২৮ মে ২০২০, বৃহস্পতিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
জামায়াতকে নিশ্চিহ্ন করতেই মুজাহিদসহ নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে: শুনানিতে ব্যারিস্টার আহসান
৯ এপ্রিল ২০১২, সোমবার,
Monday, 02nd April, 2012
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ১৯৭১ সালে একজন অতিসাধারণ ছাত্রনেতা ছিলেন। আল বদরের সেকেন্ড ইন কমান্ড হওয়া তো দূরের কথা তিনি আল বদর বাহিনীর সদস্যও ছিলেন না, তার বিরুদ্ধে আনীত একটি অভিযোগেরও ন্যূনতম সত্যতা নেই। তিনি যদি জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল না হতেন তাকে আজ ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হতো না। মূলত জামায়াতে ইসলামীকে নিশ্চিহ্ন করতেই এই দলের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মিথ্যা, কাল্পনিক অভিযোগ আনা হয়েছে।
১৯৭১ সালের পরে তিনি ফরিদপুরে নিজ বাড়িতেই ছিলেন। যদি \'৭১ সালে কোনো অপরাধ করতেন তাহলে তৎকালীন সরকার অবশ্যই তাকে গ্রেফতার করে আইনগত ব্যবস্থা নিতেন। বিগত ৪০ বছরে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ কেউ করেনি এ থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায় যে, বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই অন্যান্য জামায়াত নেতৃবৃন্দের ন্যায় আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের বিরুদ্ধেও মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।
আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে সরকার পক্ষ আনীত অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দানের আবেদনের ওপর শুনানিতে গতকাল সোমবার এসব কথা ট্রাইব্যুনালে বলেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার মুনশী আহসান কবির। সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র এডভোকেট নজরুল ইসলাম এ সময় উপস্থিত ছিলেন। আগামী ১১ এপ্রিল পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে আটক মুজাহিদকে গতকাল সকালে ট্রাইব্যুনালে নিয়ে আসা হয়। তার উপস্থিতিতে অব্যাহতি আবদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ২টার দিকে তাকে পুনরায় নারায়ণগঞ্জ কারাগারের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।
মুনশী আহসান কবির বলেন, প্রসিকিউশন ১৯৭১ সালের ১১ আগস্ট দৈনিক সংগ্রামের একটি কাটিং দেখিয়েছে যাতে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের বিবৃতি ছাপা হয়েছে। তার আগে তিনি সংবাদপত্রে কোনো বিবৃতি দেননি যা তার নামে কোনো নিউজ ছাপা হয়নি। এর অর্থ এই দাঁড়ায় যে, ১১ আগস্টের আগে তিনি কাউকে কোনো নির্দেশ দেননি। ১১ আগস্টের বিবৃতিতেও তিনি কাউকে হত্যা করতে, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ বা মানবতাবিরোধী কোনো অপরাধ সংঘটনে নির্দেশ দিয়েছেন এমন কোনো কথা উল্লেখ নেই। ঐ সময় সংগ্রামসহ সব পত্রিকার ওপরও সেন্সর ছিলো। ফলে সব কিছু ছাপা হতো না। শুধুমাত্র সরকারের পছন্দমত অংশটুকই ছাপা হতো। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের জানুয়ারিতে মুজাহিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে ভর্তি হন। মার্চেই যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। এই ২ মাসে তিনি তো ঢাকা শহরই ভালো করে চিনতেন না।
তিনি বলেন, ইসলামী ছাত্রসংঘ কোনো অঙ্লিারী ফোর্স ছিলো না। সারাদেশে তখন কোনো যোগাযোগ ব্যবস্থাই ছিলো না। অথচ একদিন রংপুর গিয়ে ছাত্রসংঘের সভায় বক্তৃতা করা এবং পরের দিন বগুড়ায় বক্তৃতা করা একদিন পরে ফরিদপুরে প্রোগ্রাম করা তখনকার প্রেক্ষাপটে বাস্তবসম্মত নয়।
মুনশী আহসান আরো বলেন, মুজাহিদের বাপ মাওলানা আব্দুল আলী ঐ সময় ফরিদপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ছিলেন এবং পিস কমিটির সদস্য ছিলেন। তা সত্ত্বেও তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে এমন কিছু কাজ করেছেন যে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দই তাকে ছেড়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ করে। ফলে শেখ মুজিব তাকে ছেড়ে দেয়। ফরিদপুর জেলা পরিষদে শেখ মুজিবুর রহমানের পাশাপাশি তার ছবি রয়েছে। ফরিদপুর শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নামকরণ তার নামে করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভূমিকার কারণে তিনি পুরস্কৃত হয়েছেন। আর তার ছেলে মুজাহিদ আল বদর বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে এই আমলে এসে যা সম্পূর্ণ বানোয়াট। সেই ফরিদপুরে যুদ্ধ চলাকালে তিনি ৬০ জনকে হত্যা করলেন এটা কি করে সম্ভব।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ একবারই ফরিদপুর গিয়েছেন। আর সেটা ছিলো যে সময়ের অভিযোগ আনা হয়েছে তার আগে।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিলো। \'৭১ সালে কোনো অপরাধ করলে মুজাহিদকে নিশ্চয়ই তারা গ্রেফতার করতো, মামলা করতো, বিচার করতো। কিন্তু বিগত ৪০ বছরে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা, অভিযোগ বা জিডিও হয়নি। ৭টি বছর তিনি শেখ হাসিনার সাথে রাজনৈতিক লিয়াজোঁ করেছেন। তখনও তো শেখ হাসিনা বলেননি যে, তোমার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আছে। তিনিও তো বৃহত্তর ফরিদপুরের মেয়ে।
তিনি বলেন, সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ৩৭ হাজার ব্যক্তির বিরুদ্ধে দালাল আইনে মামলা হয়েছিলো। ফরিদপুরে ২৯৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। তার মধ্যে মুজাহিদের কোনো নাম ছিলো না। তিনি \'৭১ সালে কোনো অপরাধ করলে যুদ্ধের পরে ফরিদপুর নিজ বাড়ীতে থাকতে পারতেন না। মুক্তিযুদ্ধের ওপর হাজারো বই লেখা হয়েছে। ফরিদপুরের মুক্তিযুদ্ধের ওপরই অন্তত ৫টি বই লেখা হয়েছে। তার কোনোটিতেই মুজাহিদের নাম নেই।