২০ নভেম্বর ২০১৯, বুধবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
অর্ধেক লুটের পর হেরিটেজ হচ্ছে জাফলংয়ের চুনাপাথর টিলা, হান্নানের খোঁজ নেই
২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, বুধবার,
জাফলংয়েই অবস্থিত দেশের একমাত্র ‘চুনাপাথর টিলা’। সিমেন্ট তৈরিতে এই পাথর ব্যবহার করা হয়। মহামূল্যমান এই টিলাকে অনেক আগেই সংরক্ষিত করে রেখেছিল। কিন্তু পাথরখেকোদের ছোবল থেকে রক্ষা পেলো না টিলাটি। চলতি মৌসুমে কেটে সাবার করা হয়েছে এই টিলার অর্ধেক অংশ। ইতিমধ্যে মারা গেছেন দুই শ্রমিক। ঘটনা ঘটনার পর এই টিলা নিয়ে টনক নড়েছে প্রশাসনের। প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে- জিওলজিক্যাল সার্ভে ডিপার্টমেন্ট এই টিলাকে সংরক্ষণের উদ্যোগ অনেক আগেই নিয়েছে। কারণ- এই টিলা গবেষণার কাজে ব্যবহৃত হয়। এ কারণে টিলাকে হেরিটেজ ঘোষণা দিয়ে ইতিমধ্যে গেজেট প্রকাশ হয়েছে। সিলেটের জাফলং পাথর কোয়ারিতে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। এখন আর মূল কোয়ারি এলাকায় শ্রমিক নেই। তবে- পাথর খেকো সিন্ডিকেটরা কোয়ারি বন্ধ থাকায় আশপাশের এলাকায় আঘাত হানছে। ইতিমধ্যে জাফলংয়ের ঐতিহ্যবাহী খাসিয়া পুঞ্জি ও পান বাগান এলাকায়ও তারা মরণ থাবা বসিয়েছে। এতে করে দিন দিন হুমকি বাড়ছে। আর ঝুঁকিপূর্ণ পাথর উত্তোলনের ফলে শ্রমিক মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে এখনও। চুনাপাথর টিলাটি জাফলংয়ের জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি। পাশ ঘেঁষেই বিজিবি ক্যাম্প। এই টিলাটি অনেক আগেই লিজে ছিল। এখন আর সেটিতে লিজ নেই। পাথর উত্তোলনও বন্ধ। কিন্তু হান্নান নামে ছাতকের এক ব্যক্তি আফসার নামে আরও একটি ব্যক্তির মালিকানাধীন টিলা দাবি করে চলতি মৌসুমে শ্রমিক নিয়োগ করে ওই টিলায়। স্থানীয়রা জানান- প্রায় ৪ মাস ধরে ওই টিলাতে পাথর লুটপাট চালানো হয়। প্রতিদিন গড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার ফুট পাথর উত্তোলন করা হতো। এতে মাসে দেড় লাখ ফুট পাথর লুটপাট চালানো হতো। এই পাথরের দাম বেশি। সিমেন্ট উৎপাদনের অন্যতম উপাদান হচ্ছে চুনাপাথর। বাংলাদেশের কোথাও চুনাপাথর না থাকায় সিলেটের কয়েকটি সিমেন্ট ফ্যক্টরি কর্তৃপক্ষ পার্শ্ববর্তী ভারত থেকে চুনাপাথর আমদানি করে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন- আফসার ও হান্নান মিলে চুনাপাথর টিলা থেকে সংগৃহীত পাথর বড় অংকের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দিতো। তারা গেল ৪ মাসে কমপক্ষে ৫ কোটি টাকার পাথর লুটপাট করেছে। জাফলংয়ের স্থানীয় আদিবাসীরা সবাই জানে চুনাপাথর টিলাটি সংরক্ষিত। প্রায় ১০ বছর পূর্বে এই টিলাটি খনিজ মন্ত্রণালয় থেকে লিজ নিয়েছিলেন ছাতকের বাসিন্দা আফসর। বৈধভাবে লিজ নেয়ার পর তার অধীনেই ওই টিলা থেকে পাথর সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু ২০০৭ সালের দিকে হঠাৎ করে জিওজিক্যাল সার্ভে ডিপার্টমেন্টের একটি মাঠ জরিপে ওই টিলার সন্ধান মিলে। এরপর থেকে টিলাটিকে তখনকার প্রশাসনের উদ্যোগেই সংরক্ষিত করে রাখা হয়। প্রতি বছর বছর এই টিলাতে গবেষণায় আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওজিক্যাল ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক ও ছাত্ররা। স্থানীয়রা জানান- চলতি মৌসুম অর্থাৎ গত ডিসেম্বর থেকে এই টিলায় পাথর উত্তোলন শুরু হয়। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। কিন্তু প্রশাসনের সঙ্গে লুটপাটকারীদের সংখ্যতার বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পর ভয়ে কেউ মুখ খুলেননি। ইতিমধ্যে টিলাটির অর্ধেক অস্তিত্ব বিলীন করা হয়েছে। আর কেটে দেওয়া ফলে টিলাটিও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তারা বলছেন- টিলা কাটার পাশাপাশি ওখানে গর্তও খোড়া হয়েছে। গতকাল গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন আহমদ মানবজমিনকে জানিয়েছেন- টিলাটি সংরক্ষিত ছিল প্রশাসন সেভাবে জানতো না। আর সংরক্ষিত না হলেও যে পাথর উত্তোলন চলবে সেটিও গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন- ঘটনার পরই তিনি জানতে পেরেছেন টিলাটিকে হেরিটেজ ঘোষণার জন্য ইতিমধ্যে জিওলজিক্যাল সার্ভে ডিপার্টমেন্টের উদ্যোগের  গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে এখন থেকে টিলাটি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকবে। খুব দ্রুত এই টিলাকে সংরক্ষিত করতে দেওয়াল নির্মাণের চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। আর ওই টিলায় সবার প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত করে রাখা হবে বলে দাবি করেন তিনি।  রোববার চুনাপাথর টিলায় অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের সময় দুই শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আর গ্রেপ্তারকৃত দুলাল সহ ৬ জনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ। চুনাপাথর টিলা কাটা অন্যতম হোতা হচ্ছে ছাতকের হান্নান নামের এক ব্যক্তি। হান্নান জাফলং এলাকায়ই বসবাস করতো। ঘটনার পর থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে হান্নান। তার খোজে ইতিমধ্যে পুলিশ বেশ কয়েক স্থানে অভিযান চালিয়েছে। গোয়াইনঘাট থানার ওসি তদন্ত জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন- মাটি চাপায় শ্রমিক নিহতের ঘটনায় জড়িত ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনার মূল হোতা আবদুল হান্নানকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানান তিনি। এদিকে- দুই শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনার পর গোটা জাফলংয়েই অভিযান জোরদার করেছে প্রশাসন। আর অভিযানে আটক করা হচ্ছে বোমা মেশিনসহ যন্ত্রদানব। ইউএনও গতকালও জানিয়েছেন- ইতিমধ্যে অভিযানে বেশকিছু পাথর তৈরির যন্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। সেগুলোও ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি বলেন- এখন থেকে নিয়মিতভাবে জাফলংয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
http://www.mzamin.com/article.php?mzamin=54598&cat=3/%E0%A6%85%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A7%87%E0%A6%95-%E0%A6%B2%E0%A7%81%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%B0-%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%9C--%E0%A6%B9%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%AB%E0%A6%B2%E0%A6%82%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%9A%E0%A7%81%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A5%E0%A6%B0--%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%BE,-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%96%E0%A7%8B%E0%A6%81%E0%A6%9C-%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%87