গুলো পাঠ্যপুস্তক থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। 

ইসলামী মূল্যবোধ ও আদর্শ বিরোধী শিক্ষা যখন সমাজে খুন, ধর্ষণ, হত্যা লূণ্ঠন, মাদকাসক্তি এবং মাদকের সয়লাবসহ পুরোজাতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তখন পাঠ্যপুস্তক থেকে ইসলামী শিক্ষা বাদ দেওয়া নয় বরং ইসলামী নৈতিক শিক্ষার আলোকেই গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোই বর্তমান সময়ের দাবি।  

এভাবে সরকার দেশের জনগণের ঈমান-আক্বিদা ও ইসলামী শিক্ষা এবং সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। সরকারের এ অশুভ পদক্ষেপ জাতি কখনো মেনে নিবে না। সরকারের এ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাঁড়াতে হবে। ইসলাম বিরোধী শিক্ষানীতি ও শিক্ষা আইন ২০১৬-এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য আমি দেশের পীর-মাশায়েখ, ওলামায়ে কেরাম, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও ছাত্র-শিক্ষকসহ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। 

জাতীয় পাঠ্যপুস্তক ও সিলেবাস থেকে ঈমান-আক্বিদা এবং মুসলিম ভাবধারা বিলুপ্ত করার উদ্দেশ্যে তড়িঘড়ি করে সেক্যুলার শিক্ষা আইন ২০১৬ প্রণয়ন করা থেকে বিরত থাকার জন্য আমি সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”