১৫ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
চার দিকে পাতা মৃত্যুফাঁদ , অন্য দৃষ্টি
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার,
জসিম উদ্দিন :
 
চার দিকে যেন পাতা আছে ফাঁদ। একটি মানুষ যেকোনো সময় লাশ হয়ে যেতে পারেন। এসএসসি পরীক্ষার্থী সাকিবুল ইসলাম তার মায়ের সাথে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের ভেতর পরীক্ষা কেন্দ্রে যাচ্ছিল। জ্যামের কারণে বাস সামনে এগোচ্ছিল না। ইংরেজি প্রথমপত্রের পরীক্ষা, সময় মাত্র ৪৫ মিনিট বাকি। উদ্বিগ্ন মা ও ছেলে বাস থেকে নেমে অন্য একটি চলন্ত বাসে উঠতে যায়। এতে ছেলে সফল হলেও মা ব্যর্থ হন। চলন্ত বাসের জানালা দিয়ে মাকে অন্য বাসে ওঠার জন্য বলে সাকিব। 
কয়েক মিনিট পর মা অন্য একটি বাসে উঠতে সক্ষম হন। সাকিবের বাস কিছু দূর অগ্রসর হলে সে আবার জানালা দিয়ে মাথা বের করে মাকে দেখতে যায়। এই সময় রাস্তার পাশের একটি ল্যাম্পপোস্ট তার মাথায় আঘাত হানে। প্রচণ্ড আঘাতে মাথার এক পাশ থেঁতলে যায়। পথচারীরা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে নিতে নিতেই সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। সাকিব বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুলে তার কাসে তিন নম্বর ছাত্র ছিল। জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় সে পেয়েছিল জিপিএ ৫।
৭ ফেব্রুয়ারি সকাল সোয়া ৯টায় যখন রাস্তার প্রায় ভেতরে পোঁতা একটি ল্যাম্পপোস্ট বাসচালকের অসতর্কতায় এই কিশোরকে থেঁতলে দেয়, প্রায় একই সময় মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তাকে পিষ্ট করে আরেকটি বাস। তিনি ইত্তেফাক মোড়ে রাস্তা অতিক্রম করছিলেন। ঘাতক বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তার ওপর উঠে যায়। তিনি রুয়েটে পড়–য়া ছেলেকে কমলাপুর রেলস্টেশনে রিসিভ করতে গিয়েছিলেন। ছেলেকে জুরাইনের বাসায় পৌঁছে দিয়ে যাচ্ছিলেন মতিঝিলে তার কর্মস্থলে। যে বর্ণনা সংবাদমাধ্যমে এসেছে উভয় ক্ষেত্রে গাড়ির চালকের দক্ষতা, সতর্কতা ও মানবিকতা মারাত্মক প্রশ্নবিদ্ধ বিষয় হিসেবে সামনে এসেছে। এ ছাড়া রাস্তা নিজেই হয়ে আছে একটি ফাঁদ। যেন এমনটা ঘটাই স্বাভাবিক এমন পরিস্থিতিতে। রাজধানীর ব্যস্ততম দুটো স্পটে এর মধ্যে আরো অনেক দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। সেখানে আরো অনেকের প্রাণ ভবিষ্যতে যাবে, এটা আমরা অনেকটাই জানি। কিন্তু পাতা ফাঁদ বা জঞ্জাল সরানোর কিছু দায়িত্ব যাদের, তারা কেন নিষ্ক্রিয়? 
প্রতিদিন বাংলাদেশের রাস্তায় মানুষ বেঘোরে প্রাণ হারাচ্ছেন। এটি নিত্যকার ঘটনায় পরিণত হয়েছে। আমাদের জন্য অনেক শিক্ষণীয় থাকলেও সেই শিক্ষা আমরা গ্রহণ করছি না। ফলে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে চলেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি নরসিংদীর বেলাবোতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। একই দিন আরো সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সব মিলিয়ে সে দিন মোট ২৫ জন প্রাণ হারালেন সড়কে। বেলাবোর ঘটনাটিতে সিএনজিকে ওভারটেক করতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগামী একটি বাসের সাথে সংঘর্ষে মাইক্রোবাসের ১২ জন যাত্রী প্রাণ হারান। এতে সড়ক যোগাযোগের দুর্বল ব্যবস্থাপনা আবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। 
মাইক্রোবাসটি সিএনজিকে ওভারটেক করছিল। মহাসড়কে ধীরগতির সিএনজি থাকার কথাই ছিল না। অন্য দিকে মাইক্রোবাসের চালক যখন ওভারটেকের ঝুঁকিপূর্ণ কাজটি করছিলেন, বিপরীত দিক থেকে আসা বাসের গতি ও রাস্তার অবস্থা আঁচ করতে পারেননি। দুর্বল মাইক্রোবাসটিকে দুমড়ে-মুচড়ে নিয়ে যায় বাসটি। অর্থাৎ বাসটি ওই সরু রাস্তায় এমন দ্রুত গতিতে ছিল, চালক সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। এ ধরনের বেপরোয়া অব্যবস্থাপনা চলছে বাংলাদেশের সব সড়ক ও মহাসড়কে। যেখানে লেখা রয়েছে ৪০ কিলোমিটারের অধিক গতি নয়, সেখানে এর দ্বিগুণ গতিতে দিনেও গাড়ি চালানো হয়। সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ একটি নোটিশ দিয়েই তাদের কাজ সেরেছে মনে করে। কিন্তু আইন ভঙ্গের জন্য কাউকে বিচারের মুখোমুখি করা হয় না। ফলে চালকেরা এ ধরনের বিধিনিষেধ তোয়াক্কাই করেন না। মহাসড়ক থেকে সিএনজির মতো ুদ্র ও ধীরগতির যানবাহন উঠে যাওয়ার নির্দেশের কী হলোÑ এটাই জনমনে জিজ্ঞাসা। 
আগের দিন ফরিদপুরের নগরকান্দায় গ্যাসের সিলিন্ডারবাহী কাভার্ড ভ্যানের সাথে বেপরোয়া গতির যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে ১৩ জন পুড়ে মারা যাওয়া এবং ৩৩ জন অগ্নিদগ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটে। গ্যাস সিলিন্ডারবাহী যানবাহনের দুর্ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। এটা সাধারণ দুর্ঘটনার চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ। দুর্ঘটনার ফলে বিস্ফোরিত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি অনেক বাড়িয়ে দেয়। নগরকান্দার ঘটনায় প্রথমে সংঘর্ষে যাত্রীরা হতাহত হন। পরে বেঁচে থাকা অনেকে ছড়িয়ে পড়া আগুনে দগ্ধ হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যুবরণ করেন। এই দুর্ঘটনা নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। সেতুমন্ত্রীকে দলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বেশি ব্যস্ত দেখা যাচ্ছে। পরের দিনও যখন বড় আরেকটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটল, এ ব্যাপারেও প্রতিক্রিয়া দেখানোর গরজ কেউ বোধ করেননি। এমনকি যাত্রীদের পক্ষ হয়ে তাকে বক্তব্য দিতেও দেখা যায়নি। সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের প্রাণহানিকে যেন নিয়তি হিসেবে আমরা নীরবে মেনে নিয়েছি।
সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা একটি সংগঠনের পরিসংখ্যান মোতাবেক, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি সকাল পর্যন্ত মাত্র ৪৩ দিনে দেশে ৫৬১টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ৬৮০ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আহত ১৩ হাজার ৩৩ জন। যাত্রীকল্যাণ নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের মতে, যেভাবে পরিবহন ব্যবস্থাপনায় ভয়ানক বিশৃঙ্খলা চলছে, তাতে আরো ঘন ঘন যে দুর্ঘটনা হচ্ছে না এটাই এখন ‘সৌভাগ্য’। যানবাহনের ফিটনেস নিয়ে অনেক কিছু করার কথা বলা হয়েছে কিন্তু বাস্তবে ফল শূন্য। চালকের দক্ষতার ব্যাপারটিও একই পর্যায়ে রয়ে গেছে। রাস্তা যে সবচেয়ে বড় মৃত্যুকূপ সেটা প্রমাণিত হচ্ছে। কিন্তু প্রতিদিন রাস্তায় নতুন নতুন বহু গাড়ি নামছে। যাত্রীর সংখ্যাও অনেক বাড়ছে। তবু সবাই নির্বিকার। কেবল গুরুত্বপূর্ণ কেউ দুর্ঘটনার শিকার হলে কিছু সময় আলোচনা হয়। অচিরেই সেটা আবার হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। 
‘বাংলাদেশ হেলথ ইনজুরি সার্ভে’ ২০১৬ সালে একটি জরিপ চালিয়েছে। সরকার পরিচালিত এই জরিপে দেখা যায়, সড়ক দুর্ঘটনার মতো আরো কিছু ফাঁদ পাতা আছে, যে ফাঁদে পড়ে মানুষ বেঘোরে প্রাণ হারাচ্ছে। এর কিছু অনিবার্য, যেগুলোকে ঠেকানোর উপায় মানুষের থাকে না। তবে অনেক ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে কর্তৃপক্ষের অবশ্যই করণীয় রয়েছে। একটি জাতীয় পত্রিকায় ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ওই জরিপে দেখা যায়, বছরে আত্মহত্যায় জীবন দিচ্ছেন ২৩ হাজার ৮৬৮ জন। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ যাচ্ছে ২৩ হাজার ১৬৬ জনের। এই দুটো যেন হাত ধরাধরি করে চলছে। কেন মানুষ আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছে, এ নিয়ে কোনো গবেষণা দেখা যায় না। নিজেকে বিনাশ করে দিতে উদ্যত মানুষগুলোর সঙ্কট খতিয়ে দেখার কেউ নেই। পানিতে ডুবে প্রাণ হারাচ্ছে ১৯ হাজার ২৪৭ জন। বিদ্যুতায়িত হয়ে প্রাণ হারাচ্ছে ৯ হাজার ২১০ জন। ওপর থেকে পড়ে প্রাণ হারায় ১৫ হাজার ৪৫ জন। 
দুর্ঘটনায় মৃত্যুর এই বিশাল হার পৃথিবীতে বিরল। এই হার ইরাক ও সিরিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে মৃত্যুহারের চেয়ে তুলনামূলক কম নয়। একটি শান্তিপূর্ণ দেশে এভাবে মানুষের প্রাণ হারানোর ঘটনা আশ্চর্যজনক। ইরাক যুদ্ধে এ পর্যন্ত কত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, এর বিভিন্ন পরিসংখ্যান রয়েছে। সেটা পাঁচ লাখের বেশি নয়। অন্য দিকে সিরিয়ায় এ পর্যন্ত চার লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়ে থাকতে পারেন বলে অনুমান করা হয়। অথচ কোনো যুদ্ধ ছাড়াই বাংলাদেশ এসব দেশের সাথে তুলনীয়। হেলথ ইনজুরির জরিপে দেখা যাচ্ছে, উল্লিখিত কিছু দুর্ঘটনায় প্রায় এক লাখ সাড়ে ৯ হাজার মানুষের মৃত্যু হচ্ছে প্রতি বছর। সে হিসাবে পাঁচ বছরে সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে বাংলাদেশে। এটি ইরাক ও সিরিয়ার যুদ্ধের মৃত্যুহারকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। 
জরিপে দেখা যায়, এ দেশে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের আঘাতে ৩০০ জন প্রাণ হারাচ্ছেন। এর প্রায় দ্বিগুণের বেশি ৬৬০ জন হয়ে যান অক্ষম। এই মানুষগুলো অসহায় হয়ে লাঞ্ছনার জীবন যাপন করেন। থাকতে হয় অন্যের করুণার পাত্র হয়ে। প্রতিদিন ৫৫ হাজার মানুষ বিভিন্নভাবে আহত হচ্ছেন। লাঞ্ছনা ও দুর্গতি তাদেরও থাকে। আঘাতে বিপুল মানুষের নানামাত্রিক ক্ষয়ক্ষতির জন্য অনেক ক্ষেত্রে মানুষ নিজেই দায়ী। আঘাতসংক্রান্ত মৃত্যুর প্রধান তিনটি কারণ হলো আত্মহত্যা, সড়ক দুর্ঘটনা এবং পানিতে ডুবে মৃত্যু। সড়ক দুর্ঘটনায় ৫০ জন, আত্মহত্যা ৪০ জন এবং ওপর থেকে পড়ে ৩৫ জন প্রতিদিন মারা যাচ্ছে। পানিতে ডুবে বিশেষত শিশুরা প্রতিদিন ৪০ জন করে মারা যাচ্ছে। এসব ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বনের কোনো তাগিদ সমাজের কোনো পর্যায় থেকে দেখা যায় না। 
বাস্তব অবস্থা জরিপের ফলাফলের চেয়ে ভয়াবহ হতে পারে। বিশেষ করে সরকার যদি কোনো জরিপ চালায় সেখানে নিজেদের একটা প্রভাব ফেলার প্রবণতা থেকে যায়। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত এই জরিপের নমুনা নির্বাচন করা হয়েছে ১৬ জেলা থেকে। বাকি জেলাগুলোর দুর্ঘটনার ধরন এমন না-ও হতে পারে। নৌদুর্ঘটনায় প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারান। সেটাকে এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কি না তা স্পষ্ট নয়। 
একটি পত্রিকা প্রথম পাতায় জায়গা নির্ধারিত করেছে সড়ক দুর্ঘটনার সংবাদ দেয়ার জন্য। যেমন, যুদ্ধকবলিত ইরাক ও সিরিয়ার মানুষের লাশের সংখ্যার হিসাব রাখতে অনলাইনে বিভিন্ন ওয়েবপেজ খোলা হয়েছে। পত্রিকাটির প্রথম পাতার নিচে বাম পাশে লাল রঙের একটি চতুর্ভুজ। এর কালো বর্ডার। চতুর্ভুজের মধ্যে আশ্চর্যবোধক চিহ্ন। নিচে আবারো একটি লাল রঙের চতুর্ভুজের বাইরে কালো বর্ডার। তার নিচে সড়ক দুর্ঘটনায় সর্বশেষ কতজন মারা গেল সে সংখ্যাটি অন্তর্ভুক্ত করছে। জায়গাটি সম্প্রতি কোনো দিন ফাঁকা যাচ্ছে না। জরিপের গড় হিসাবের যে পরিসংখ্যান পাওয়া যাচ্ছে, সে মোতাবেক এখনো প্রতিদিন মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন সড়কে। সাংবাদিকেরাও রাস্তায় লাশ হয়ে এই পরিসংখ্যানে যোগ দিতে পারেন।
এক লাখ ৫৫ হাজার বর্গকিলোমিটারের পুরো দেশই যেন একটি মৃত্যুকূপ। তার ওপর সীমান্তকে বলা যায় মৃত্যুফাঁদ। কমবেশি প্রতিদিন সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে হতাহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। গত এক বছরে ৩১ জন বাংলাদেশী ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের হাতে প্রাণ দিয়েছেন। অথচ ভারতের সাথে বাংলাদেশের সবচেয়ে উষ্ণ বন্ধুত্ব রয়েছে অন্তত সরকারিভাবে। এখন মিয়ানমারও একই কাজ করতে ‘উদ্বুদ্ধ’ হচ্ছে। তারা বাংলাদেশীদের ওপর হত্যা-নির্যাতন করার ভারতীয় পন্থা অনুসরণ করছে। বরং একটু অগ্রসর হয়ে বাংলাদেশী নিরাপত্তাবাহিনীর ওপর হামলে পড়ার দুঃসাহস পর্যন্ত দেখাচ্ছে। বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশী জেলেদের গুলি করার ঘটনা ঘটাচ্ছে। সীমান্ত বৈঠকের আহ্বান জানালে অনেক সময় তারা তা প্রত্যাখ্যান করে। 
jjshim146@yahoo.com
http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/198010