২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, শুক্রবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
হাজার হাজার মানুষ হত্যার অভিযোগ আনা হলেও কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে একটিও সুনির্দিষ্ট নয়: শুনানিতে ফরিদ উদ্দিন খান
৯ এপ্রিল ২০১২, সোমবার,
Sunday, 01st April, 2012
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে সরকার পক্ষের আনীত ১৯৭১ সালের কথিত মানবতা বিরোধী অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দানের আবেদনের শুনানি শুরু হয়েছে। তার পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট ফরিদ উদ্দিন খান গতকাল অব্যাহতি আবেদনের লিখিত অংশ পড়ে শুনান। আগামী ৯ এপ্রিল মৌখিক শুনানি করবেন ডিফেন্স টিমের প্রধান কৌঁসুলী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক। গতকালের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে মিরপুর ও কল্যাণপুরে হাজার হাজার মানুষ হত্যার অভিযোগ আনা হলেও তার একটিও সুনির্দিষ্ট নয়। সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগই তার বিরুদ্ধে নেই। সব অভিযোগই ভেক।
ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দলনের জন্য জামায়াত নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। এর একটিরও ভিত্তি নেই। এই ট্রাইব্যুনাল সরকার গঠন করেছেই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য। এই ট্রাইব্যুনালের যেসব মান বজায় রাখা দরকার ছিল মার্কিন যুদ্ধাপরাধ বিষয়ক রাষ্ট্রদূত স্টিফেন জের্ যাপ সে বিষয়ে ১০টি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করেছিলেন। তার কোন সুপারিশই বাস্তবায়ন করা হয়নি। এখন প্রতিপক্ষকে অভিযুক্ত করার জন্য যেভাবে যা করা দরকার তাই করা হচ্ছে।র্
যাপ প্রসঙ্গে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, রাস্তায় কে কি বললো তাই শুনতে হবে। প্রেস ক্লাবে প্রতিদিন কত বক্তব্য হচ্ছে। আমাদের কি তাই শুনতে হবে। আর ঐসব বক্তব্য কি আপনি ডিসচার্জ পিটিশনে আনবেন? সরকারের অনেকে অনেক কিছু বলছে। আমরা কি সব শুনছি। জবাবে ফরিদ উদ্দিন খান বলেন,র্ যাপকে সরকারই দাওয়াত দিয়ে এনেছিল। অথচ তার সুপারিশ রাখা হয়নি। তিনি বলেন, মিরপুর, কল্যাণপুরে হাজার হাজার মানুষ হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে। কিন্তু একটিও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। কখন, কবে, কাকে, কোথা থেকে ধরে নিয়ে কোথায় হত্যা করেছে এমন সুনির্দিষ্ট একটি অভিযোগও নেই। তিনি বলেন, ২৬০০ পৃষ্ঠারও বেশি ডকুমেন্ট দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে কাদের মোল্লা সম্পর্কে কথা আছে মাত্র ১ পৃষ্ঠায়। বাকি সবই হয় ইতিহাস না হয় গালগল্প বা রটনা।
ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান তাকে প্রশ্ন করেন হিরোশিয়াম পারমাণবিক বোমা হামলা হয়েছে। লক্ষাধিক মানুষ মারা গেছে। কারো নাম নেই। তাই বলে কি অভিযোগ আকারে আনা যাবে না। উত্তরে ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, এই ট্রাইব্যুনাল ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগুলোরই বিচার করতে পারে এবং শাস্তি দিতে পারে।
২০০৯ সালের আইন দিয়ে ১৯৭১ সালের অপরাধের বিচার করা যাবে না মর্মে ফরিদ উদ্দিন খানের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বিচারক আনোয়ারুল হক প্রশ্ন করেন তাহলে কি \'৭১-এর ঘটনাবলীর বিচারের জন্য তার আগেই আইন করা দরকার ছিল। উত্তরে ফরিদ বলেন, ২০০৯ সালের পাসকৃত আইনে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে \'ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।\' এর অর্থই হলো এই আইনটি গেজেট আকারে প্রকাশ হওয়ার পরের ঘটনাবলীর জন্য প্রযোজ্য হবে।