১৫ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
নির্যাতন ধর্ষণ ও হুমকির মুখে এখনো রোহিঙ্গারা পালিয়ে আসছে বাংলাদেশে
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার,
মিয়ানমারে রোহিঙ্গা ফিরে যাওয়ার তথ্য সঠিক নয় দাবি করে রোহিঙ্গা নেতারা জানান, গত এক মাসে ১০০ জন আহত নরনারীসহ ৪ শতাধিক রোহিঙ্গা পরিবার সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে সীমান্তরক্ষীর বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে অনুপ্রবেশ করে বালুখালী নতুন বস্তিতে আশ্রয় নিয়েছে।
গতকাল বুধবার সকালে উখিয়ার বালুখালী নতুন বস্তি এলাকা ঘুরে সদ্য আগত রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মংডু আরকান রাজ্যের বড় গৌজবিল, ছোট গৌজবিল, ঢেকিবনিয়া, কাটাখালী, হাতিমোরা, নাগপুরা, লোদাইং, লম্বাঘোনা, লুংডুং, বলি বাজার, আইয়ুবের চর, মার্মাখালী, জাম্বুনিয়া, সিকদারপাড়া, খেয়ারিংপ্রাং, সাতগরিয়া পাড়া, নাইছাপ্রু ও বড়ডেইল এলাকা থেকে গত একমাসে প্রায় ৪ শতাধিক রোহিঙ্গা পরিবার পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে বালুখালী নতুন বস্তিতে। 
বালুখালী বস্তির ১নং ব্লকের মাঝি খলিল ও ২নং ব্লকের মাঝি ছাবের আহমদ জানান, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার মিয়ানমার সেনা ও রাখাইন যুবকেরা বিচ্ছিন্নভাবে গ্রামে গ্রামে হামলা চালিয়ে যুবতী নারীদের ধর্ষণ করেছে। পুরুষদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে গুরুতর আহত করেছে। যে কারণে রোহিঙ্গারা মাতৃভূমির মায়া ত্যাগ করে এদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে। মিয়ানমার সেনা ও রাখাইন সন্ত্রাসীদের যৌন লালসায় ক্ষতবিক্ষত ও পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার হয়ে বালুখালী নতুন বস্তিতে আহতাবস্থায় আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ১০০ জন রোহিঙ্গা নর-নারী। তন্মধ্যে আবু ছিদ্দিকের মেয়ে নুর কায়েদা, দিল মোহাম্মদের মেয়ে ছেনুয়ারা, মোহাম্মদ শরীফের মেয়ে জোবাইরা, আবুল হাশেমের মেয়ে রেহেনা, আবু ছিদ্দিকের মেয়ে শামশুন নাহার, আলী আহমদের মেয়ে তৈয়বা, রশিদ আহমদের মেয়ে ছানুয়ারা, ও ঠান্ডা মিয়ার মেয়ে সাজেদা বেগম। আহত রোহিঙ্গা নারীরা জানায়, তাদের বাড়িতে পুরুষ লোকজন না থাকার সুযোগে বর্মী সেনা ও রাখাইন যুবকেরা তাদের ওপর যৌন নির্যাতন চালিয়েছে।
মিয়ানমার সেনা সদস্যের নির্যাতনে আহত মোহাম্মদ আয়ূব, পেঠান আলী, কবির আহমদ, মোহাম্মদ আলী, আলী জোহার, মো: রিদুয়ান, মুসলিম, ফরিদুল্লাহ, আবদুল কাদের, নুরুল কবির ও ইসমাঈল জানান, বাংলাদেশে পালিয়ে না আসার অজুহাতে তাদের উপর পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। পরবর্তীতে দেখা পেলে গুলী করে মেরে ফেলার হুমকি প্রদর্শন করায় তারা পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে। কিছু কিছু রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফেরত যাচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে কুতুপালং বস্তি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আবু ছিদ্দিক জানায়, যারা এসমস্ত অপপ্রচার চালাচ্ছে তারা মিয়ানমারের সোর্স। তিনি আরো জানান, আন্তর্জাতিক বিশ্বের চাপের মুখে মিয়ানমারে সেনা অভিযান বন্ধ এবং রোহিঙ্গারা সেদেশে ফিরে যাচ্ছে মর্মে ফলাও করে গণমাধ্যমে প্রচার করছে। তারা স্থানীয় প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করার জন্য পরিকল্পিত ভাবে বিভ্রান্তকর গুজব ছড়াচ্ছে। মূলত মৃত্যুর ভয়ে যে সমস্ত যুবকেরা বয়োবৃদ্ধ মা-বাবাকে মিয়ানমারে ফেলে রেখে এসেছিল তারা তাদের আনতে গেছে। 
কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিচালনা কমিটির স্বঘোষিত সভাপতি আবু ছিদ্দিক জানান, কিছু কিছু লোক তাদের ফেলে আসা মালামাল ও পরিবার পরিজনদের নিয়ে আসার জন্য মিয়ানমারে যেতে পারে। বালুখালী বস্তির ৩নং ব্লকের মাঝি লালু জানায়, তাদের বস্তিতে থেকে কোনো রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফেরত যায়নি। উপরোন্তু ৫ হাজার রোহিঙ্গা থেকে অনুপ্রবেশ বেড়ে বর্তমানে তা সাড়ে ৭ হাজারে উন্নীত হয়েছে। প্রতিদিন ৪/৫টি করে পরিবার বস্তিতে আশ্রয় নিচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার কুতুপালং নতুন বস্তিতে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মাঝে মালেশিয়া সরকার প্রদত্ত ত্রাণ সামগ্রীর মধ্য থেকে ৩শ’ পরিবারকে ত্রাণ বিতরণ করা হবে বলে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কোর্ডিনেটর মো. সেলিম জানিয়েছেন। 
নিবন্ধিত রোহিঙ্গা নেতা আনোয়ার ফয়সাল জানান, অনিবন্ধিত রোহিঙ্গারা অর্থাভাব ও থাকা খাওয়াসহ বিভিন্ন রোগ বালাই নিয়ে বেশ কয়েকদিন শারীরিক ও মানসিকভাবে কষ্ট পেলেও ইতোমধ্যে অনেকেই দান খয়রাতের ওপর নির্ভর করে চলছে। উপরোন্তু মালেশিয়ান সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য প্রায় ১৪৭২ মে. টন ত্রাণ সামগ্রী পাঠিয়েছে। এসব ত্রাণ সামগ্রী সুষ্ঠুভাবে বিলি বণ্টন করা হলে রোহিঙ্গারা আর্থিকভাবে আরো লাভবান হবে। তবে অনেক রোহিঙ্গার অভিযোগ মালেশিয়ান ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের নামে কিছু কিছু রোহিঙ্গা নেতা অসহায় নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের নিকট থেকে টাকা আদায় করছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দাবি উঠেছে রোহিঙ্গাদের পক্ষ থেকে।
http://www.dailysangram.com/post/272917-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%A8-%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%A3-%E0%A6%93-%E0%A6%B9%E0%A7%81%E0%A6%AE%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%96%E0%A7%87-%E0%A6%8F%E0%A6%96%E0%A6%A8%E0%A7%8B-%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%86%E0%A6%B8%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87