Friday, 21st February, 2020
Choose Language:

সর্বশেষ
সংবাদ
২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও মহান ভাষা দিবস’ উপলক্ষ্যে জামায়াতের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল
২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, রবিবার,
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী সেক্রেটারি নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, ‘৫২’র ভাষা শহীদরা মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় তারা যে আত্মোৎস্বর্গের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন তা বিশ্ব ইতিহাসে বিরল । তিনি ভাষা শহীদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং শহীদদের পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
তিনি আজ রাজধানীর একটি মিলনায়তনে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচীর অংশ হিসাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী আয়োজিত ‘২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও মহান ভাষা দিবস’ উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে একথা বলেন। আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগীর কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুস সবুর ফকির, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. আব্দুস সামাদ, ড. আব্দুল মান্নান ও নেতা নিজামুল হক নাঈম প্রমূখ।
নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, মহান একুশের চেতনায় স্বাধীনতার আন্দোলনের উন্মেষ ঘটে। ১৯৭১ সালে মুক্তিসংগ্রামের মাধ্যমে তা পূর্ণতা লাভ করে। মূলত ভাষা আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম নেতৃত্বাধীন তমুদ্দন মজলিশের মাধ্যমে। ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহও মহান ভাষা আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। ডাকসুর সাবেক জিএস অধ্যাপক গোলাম আযম ছিলেন ভাষা আন্দোলেনর অন্যতম পরোধা। তিনি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ডাকসুর জিএস হিসাবে লিয়াকত আলীর খানের কাছে স্মারকলিপি পেশ করেছিলেন। মূলত ইসলমপন্থীরাই ছিলেন ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্বে। কিন্তু মহলবিশেষ ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস বিকৃত করে প্রকৃত ভাষা সৈনিকদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়ার পরিবর্তে বামপন্থী ও সরকারের প্রতি আনুগত্যশীলদের মূল্যায়ন করছে। মূলত যে জাতি গণিজনের কদর করে না, সে জাতির মধ্যে গণিজন জন্মায়ও না এবং সে জাতি আত্মনির্ভরশীল ও আত্মমর্যাদাবন জাতি হিসাবে মাতা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না। তাই দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে মহান ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে বিকৃতি রোধ এবং প্রকৃত ভাষা সৈনিকদের যথাযথ সন্মান প্রদর্শনের কোন বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারি আসলেই বাংলা ভাষার মর্যাদা সম্পর্কে অনেক কথায় বলা হয়। কিন্তু ভাষার উৎকর্ষ ও বিকাশ সাধনে কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে বাংলা ভাষা রাষ্ট্রীয় মর্যাদা লাভ করলেও রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে এখনও বাংলা ভাষার প্রচলন করা সম্ভব হয়নি। দেশের আইন-আদালত, চিকিৎসা শাস্ত্র, আইন, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিষয়ক প্রকাশনাগুলো এখনও বাংলা ভাষায় রচনা বা অনুবাদ করা হয়নি। ফলে উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা এখনও উপেক্ষিত। মূলত ভাষা ও সংস্কৃতি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু আমরা বিদেশী ভাষা ও সংস্কৃতিতে ক্রমেই অভ্যস্ত হয়ে উঠছি। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে তা রীতিমত ফ্যাসনে পরিণত হয়েছে। যা আমাদের ভাষা, সমাজ ও সংস্কৃতির সাথে সম্পূর্ণ সঙ্গতিহীন। তিনি সকলকে এই হীনমন্যতার পরিহার করার আহবান জানান।
 
তিনি আরও বলেন, মূলত ভাষা আন্দোলনের চেতনা স্বাধীনাতা, মানবাধিকার ও সাম্যের চেতনা। কিন্তু স্বাধীনাতার ৪ দশক অতিক্রন্ত হলেও আমরা সে লক্ষ্যে এখন পৌছতে পারিনি। বিজাতীয় আগ্রাসনে আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতি আজ অরক্ষিত। তাই মায়ের ভাষা ও নিজস্ব সংস্কৃতি রক্ষায় আমাদেরকে ঐক্যদ্ধ হতে হবে। মূলত একুশের চেতনা ধারণ করেই দেশ থেকে  স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ ও অগণতান্ত্রিক শক্তিকে রুখে দিয়ে দেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন, সাম্য ও মৈত্রী প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মহান একুশের দিনে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
আলোচনা সভা শেষে ভাষা শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুর রহমান মুসা বলেছেন, মহান একুশের চেতনা আমাদেরকে স্বাধীকার আন্দোলনের প্রেরণা দিয়েছিল। কিন্তু মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় আমাদের দামাল ছেলেরা ত্যাগ ও কোরবানীর দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেও বাংলা ভাষাকে আজও যথাযথ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হয়নি। তাই বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং তাদের শাহাদাত কবুলের জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার দরদারে দোয়া করেন।
তিনি আজ রাজধানীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর কাফরুল থানা আয়োজিত মহান ভাষা দিবসের আলোচনা সভা ও দোওয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। থানা আমীর অধ্যাপক আনোয়ারুল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াত নেতা আব্দুল মতিন খান, ওয়াহিদুর রহমান তপন, শামসুর রহমান খান, আবুল বাশার ও মাসুমবিল্লাহ প্রমূখ।
আব্দুর রহমান মুসা বলেন, মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় আত্মোৎস্বর্গের ঘটনা বিশ্বের ইতিহাসে নজীবিহীন। তাই আমাদের এই বীরশহীদদের সম্মানে ২১ ফেব্রুয়ারিকে জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসাবে ঘোষণা করেছে। যা বিশ্ব দরবারে আমাদেরকে সম্মানিত ও গর্বিত করেছে। কিন্তু আমাদের উদাসীনতার কারণেই বাংলা ভাষা আজও সকল ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত। দেশের উচ্চ আদালতে এখনও বাংলা ভাষার প্রচলন করা সম্ভব হয়নি। শিক্ষার মাধ্যমকেও এখনো পুরোপুরি বাংলা করা যায়নি। তাই মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় এবং ভাষাশহীদদের সম্মানে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। 
উত্তরা পশ্চিমঃ
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস  উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর উত্তরা পশ্চিম থানার উদ্যোগে  আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন থানা সেক্রেটারী আব্দুল্লাহ রেজা, থানা শূরা কর্মপরিষদ সদস্য সানু এবং ফারুক, মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা আবু সাঈদ, আরো উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীর, তাজ ও হাবিব প্রমূখ।
উত্তরখান থানা ঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী  উত্তর খান  থানার উদ্যোগে সকাল ১০.০০ টায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা করেন থানা সেক্রেটারী ও নায়েবে আমির ইফতেখার মোহাম্মদ আকন্দ প্রমূখ।
তুরাগ থানাঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী  তুরাগ  থানার উদ্যোগে সকাল ৭.০০ টায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা করেন থানা সেক্রেটারী এস আর মোল্লা, থানার কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুল হান্নান পাটওয়ারী, সাইফুর রহমান ও খলিলুর রহমান প্রমূখ।
উত্তরা পূর্ব ঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী  উত্তরা পূর্ব  থানার উদ্যোগে সকাল ১০ ঘটিকায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা রাখেন থানা আমীর এ্যাড. বেলায়েত হোসাইন সুজা, শুরা কর্মপরিষদ সদস্য দপ্তর সেক্রেটারী মাহবুবুর রহমান ফেরদৌসি এবং রুহুল আমিন, সাইফুল ইসলাম প্রমূখ। দোয়া অনুষ্ঠানে মোনাজাত পরিচালনা করেন থানা আমির।
বিমানবন্দর থানা ঃ
মহান ভাষা দিবস উপলক্ষ্যে বিমানবন্দর থানার উদ্যোগে নগরীতে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন থানা আমীর মাওলানা মুহিŸবুল্লাহ। উপস্থিত ছিলেন জামায়াত নেতা এনামুল হক শিপন, আবুল হাসেম, মাহবুবুল আলম দিদার ও শামীম হোসাইন প্রমূখ।