Thursday, 06th August, 2020
Choose Language:

সর্বশেষ
সংবাদ
আপনাদের ডকুমেন্টেই রয়েছে, ঘটনার সময় মীর কাসেম আলী ঢাকা ছিলেন : অ্যাটর্নি জেনারেলকে আদালত
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, বুধবার,
মীর কাসেম আলীসহ যুদ্ধাপরাধের অন্যান্য মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও তদন্ত সংস্থার অদক্ষতা, অযোগ্যতা এবং দুর্বলতার জন্য তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। 
 
জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীর আপিল শুনানিতে গতকাল রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম যুক্তি পেশ করার সময় আদালত এ অসন্তোষ প্রকাশ করেন। প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা রাষ্ট্রপক্ষের মামলা পরিচালনায় খুবই মর্মাহত। মামলার এভিডেন্স দেখলে, এগুলো পড়লে আমাদের খুব কষ্ট লাগে। মামলাগুলো যখন আমরা পড়ি তখন আমাদের গা ঘিনঘিন করে তাদের মামলা পরিচালনা দেখে। সব মামলায়ই এটা হয়ে আসছে। 
এরপর প্রধান বিচারপতি অ্যাটর্নি জেনারেলকে বলেন, এত হাফ হার্টেড হয়ে আপনারা মামলা চালান কেন?
 
প্রধান বিচারপতি বলেন, প্রসিকিউশন, তদন্ত সংস্থার পেছনে রাষ্ট্রের লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ হচ্ছে। কিন্তু তারা এসব কি মামলা পরিচালনা করছে? ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা শুধু ব্যস্ত টিভিতে চেহারা দেখানো নিয়ে। তারা দামি দামি গাড়ি চড়েন আর পুলিশের হুইসেল দিয়ে ঘুরে বেড়ায়। 
গতকাল রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের শুরুতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে ২ নম্বর অভিযোগ বিষয়ে যুক্তি পেশ করেন। ২ নম্বর অভিযোগে রাষ্ট্রপক্ষের মাত্র একজন সাক্ষীর সাক্ষ্য রয়েছে। 
 
এ সময় আসামিপক্ষ আদালতকে বলেন, সাক্ষীর বক্তব্যের সমর্থনে (করোবোরেশন) আর কোনো সাক্ষী হাজির করেনি।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, করোবোরেশন নেই বলে সাক্ষীর সাক্ষ্য অবিশ্বাস করা যায় না। 
 
তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনার দায়িত্ব হচ্ছে অভিযোগ প্রমাণ করা। সারা চট্টগ্রামে এ একজন ছাড়া আর কোনো সাক্ষী পেলেন না? এ রকম হাফ হার্টেড মামলা চালান কেন আপনারা? এমন যদি দেখা যেত যে, বিরূপ পরিস্থিতি বিরাজমান তাহলে একটা কথা ছিল। কিন্তু এখন নিজেদের সরকার ক্ষমতায়। চাইলে আপনি প্রটেকশন দিতে পারতেন। সেখানে কেন সাক্ষী আনতে পারবেন না? যখন অন্য সাক্ষী আনার সম্ভাবনা রয়েছে, রুল অব ল বলছে অন্য সাক্ষী দরকার। 
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, মাই লর্ড এই লোকটা নির্যাতনে পুরুষত্বহীন হয়ে গেছে। তার বেঁচে থাকার আর কি অর্থ আছে? 
 
এ পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তাদের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আর সাক্ষী আনেন নাই কেন? প্রসিকিউশন করে কি? ইনভেস্টিগেশন অ্যাজেন্সি করে কি? দামি দামি গাড়ি চড়েন খালি। আমাদের এখানে একজন জজ সাহেব যা বেতন পান তার চেয়ে তিন গুণ বেশি ফিস দেন তাদেরকে। এগুলো কি মশকরা করার জন্য? এত আইনজীবী লাগে কেন? এরা সবাই পুলিশের গাড়ি আর হুইসেল দিয়ে ঘুরে বেড়ায় এই ধরনের মামলা পরিচালনার জন্য?
এ সময় তিনি জানতে চান প্রসিকিউশনে রাষ্ট্রপক্ষে কতজন আইনজীবী এবং তদন্ত সংস্থায় কতজন তদন্ত কর্মকর্তা আছে। 
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আমার জানা নেই। 
 
প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনারা যেভাবে মামলা চালান, যেভাবে মামলা তদন্ত করেন তাতে আমরা শকড। আমরা যখন মামলাগুলো পড়ি তখন আমাদের গা ঘিনঘিন করে রাষ্ট্রপক্ষের মামলা পরিচালনা দেখে। এসব অদক্ষ অফিসার রাখেন কেন আপনারা? একজন সাক্ষীও করোবোরেশন এর জন্য আনবেন না? 
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, ট্রাইব্যুনাল, প্রসিকিউশন এবং ইনভেস্টিগেশন অ্যাজেন্সি যেভাবে এ মামলা পরিচালনা করেছে তাতে আমরা খুবই শকড। 
‘আপনাদের ডকুমেন্টেই দেখা যায় ঘটনার সময় মীর কাসেম আলী ঢাকা ছিলেন’ : অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম গতকাল মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে যুক্তি উপস্থাপনের সময় একটি অভিযোগ থেকে পড়ে শোনান যার ঘটনাকাল ১৯৭১ সালের ২৪ নভেম্বর। তখন আদালত তাকে প্রশ্ন করেন, আপনাদের ডকুমেন্টেই তো রয়েছে উনি ২৩ নভেম্বর ঢাকায় ছিলেন। 
 
তখন মাহবুবে আলম বলেন, ঢাকার বাইরে অবস্থান করেও পত্রিকায় বিবৃতি দেয়া যায়। ২৪ নভেম্বর পত্রিকায় বিবৃতি প্রকাশিত হলে তার মানে এই নয় যে, তিনি ২৩ নভেম্বর ঢাকায় ছিলেন। এটা যেকোনো স্থান থেকে দেয়া যায়। এটা কোনো বিষয় নয়। 
 
তখন আদালত অ্যাটর্নি জেনারেলকে বলেন, মনে রাখবেন তখন নভেম্বর মাস। পরিস্থিতি খেয়াল করবেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিধ্বস্ত। ব্রিজ কালভার্ট প্রায় সব ধ্বংস হয়ে গেছে। মুক্তিযোদ্ধারা জেঁকে বসেছে প্রায় সবখানে। এয়ার সার্ভিসও তখন বন্ধ। দেশের ভেতরে যাদের দূরের পথে যাতায়ত করতে হত তাদের ভেঙে ভেঙে যেতে হতো। ট্রেন কিছু দূর গিয়ে থেমে যেত। নৌকায় পার হতে হতো। তা ছাড়া মিডিয়াও এত শক্তিশালী ছিলনা যে, ঢাকার বাইরে থেকে যেকোনো মুহূর্তে যেকোন কিছু পাঠানো যেত। 
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে ৫ সদস্যের আপিল বেঞ্চ শুনানি গ্রহণ করেন। আজ এ মামলায় শুনানি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। 
শুনানিতে মীর কাসেম আলীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন, এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার তানভির আহমেদ আল আমিন, ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম প্রমুখ। - See more at: http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/96381#sthash.VjPLqKFs.dpuf