১৭ নভেম্বর ২০১৯, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
গাছ উজাড়কারীরাই পাহারা দিচ্ছে সংরক্ষিত বনাঞ্চল
২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, বুধবার,
কক্সবাজারের চকরিয়া সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ আগে যারা উজাড় করত, এখন তারাই বন পাহারা দিচ্ছে। বনের ওপর নির্ভরশীল মহিলাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের মাধ্যমে জীবিকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয় সম্প্রদায় থেকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে পাহারাদার। আর এর ফলে তারা নিজেদের ছেলেমেয়েদের স্কুলেও পাঠাতে পারছেন।
চকরিয়ার মেধাকচ্ছপিয়ায় এমনই কিছু মানুষের দেখা মিলল। একদল মহিলা পুতুল তৈরি করছে। কাপড় দিতে তৈরি এসব পুতুল ‘হাতে বুনন’ নামে একটি সংস্থার মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিক্রি হচ্ছে। সংস্থাটি এ জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সরবরাহ করছে, আবার তৈরি পণ্য কিনে নিচ্ছে। তাদের এই কাজে সেতুবন্ধনের ভূমিকা পালন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা ইউএসএআইডি।
কথা হলো ইউএসএআইডির ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ইকোসিস্টেমস অ্যান্ড লাইভলিহুড (সিআরইএল) প্রকল্পের সাইট অফিসার আব্দুল কাউয়ুমের সাথে। তিনি জানালেন, এই অঞ্চলের মহিলারা বনের ওপর নির্ভরশীল ছিল। বনের ভেতর থেকে কাঠ কেটে নিয়ে আসত। এরপর তাদের বিকল্প আয়ের পথ দেখানো হয়। হাতে বুনন নামে একটি সংস্থার জন্য তারা পুতুল তৈরি করে। এ ছাড়া ড্রাগন ফল, ক্যাপসিক্যাম, স্ট্রবেরি চাষ, টুপি তৈরি, নকশিকাঁথা প্রভৃতির মাধ্যমে বনের ওপর নির্ভরশীল এ অঞ্চলের মানুষের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রথমে তাদের বাছাই করে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত ৪০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ এই প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত। এখন তারা নিজেদের পাশাপাশি তাদের পরিবার-পরিজনকে বন রক্ষায় সচেতন করছেন। মহিলারা প্রতি মাসে দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা আয় করতে পারছেন। তাদের ছেলেমেয়েদেরও স্কুলে পাঠাতে পারছেন। 
আব্দুল কাউয়ুম বলেন, চার বছর ধরে তাদের নিয়ে কাজ করছি। এতে জীবিকার জন্য তাদের বনে যাওয়া বন্ধ হয়েছে। বন উজাড় বন্ধ হওয়ায় বন্য প্রাণীগুলো আবার ফিরে আসছে। প্রকল্পের শুরুতে পাঁচ থেকে সাতটা হাতি দেখা গিয়েছিল। এখন ৩৫টি হাতির দেখা মিলছে। বানরের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া হরিণ ও পাখির সংখ্যাও বেড়েছে। 
সিআরইএলের কমিউনিকেশন ম্যানেজার ওবায়দুল ফাত্তাহ তানভির জানান, মহিলাদের হাতে তৈরি পুতুলগুলো বর্তমানে ৩১টি দেশে বিক্রি হচ্ছে। ইউএসএআইডি এখানে সেতুবন্ধনের কাজ করছে। গাছ কাটার সাথে জড়িতদের জন্য নতুন জীবিকার সৃষ্টি করা হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় সম্প্রদায় থেকেই বন পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে চকরিয়ার সংরক্ষিত বনাঞ্চলের এই অংশে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয়া গাছের সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। উজাড় হওয়া বন আবারো প্রাণ ফিরে পাচ্ছে।
সিআরইএল প্রকল্পের আওতায় চকরিয়ার ডুলহাজারা নিবিড় ফলদবৃক্ষ বাগানে দেখা গেল আম, লেবু, পেয়ারা, মাল্টা, সফেদাসহ বিভিন্ন ধরনের গাছ। এ ছাড়া মালুমঘাটে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের পাশ ঘেঁষেই চাষ করা হচ্ছে জলবায়ু সহিষ্ণু কৃষি পণ্য।
ইউএসএআইডির দেয়া তথ্য মতে, পরিবেশের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশকে সহায়তা দেয়ার প্রচেষ্টা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনরোধ উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছে। পরিবেশের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা, এর সাথে খাপ-খাওয়ানো এবং সবচেয়ে নাজুক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় ইউএসএআইডি বাংলাদেশ সরকারের সাথে কাজ করছে।
এক দশকের বেশি সময় ধরে প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বাংলাদেশকে সহায়তা দিচ্ছে ইউএসএআইডি। এ জন্য সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটি সাত লাখ হেক্টর জলাভূমি ও বনাঞ্চল যৌথভাবে ব্যবস্থাপনা করে। সংরক্ষিত অঞ্চলের আশপাশের অধিবাসীদের ইউএসএআইডি বিকল্প কর্মসংস্থানের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে, যা থেকে প্রায় দুই লাখ মানুষ আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে।
http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/197881