১৫ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
দেড় শতাধিক ডেঞ্জার স্পট রাজধানীতে
২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, বুধবার,
একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। সম্প্রতি রাতে কাজ শেষে বাসায় ফিরছিলেন রিকশাযোগে। রিকশাটি আরামবাগ পেট্রলপাম্পের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ তিন যুবক তার গতি রোধ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাদের একজন ধারালো অস্ত্র এবং অপরজন আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে দেয় শাহীনের শরীরে। শাহীন বারী বলেন, অস্ত্র ঠেকানোর পরই বুঝতে পারি তারা ছিনতাইকারী। এর আগে তারা এমন ব্যবহার করছিল যে, যেন কত দিনের চেনাজানা বন্ধু। শাহীন বারীর কাছে থাকা ৫০০ টাকা তারা নিয়ে যায়। 
শুধু শাহীন বারীই নন, রাজধানীতে এ রকম দেড় শতাধিক স্পটে প্রায়ই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। রাজধানীর বাসিন্দাদের কাছে এগুলো ডেঞ্জার স্পট হিসেবে পরিচিত। শুধু ছিনতাই নয়, এসব স্পটে প্রকাশ্যে নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন এবং ইভটিজিংসহ নানা অপরাধ চলছে। কখনো কখনো পুলিশের সামনেই নানা ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গত সোমবার সন্ধ্যায় পূর্ব রাজাবাজার এলাকায় প্রকাশ্যে এক তরুণীর শ্লীলতাহানি করছিল কিছু তরুণ। আমাদের অর্থনীতি পত্রিকার সাংবাদিক মাসুদ মিয়া তার প্রতিবাদ করায় দুর্বৃত্তরা তাকে বেদম মারধর করে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই স্থানটিতে প্রায়ই ইভটিজিং, শ্লীলতাহানি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যার পর ওই রাস্তা দিয়ে সুস্থে কেউ হাঁটতে পারে না। আল আমিন নামের এক স্থানীয় মাস্তানের কাছে ওই এলাকার পথচারীরা অসহায়।
রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে প্রায়ই ঘটছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। যেসব স্থানে এ ঘটনাগুলো ঘটছে সেগুলো চিহ্নিত। কিন্তু এরপরও একের পর এক ঘটনা ঘটেই চলছে ওইসব স্পটে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি ভোর ৫টার দিকে রাজধানীর টিকাটুলিতে চলন্ত বাসে দুই মাছ ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত করে ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। গত ৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় চিন্ময় মজুমদার নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে তার কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। একই দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মনিরুজ্জামান নামের এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। ৫ ফেব্রুয়ারি সকালে রাজধানীর উত্তরায় চলন্ত গাড়ি থামিয়ে মা ও মেয়েকে গুলি করে ছয় লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ৬ ফেব্রুয়ারি আশুলিয়া মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে তিনজনকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা ছয় লাখ টাকা নিয়ে যায়। ওই স্পটগুলোতে প্রায়ই ঘটছে ছিনতাইয়ের ঘটনা।
রাজধানীতে বেশ কিছু স্পট রয়েছে, যেসব স্পট দিয়ে দিনের বেলায় যেতেও মানুষ ভয় পায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে অন্তত ১০টি স্পট রয়েছে, যে স্পটগুলো ছাত্রছাত্রী ও পথচারীদের কাছে ডেঞ্জার স্পট হিসেবে পরিচিত। এর মধ্যে দোয়েল চত্বর হচ্ছে সবচেয়ে ভয়ানক। প্রায়ই এখানে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। দোয়েল চত্বর হয়ে চাঁনখারপুল এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগ পর্যন্ত রাস্তা দু’টি অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে পথচারীরা জানান। চাঁনখারপুল এলাকার বাসিন্দা আবুল কাশেম জানান, এ দু’টি রাস্তা সব সময় তিনি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন। ফকিরাপুল মোড়ের আশপাশে অন্তত ১০টি স্পট রয়েছে। এর মধ্যে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালের সামনের স্পটটি অত্যন্ত মারাত্মক। পথচারীরা জানান, প্রায়ই দেখা যায় ছিনতাই করে দুর্বৃত্তরা দৌড়ে পাশের কলোনির ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে। একই অবস্থা টিএন্ডটি ও মতিঝিল ব্যাংক কলোনির আশপাশের এলাকার। অথচ কাছেই আরামবাগ পুলিশ বক্স। কিন্তু এর মধ্যেও প্রায়ই এই স্থানে ঘটছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। নটর ডেম কলেজের পাশের রাস্তায় প্রায়ই ঘটছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। 
সন্ধ্যার পর মতিঝিলের বেশ কিছু এলাকায় নেমে আসে নীরবতা। বিশেষ করে দিলকুশার ভেতরের অনেক গলিতে তখন মানুষের যাতায়াত থাকে না। আর এই সুযোগে অপরাধীরা ওইসব স্পটে প্রকাশ্যেই মাদকের আসর বসাচ্ছে। সেগুনবাগিচার বেশ কিছু গলি সন্ধ্যা হলেই অপরাধীদের দখলে চলে যায়। এই এলাকায় অন্তত ১০টি স্পট রয়েছে, যেখানে গাঁজার আসর বসে সন্ধ্যার পর। কলমাপুর স্টেশন থেকে বের হয়ে বেশ কয়েকটি স্পটে যাত্রীরা দুর্বৃত্তদের কবলে পড়ছেন। শাহজাহানপুর মোড়, মাজারের সামনে, টিটিপাড়া মোড়সহ বেশ কয়েকটি স্পট রয়েছে, যেখানে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। স্বামীবাগ থেকে যাত্রাবাড়ী মোড় পর্যন্ত ফ্লাইওভারের নিচে অন্তত ১০টি স্পট রয়েছে, যেখানে পথচারীরা নিয়মিত দুর্বৃত্তদের কবলে পড়ছেন। সায়েদাবাদ জনপথ মোড় ও গোলাপবাগ মাঠের আশপাশের বেশ কয়েকটি স্পট রয়েছে, যেখানে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ছেন পথচারীরা। গোলাপবাগ মাঠের আশপাশে অন্তত ১০টি গাঁজার স্পট রয়েছে। যেখানে প্রকাশ্যে রাস্তার ওপর দুর্বৃত্তরা গাঁজা সেবন করে।
অভিযোগ রয়েছে, যেসব স্পটে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে, তার আশপাশেই পুলিশের টিম থাকে বা ছিল; কিন্তু দায়িত্বরত পুলিশের সাহায্য চেয়েও কোনো সাহায্য পাননি ভুক্তভোগীরা।
http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/197884