Sunday, 29th March, 2020
Choose Language:

সর্বশেষ
সংবাদ
মাওলানা নিজামীর প্রাণদন্ডের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দেশব্যাপি বিক্ষোভ
৬ জানুয়ারি ২০১৬, বুধবার,
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর সহকারি সেক্রেটারি মুহাম্মদ সেলিম উদ্দীন বলেছেন, সরকার জিঘাংসা চরিতার্থ করতেই রক্তপিপাসু হয়ে উঠেছে। তারা একের পর এক জাতীয় নেতাদের হত্যা করে দেশকে বধ্যভূতিতে পরিণত করেছে। সরকার বিশ্ববরেণ্য আলেমে দ্বীন, প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ও আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করতে করতে চায়। কিন্তু ইসলামপ্রিয় দেশপ্রেমী জনতা সরকারের সে ষড়যন্ত্র কখনোই মেনে নেবে না। তিনি রক্তপিপাশার রাজনীতি পরিহার করে অবিলম্বে আমীরে জামায়াত মতিউর রহমান নিজামীর নিঃশর্ত মুক্তি সরকারের প্রতি আহবান জানান। অন্যথায় আওয়ামী লীগকে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হতে হবে।

তিনি আজ রাজধানীতে আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী প্রাণদন্ডের দন্ডাদেশের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী আয়োজিত এক বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে একথা বলেন। বিক্ষোভ মিছিলটি যমুনা ফিউচার পার্ক থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ড. মুহা. রেজাউল করিম, ঢাকা মহানগরীর মজলিশে শুরা সদস্য মনির আহমদ, সালাহউদ্দীন, হোসাইন আহমদ, মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ, সাইফুল ইসলাম ও মিজানুর রহমান এবং শিবিরের ঢাকা মহানগরী উত্তরের সভাপতি হাসান জারিফ প্রমূখ।

সেলিম উদ্দীন বলেন, সরকার দেশকে নেতৃত্বহীন ও করদরাজ্য বানানোর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবেই মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের নামে জামায়াতের শীর্ষ নতৃবৃন্দকে হত্যা প্রকল্প গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন সময়ে সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা  নিজামী, মুজাহিদ ও সাঈদীকে ফাঁসিতে ঝুলানো হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী গণজাগরণ মঞ্চের দাবি বিবেচনায় নিয়ে রায় দেয়ার জন্য বিচারপতিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের এ ধরনের বক্তব্যে বিচার কার্যক্রমের উপর সরকারের হস্তক্ষেপ স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়। ঘটনার ধারাবাহিকতায় প্রমাণ হয় যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার হীন উদ্দেশ্যেই সরকার দেশী-বিদেশী সকল মহল ও জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার আহ্বান উপেক্ষা করে পরিকল্পিতভাবে আবদুল কাদের মোল্লা, মুহাম্মাদ কামারুজ্জামান ও আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদকে হত্যা করেছে। কিন্তু জুলুম-নির্যাতন, হত্যা-সন্ত্রাস চালিয়ে অতীতে কোন ফ্যাসীশক্তির শেষ রক্ষা হয়নি, আর এ সরকারেরও হবে না। 
 
পল্টন-মতিঝিল জোনঃ 
আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর প্রাণদন্ডের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় পল্টন-মতিঝিল জোনের উদ্যোগ নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি মৌচাক থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মোকাররাম হোসাইন খান। উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরীর মজলিশে শুরা সদস্য শামসুর রহমান, সগীর বিন সাঈদ ও আমিনুর রহমান, মুগদা সেক্রেটারি বনি আমিন, সবুজবাগ সেক্রেটারি আব্দুল বারী, শাহজাহানপুর সেক্রেটারি সাইদুর রহমান, শিবিরের ঢাকা মহানগরী পূর্বের সভাপতি মনিরুজ্জামান শামীম, সেক্রেটারি শরিফুল ও ছাত্রনেতা সোহেল রানা মিঠু প্রমূখ।
 
সমাবেশে অধ্যাপক মোকাররাম হোসাইন বলেন, সরকার বিরোধী দল ধবংসের নীলনকসার অংশহিসাবেই আমীরে জামায়াত মতিউর রহমান নিজামীকে হত্যার গভীর ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। কিন্তু হত্যা, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য চালিয়ে ফ্যাসীবাদী সরকারের শেষ রক্ষা হবে না। তিনি অবিলম্বে আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। অন্যথায় জুলুমবাজ সরকারের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
 
মোহাম্মদপুর-ধানমন্ডি জোনঃ 
আমীরে জামায়াতের মৃত্যুদন্ডাদেশের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে মোহাম্মদপুর-ধানমন্ডি জোন। বিক্ষোভ মিছিলটি মোহাম্মদপুর টাউন হল বাসষ্ট্যান্ড থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন। উপস্থিত ছিলেন মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য মাহফুজুর রহমান, মহানগরী মজলিশে শুরা সদস্য শেখ শরীফ উদ্দীন আহমদ, অধ্যাপক নূরনবী মানিক, আনোয়ারুল হক, মিজানুল হক, মোস্তাফিজুর রহমান, নূরুল ইসলাম আকন্দ, জসিম উদ্দীন ও আব্দুর বারী আকন্দ, দারুসসালাম সেক্রেটারি আহমদ উল্লাহ, ধানমন্ডি সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলী, আদাবর সেক্রেটারি আব্দুল হান্নান, হাজারীবাগ সেক্রেটারি আব্দুর রহমান, নিউমার্কেট সেক্রেটারি মুহিব্বুল হক ফরিদ,  জামায়াত নেতা জামাল উদ্দীন, নওশাদ আলী ও আলাউদ্দীন, শিবিরের ঢাকা মহানগরী পশ্চিমের সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় সেক্রেটারি সাদমান সালেক, ঢাকা কলেজ সেক্রেটারি সৌরভ, জামায়াত নেতা আব্দুল ওয়াজেদ কিরণ, আবু নঈম, আজহার মুন্সী, মামুনুর রশীদ, ছাত্রনেতা ইনামুল হক, মোখলেছুর রহমান, আশরাফুল ইসলাম ফেরদৌস, ইকবাল, হাসান ও আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমূখ।
 
সমাবেশে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন বলেন, সরকার অবৈধ ক্ষমতাকে ধরে রাখতেই দেশকে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছে। সে ধারাবাহিকতায় আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। কিন্তু সে ষড়যন্ত্র জনগণ সফল হতে দেবে না বরং যেকোন মূল্যে তা প্রতিরোধ করবে। তিনি সরকারকে জিঘাংসার রাজনীতি পরিহার করে অবিলম্বে আমীরে জামায়াতে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।
 
যাত্রাবাড়ী জোনঃ 
আমীরে জামায়াতের দন্ডাদেশের প্রতিবাদের যাত্রাবাড়ী জোনের উদ্যোগে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি জুরাইন দয়াগঞ্জ থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগরী মজলিশ শুরা সদস্য আবুল কাসেম। উপস্থিত ছিলেন নেতা নিজামুল হক নাঈম, মহানগরী মজলিশে শুরা সদস্য প্রফেসর এন আহমেদ ও আবু ফতেহ, জামায়াত নেতা প্রফেসর আবু আহমেদ, শিবিরের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি সাদেকবিল্লাহ, জাাময়াত গিয়াস উদ্দীন ও ফরিদ উদ্দীন প্রমূখ।
 
এছাড়াও চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, কুমিল্লা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নোয়াখালী, চাপাইনবাবগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর, বগুড়া, সাতক্ষীরা, দিনাজপুর, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, চাঁদপুর সহ দেশের আরো বিভিন্ন জায়গায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করেছে জামায়াত