Tuesday, 19th September, 2017
Choose Language:

সর্বশেষ
সংবাদ
মুসলমানদের কুরবানী করার ক্ষেত্রে কৌশলে বাধা সৃষ্টির এখতিয়ার কোন সরকারের নেই
১২ আগস্ট ২০১৫, বুধবার,
যানজট ও পরিবেশ দুষণের কথা বলে পবিত্র ঈদুল আজহায় পশু কুরবানী করার ব্যাপারে কৌশলে বাধা সৃষ্টির প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল ডাঃ শফিকুর রহমান আজ ১২ আগস্ট ’১৫ নি¤েœাক্ত বিবৃতি প্রদান করেছেনঃ-
“প্রতি বছরই পবিত্র ঈদুল আজহায় বাংলাদেশে ধর্মপ্রাণ সামর্থবান মুসলমানগণ স্বাচ্ছন্দের সাথে এদেশের চিরাচরিত নিয়ম ও ঐতিহ্য অনুযায়ী পশু কুরবানী করে আসছে। কিন্তু আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, সরকার ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনসহ সকল সিটি কর্পোরেশন এবং পৌরসভায় যানজট সৃষ্টি ও পরিবেশ দুষণের কথা বলে ঈদুল আজহা উপলক্ষে মানুষের পশু কুরবানী করার ধর্মীয় অধিকার সংকুচিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে কুরবানীর পশুর হাটের সংখ্যা কমিয়ে তা এমন স্থানে করা হয়েছে যেখানে যাতায়াত করা মানুষের জন্য সহজ সাধ্য নয়। যে সব স্থানে সরকার পশুর হাট বসানোর পরিকল্পনা করছে সে সব জায়গায় সাধারণ লোকের জন্য যাতায়াত করা অত্যন্ত কঠিন হবে। মানুষ যাতে কুরবানীর পশু সহজে ক্রয় করতে পারে সে জন্য অস্থায়ীভাবে সিটি কর্পোরেশনের পশুর হাটের সংখ্যা বৃদ্ধি করে তা এমনস্থানে বসানো উচিত যেখানে মানুষ সহজে পশু ক্রয়ের জন্য যাতায়াত করতে পারে।
যেখানে মানুষ পশু ক্রয় করতে সহজে যাতায়াত করতে পারবে না এমন দূরবর্তী স্থানে পরিবেশ দুষণ ও যানজট সৃষ্টির অজুহাতে পবিত্র কুরবানীর পশুর হাট বসানোর সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। প্রতি বছরই জনগণ সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার পশুর হাট থেকে পশু ক্রয় করে বাড়ী নিয়ে স্বাচ্ছন্দের সাথে কুরবানী করছে। কিন্তু কোথাও তেমন কোন যানযট সৃষ্টি বা পরিবেশ দুষণ হয়নি। এবার এমন কি সমস্যা সৃষ্টি হলো যে সরকার নতুন নতুন নিয়ম-কানুন চালু করলেন? দেশের জনগণ এখন অনেক বেশী পরিবেশ ও যানজট সম্পর্কে সচেতন। কাজেই পুরানো ঐতিহ্য অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন স্থানে পশুর হাট চালু থাকলে তাতে কোন সমস্যা হবে না। তবে সরকার ও জনগণ সকলকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে আরো সতর্ক ও যতœবান হতে হবে।
পূর্ব থেকেই শহরের জনগণ যেভাবে নিজেদের সুবিধামত স্থানে কুরবানীর পশু জবাই করে এবং দরিদ্র লোকদের মধ্যে সৌহার্দ্যরে সাথে গোস্ত বিলি বন্টন করে আসছে সে নিয়মই চালু রাখা প্রয়োজন। সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট কোন স্থানে পশু কুরবানীর ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত বাস্তব সম্মত নয় বিধায় তা কার্যকর করা সম্ভব হবে না। এতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে এবং পশু কুরবানী করা বিঘিœত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কুরবানীর পশুর বর্জ্য জনগণ নিজেরাই পরিষ্কার করে এবং সিটি কর্পোরেশনকে সবসময় সহযোগিতা করে আসছে। সরকারকে মনে রাখতে হবে যে কুরবানী করা প্রত্যেক সামর্থবান মুসলমানের জন্য ওয়াজিব ইবাদত। এতে বাধা সৃষ্টি করা গর্হিত অপরাধ। মুসলমানদের কুরবানী করার ক্ষেত্রে কৌশলে বাধা সৃষ্টির এখতিয়ার কোন সরকারের নেই।
কাজেই দেশের জনগণের ধর্মীয় কর্তব্যের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে কুরবানী করার ক্ষেত্রে কৌশলে বাধা সৃষ্টি না করে এদেশের জনগণ যাতে দীর্ঘদিন যাবত চলে আসা ঐতিহ্য অনুযায়ী পবিত্র ঈদুল আজহায় স্বাচ্ছন্দের কুরবানী করতে পারেন সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”