Friday, 21st February, 2020
Choose Language:

সর্বশেষ
সংবাদ
দুর্বল সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সাজা দেয়া ঠিক নয় -খন্দকার মাহবুব হোসেন
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, বৃহস্পতিবার,
জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীর প্রধান কৌঁসুলি ও সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, দুর্বল সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কাউকে সাজা দেয়া ঠিক হবে না। তার বিরুদ্ধে সরাসরি অপরাধে জড়িত থাকার কোন অভিযোগ নেই। শেখানো সাক্ষীরাও বলতে পারেননি তিনি কোথাও ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন।
আপিলের শুনানির পর নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে খন্দকার মাহবুব হোসেন এ কথা বলেন। এসময় মীর কাসেম আলীর আইনজীবী এডভোকেট এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার তানভির আহমেদ আল আমীন ও মীর আহমাদ বিন কাসেম উপস্থিত ছিলেন।
খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে অতীতে কখনও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ করা হয়নি। হঠাৎ করেই তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য এ সব অভিযোগ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সরাসরি অপরাধে জড়িত থাকার কোন অভিযোগ নেই। শেখানো সাক্ষীরাও বলতে পারেননি তিনি কোথাও ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন।
খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আলোচিত জসিম উদ্দিন হত্যার বিষয়ে তার বোন সাক্ষ্য দিয়েছেন। তার  বোন স্বীকৃতি পত্রিকার সম্পাদক। মীর কাসেমের বিরুদ্ধে তিনি সাক্ষ্য দিলেও স্বাধীনতার পর ৪০ বছরে তার নিজের পত্রিকাতেও কখনও তিনি জসিম হত্যায় মীর কাসেমের জড়িত থাকার কথা বলেননি।
তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট শফিউল আলমের লেখা বই প্রসিকিউশন আদালতে উপস্থাপন করেছে। কিন্তু ওই বইয়ের কোথাও মীর কাসেম আলীর নাম নেই। ডালিম হোটেলের ঘটনায় তার জড়িত থাকার কথাও বইয়ের কোথাও বলা হয়নি।
খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, নিহত জসিম উদ্দিনের ভাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। এই হত্যাকা-ে মীর কাসেম আলী জড়িত থাকলে তিনি সাক্ষ্য দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। জসিম কখন কোথায় মারা গেছেন তার কোন সাক্ষ্য-প্রমাণ নেই।
খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আইনগতভাবে সাক্ষ্য-প্রমাণ না থাকায় এ মামলায় বেনিফিউ অব ডাউটের সুবিধা পেতে পারেন মীর কাসেম আলী। এ সব যুক্তিতর্কের ভিত্তিতে তিনি মীর কাসেম আলীর বেকসুর খালাসের আরজি জানিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, আদালত বলেছে প্রসিকিউশন সঠিকভাবে তদন্ত করতে পারেনি। সঠিকভাবে তদন্ত না হলে পুনর্বিচার হতে পারে। অথবা আসামী খালাস পেতে পারেন। দুর্বল সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কাউকে শাস্তি দেয়া ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
খন্দকার মাহবুব বলেন, প্রসিকিউশন পক্ষে যুক্তিতর্কে বলা হয়েছে মীর কাসেম আলী ছাত্রসংঘের সভাপতি ছিলেন এবং সেই সূত্রে আলবদরের কর্মকা-ে জড়িত ছিলেন। কিন্তু মীর কাসেম আলবদরের সাথে জড়িত ছিলেন না। আলবদরের তালিকার কোথাও তার নাম নেই।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=225317