১৫ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
দ্বিতীয় সাবমেরিন কেব্ল, বিএসসিসিএলের নতুন কারসাজি
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার,
দ্বিতীয় সাবমেরিন কেব্লের সঙ্গে সারা দেশকে যুক্ত করতে অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো নির্মাণকাজের শুরু থেকেই অনিয়মের অভিযোগ উঠে * এখন পর্যন্ত কুয়াকাটার ল্যান্ডিং স্টেশনের সঙ্গে ঢাকাসহ সারা দেশকে সংযুক্ত করার কাজ শেষ হয়নি। কর্তৃপক্ষ ২১ ফেব্রুয়ারি এটি উদ্বোধন করা হয়েছে বলে দাবি করছে।
দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন কেব্লের (এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৫) উদ্বোধন নিয়ে কারসাজি শুরু করেছে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্ল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল)। এসইএ-এমই-ডব্লিউই ৫ সাবমেরিন কেব্ল কনসোর্টিয়ামের তথ্য বলছে, আন্তর্জাতিকভাবে গত ১৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ের হনলুলুতে এটি উদ্বোধন করা হয়েছে। অথচ বিএসসিসিএল বলছে, ২১ ফেব্রুয়ারি তুরস্কে এটি উদ্বোধন করা হয়েছে।
এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৫ হলো ১৯টি টেলিযোগাযোগ সংস্থার যৌথ উদ্যোগে সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে তৈরি একটি কেব্ল বা তার। কনসোর্টিয়ামের সদস্য হিসেবে বিএসসিসিএল এই কেব্লের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় একটি ল্যান্ডিং স্টেশন তৈরি করেছে। ল্যান্ডিং স্টেশন পর্যন্ত সাবমেরিন কেব্লটির সংযোগ এলেও ঢাকাসহ সারা দেশকে সংযুক্ত করার কাজটি (ব্যাকহোলিং কেব্ল ট্রান্সমিশন) এখনো শেষ হয়নি। যা গতকাল বিএসসিসিএলের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বীকারও করা হয়েছে।
বিএসসিসিএল দ্বিতীয় সাবমেরিন কেব্ল উদ্বোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানকেই আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি বলে জানা গেছে। অথচ ২০০৬ সালের ২১ মে কক্সবাজারে দেশের প্রথম সাবমেরিন কেব্লের ল্যান্ডিং স্টেশনটি সরকারিভাবে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
জানতে চাইলে বিএসসিসিএলের কুয়াকাটা ল্যান্ডিং স্টেশনের প্রকল্প পরিচালক পারভেজ মনন আশরাফ গতকাল বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি সাবমেরিন কেব্ল উদ্বোধন বলতে আসলে কনসোর্টিয়াম পর্যায়ে কেব্লটি চালু করা হয়েছে। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এর উদ্বোধন করা হয়। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে বিএসসিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মনোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
তাহলে ১৬ জানুয়ারি হনলুলুতে কোন সাবমেরিন কেব্ল উদ্বোধন করা হয়েছে, এ প্রশ্নের জবাবে পারভেজ মনন আশরাফ বলেন, কনসোর্টিয়ামগতভাবে কেব্লটির প্রচারণার জন্য বিভিন্ন ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তার একটি হলো হনলুলুর অনুষ্ঠান। আর ২১ ফেব্রুয়ারি ইস্তাম্বুলে কনসোর্টিয়ামের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈঠকের মাধ্যমে সব ল্যান্ডিং স্টেশন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সময় পাওয়ার পর জাতীয়ভাবে এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে।
এসইএ-এমই-ডব্লিউই ৫ কনসোর্টিয়ামের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায়, ১৬ জানুয়ারি হাওয়াইয়ের হনলুলুতে কেব্লটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। তবে বিএসসিসিএলের দাবি অনুযায়ী ২১ ফেব্রুয়ারি কেব্ল উদ্বোধনের কোনো তথ্য কনসোর্টিয়ামের ওয়েবসাইটে নেই। এ ছাড়া যে সরকারি আদেশে (জিও) বিএসসিসিএলের এমডি মনোয়ার হোসেন ইস্তাম্বুলে গেছেন, তাতে কনসোর্টিয়ামের উচ্চপর্যায়ের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বৈঠকের কথা বলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংযোগ উদ্বোধন কিংবা বাংলাদেশের ল্যান্ডিং স্টেশন উদ্বোধনের কোনো কথা জিওতে উল্লেখ নাই।
শেষ হয়নি ব্যাকহোল লিংক স্থাপনের কাজ
কুয়াকাটার ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে ব্যাকহোল ট্রান্সমিশন লিংক স্থাপনের কাজের জন্য গত এপ্রিলে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে বিটিসিএল। প্রায় ছয় মাসের প্রক্রিয়া শেষে কারিগরি কমিটির মূল্যায়নে যোগ্য প্রতিষ্ঠান তুরস্কের নেতাশকে কাজ না দিয়ে পুরো দরপত্র-প্রক্রিয়া বাতিল করে দেয়। ৩১ জানুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে, এ অজুহাত দেখিয়ে দরপত্রে অংশগ্রহণ না করলেও বিশেষ বিবেচনায় টেলিফোন শিল্প সংস্থাকে (টেশিস) কাজ দেওয়া হয়। টেশিস এই লিংক স্থাপনের কাজ এখন পর্যন্ত শেষ করতে পারেনি।
এ অবস্থায় কিসের উদ্বোধন করা হচ্ছে, তা জানতে এই প্রতিবেদক গত সোমবার বিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহফুজ উদ্দিন আহমদের কার্যালয়ে যায়। কিন্তু মাহফুজ উদ্দিন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে বিটিসিএলের জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক মীর মো. মোরশেদ বলেন, যত দ্রুত সম্ভব কাজটি শেষ করতে চেষ্টা চলছে।
টেলিযোগাযোগবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান লার্ন এশিয়ার আবু সাইদ খান প্রথম আলোকে বলেন, পুরো ব্যাপারটিই একটি ধাপ্পাবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়। ব্যাকহোল ট্রান্সমিশন লিংক স্থাপন ছাড়া সাবমেরিন কেব্ল উদ্বোধন অনেকটা সড়ক বা রেলপথ ছাড়াই সমুদ্রবন্দর উদ্বোধনের মতো একটি বিষয়। এর মাধ্যমে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিএসসিসিএল এমন মিথ্যা তথ্য কেন দিচ্ছে, সেটি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির জানতে চাওয়া উচিত।
http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/1087480/%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%8F%E0%A6%B8%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%8F%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A8%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%A8-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%BF