১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
ভারত থেকে বাংলাদেশের সমরাস্ত্র ক্রয়, চার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিতে আপত্তি নেই || প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন সফরকালে এ সংক্রান্ত আলাদা চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার,
ভারত থেকে সমরাস্ত্র কিনতে দিল্লির প্রস্তাবিত প্রায় চার হাজার কোটি টাকার (৫০ কোটি ডলার) ঐচ্ছিক ঋণ নিতে ঢাকার কোনো আপত্তি নেই। এছাড়াও, ভারতের সঙ্গে সামরিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা চুক্তির প্রস্তাবেও বাংলাদেশ সম্মত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরকালে দু’দেশের মধ্যে এ সংক্রান্ত আলাদা চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা আছে। বুধবার ঢাকায় উচ্চপর্যায়ের একটি কূটনৈতিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনার জন্য দেশটির পররাষ্ট্র সচিব সুব্রামনিয়াম জয়শংকর দু’দিনের সরকারি সফরে আজ ঢাকায় আসছেন। প্রধানমন্ত্রী মার্চের শেষ দিকে অথবা এপ্রিলের শুরুতে ভারত সফরে যেতে পারেন। জয়শংকর ঢাকায় আজই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের দিনক্ষণ কয়েক দফা পেছালেও তিস্তা চুক্তির ব্যাপারে কোনো অগ্রগতি নেই। ফলে এ সফরে চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে সামরিক সহযোগিতা ও সমরাস্ত্র ক্রয়ের দুটি চুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ৩০টি চুক্তির সম্ভাবনা আছে। এসব বিষয়েই এখন দু’দেশের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুব্রামনিয়াম জয়শংকরের আজকের ঢাকা সফর তারই অংশ।
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালের জানুয়ারিতে ভারত সফরে গেলে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের নাটকীয় উন্নতি ঘটে। ওই সময়ে ঘোষিত ৫০ দফার যৌথ ইশতেহারকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কোন্নয়নের রোডম্যাপ হিসেবে ধরা হয়। ২০১১ সালে ফিরতি সফরে ঢাকায় আসেন ভারতের তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি শেষ মুহূর্তে তিস্তা চুক্তির ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে ঢাকা আসতে অস্বীকৃতি জানান। তখন থেকেই মমতার আপত্তির কারণে তিস্তা চুক্তি ইস্যু ঝুলে আছে।
 
ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৫ সালের জুনে ঢাকায় এসে তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরে ভারতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিপূর্বে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির স্ত্রী শুভ্রা মুখার্জির মৃত্যুতে শেষকৃত্যে যোগদান এবং গোয়ায় ব্রিকস-বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের জন্য ভারত সফর করেন। সেসব সফর অবশ্য আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় সফর ছিল না। ফলে শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফর হবে ২০১০ সালের পর প্রথম আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় সফর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকর গত বছরের ৩০ নভেম্বর দু’দিনের সফরে ঢাকায় আসেন। তখনই সামরিক খাতে দুটি চুক্তির প্রস্তাব করেন। বিষয়টি পর্যালোচনার জন্যে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের মতামত চাওয়া হয়। বুধবার সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ‘কোনো চুক্তির ব্যাপারে কোনো দেশ প্রস্তাব দিলে সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কিংবা বিভাগের মতামত নেয়া হয়। ভারত থেকে সমরাস্ত্র কেনার জন্য ভারতের ঋণ (লাইন অব ক্রেডিট- এলওসি) একটি ঐচ্ছিক চুক্তির প্রস্তাব। এ চুক্তির ব্যাপারে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ অনাপত্তি দিয়েছে। সামরিক সহযোগিতা চুক্তির ব্যাপারেও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের কোনো আপত্তি নেই।’ ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘চুক্তি করা মানে ভারত থেকে অস্ত্র কেনার বাধ্যবাধকতা নয়। বাংলাদেশ প্রয়োজন হলে ভারত থেকে এ ঋণ নিয়ে সমরাস্ত্র কিনতে পারবে।’ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সামরিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন পর্যায়ে সফর বিনিময়, যৌথ মহড়া, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা রয়েছে। এ সহযোগিতাকে একটি কাঠামোর অধীনে আনতে সামরিক সহযোগিতা চুক্তির প্রস্তাব করা হয়েছে। এতেও আপত্তি না থাকায় সামরিক ক্ষেত্রে এ দুটি সহযোগিতা চুক্তি প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, চীন থেকে দুটি সাবমেরিন কেনার পরপরই ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সামরিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে আগ্রহী হয়। সামরিক ক্ষেত্রে চীন বাংলাদেশের পুরনো অংশীদার। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরকালে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাকে কৌশলগত সহযোগিতায় উন্নীত করা হয়। তবে ঢাকার কর্মকর্তারা বলছেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের কৌশলগত সহযোগিতার মানে হল দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করা। ভারতের সঙ্গেও বাংলাদেশ পারস্পরিক সামর্থ্য বাড়ানোর সহযোগিতায় যাচ্ছে। বাংলাদেশ একই সঙ্গে ভারত ও চীনের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে। এ সফরে গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্পে ভারতের সহযোগিতা নেয়ার বিষয়ে কোনো চুক্তি হচ্ছে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ও ভারত যে কারিগরি পর্যালোচনা করছে তাতে ওই দেশের প্রতিনিধি দলে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিও অন্তর্ভুক্ত আছেন। তবে ভারতের কোনো কোনো গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্প নিয়েও পশ্চিমবঙ্গ আপত্তি জানাতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে দু’দেশের মধ্যে মংলা ও চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর ব্যবহারের উপায় সংক্রান্ত চুক্তিসহ বেশ কিছু চুক্তির প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।
http://www.jugantor.com/last-page/2017/02/23/103381/%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%9F%E0%A6%BF-%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE-%E0%A6%8B%E0%A6%A3-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%86%E0%A6%AA%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%87