১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
নিউইয়র্কসহ বিমানের সাত বিদেশী অফিস বন্ধ, তিন মাসের মধ্যে স্টাফদের দেশে ফেরার নির্দেশ * বাসা, অফিস, অ্যাকাউন্ট ক্লোজ করার চিঠি
২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, বুধবার,
অবশেষে বন্ধ করে দেয়া হল বিমানের ফ্লাইট নেই এমন সাত আন্তর্জাতিক স্টেশনের অফিস। লোকসান ঠেকাতে বিমান পরিচালনা পর্ষদের মার্কেটিং সংক্রান্ত সাব-কমিটি বিদেশী অফিসগুলো বন্ধের সুপারিশ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বিমান পরিচালনা পর্ষদের সভায় সাতটি আন্তর্জাতিক স্টেশন বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। স্টেশনগুলো হচ্ছে নিউইয়র্ক, ম্যানচেস্টার, হংকং, রোম, ফ্রাংকফুর্ট, দিল্লি ও বাহরাইন। বোর্ডের সিদ্ধান্তের বিষয়টি এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোয় লিখিতভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। তাদের অফিস, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, বাসা- সব কিছু বন্ধ করে তিন মাসের মধ্যে দেশে ফিরে আসার জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে।
 
এসব স্টেশনে একজন কান্ট্রি ম্যানেজার, একজন স্টেশন ম্যানেজারসহ ৩-৪ জন করে কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছেন। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, যেখানে বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল ঢাকা-নিউইয়র্ক ফ্লাইট চালু করা, সেখানে ওই স্টেশন বন্ধ করে দেয়ায় বিমানের ওপর যাত্রীদের বিরূপ প্রভাব পড়বে।
 
বিমানের জেনারেল ম্যানেজার (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ যুগান্তরকে বলেন, নিউইয়র্ক অফিস বন্ধ করে দেয়া হলেও অনলাইনের সব ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি জানান, বোর্ড সাব-কমিটির সভায় স্টেশনগুলো বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। গত বোর্ড সভায় ফাইলটি উপস্থাপন করা হয়েছে। সে সভার সিদ্ধান্ত কী, তা এখনও লিখিতভাবে তিনি পাননি। তবে তিনি বলেন, একটি অফিস গুটিয়ে নিতে হলে কমপক্ষে ৩-৪ মাস সময় লাগে। সে অনুযায়ী বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে।
 
জানা গেছে, ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটের ফ্লাইট পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হয় ২০০৬ সালের ২৯ জুলাই। এরপর দেশের সিভিল এভিয়েশন ক্যাটাগরির মান গ্রেড-২’তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে রুটটি আর চালু করা যায়নি। ফের চালুর আশায় ১০ বছর ধরে নিউইয়র্কের অফিস খরচ ও কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা দিয়ে আসছিল বিমান। বিমানের মার্কেটিং বিভাগের বক্তব্য, অফিস থাকায় ওই স্টেশন থেকে টিকিট বিক্রির মাধ্যমে বছরে ১০-২০ কোটি টাকা আয় করা যেত। সে অনুযায়ী ব্যয় ছিল কম। তাই অফিস থাকলেও তেমন লোকসান ছিল না। এখন পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়ায় কিছুটা হলেও বিরূপ প্রভাব পড়বে বিমানের ওপর।
 
নিউইয়র্ক স্টেশনে বর্তমানে বিমানের স্থানীয় একজনসহ কর্মকর্তা আছেন তিনজন। তারা সবাই সেখানে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন। এরই মধ্যে তাদের অফিস, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, বাসা- সব কিছু বন্ধ করে দেশে চলে আসার জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠিতে ৩ মাসের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে। ১৯৯৩ সালে আমস্টারডাম হয়ে নিউইয়র্ক রুটের ফ্লাইট শুরু করে বিমান। পরবর্তী সময়ে ঢাকা-দুবাই-ব্রাসেলস-নিউইয়র্ক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করে সংস্থাটি। ডিসি-১০ উড়োজাহাজ দিয়ে নিউইয়র্ক রুটটি পরিচালনা করত বিমান। তবে লোকসান ও উড়োজাহাজ স্বল্পতার কারণে ২০০৬ সালের ১৩ মার্চ নিউইয়র্ক রুটে সাপ্তাহিক ফ্লাইট তিন থেকে একটিতে নামিয়ে আনা হয়। একই সময় ব্রাসেলস রুটের ফ্লাইটও বন্ধ করে কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ ২০০৬ সালের ২৯ জুলাই নিউইয়র্ক রুটের ফ্লাইট পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় বিমান। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ২০১২ সালে আবার ম্যানচেস্টার রুটের ফ্লাইট চালু করে সংস্থাটি। কিন্তু হজ ফ্লাইট চালাতে গিয়ে উড়োজাহাজ সংকটে ওই বছর ১৯ অক্টোবর আবারও বন্ধ করে দেয়া হয় ম্যানচেস্টার রুটের ফ্লাইট। বর্তমানে স্টেশন ম্যানেজার, কান্ট্রি ম্যানেজার, অপারেশনাল ম্যানেজারসহ বিমানের ম্যানচেস্টার অফিসে পাঁচজন কর্মকর্তা রয়েছেন। গত সপ্তাহে তাদেরও লিখিতভাবে চিঠি দিয়ে অফিস, অ্যাকাউন্ট গুটিয়ে বিমানের প্রধান কার্যালয়ে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে।
 
১৯৮১ সালে ঢাকা-রোম-ঢাকা রুটে ফ্লাইট শুরু করে বিমান। প্রথমে এ রুটে সপ্তাহে দুটি করে ফ্লাইট চলাচল করত। ১০ বছর পর ফ্লাইটের সংখ্যা কমিয়ে একটি করা হয়। পরে ২০১৪ সালের এপ্রিলে রোমের সঙ্গে ফ্রাংকফুর্ট রুট যুক্ত করে ফ্লাইট শুরু করে বিমানের সাবেক বিদেশী এমডি কেভিন স্টিল। কিন্তু প্রথম ফ্লাইট থেকেই ঢাকা-রোম-ফ্রাংকফুর্ট রুটে ফ্লাইটপ্রতি গড়ে ২ কোটি ১০ লাখ টাকা লোকসান হতে থাকে। তবে ঢাকা-রোম-ঢাকা রুটটি ছিল লাভজনক। একপর্যায়ে লোকসানের কারণ দেখিয়ে ২০১৫ সালের ৭ এপ্রিল থেকে বন্ধ করে দেয়া হয় ঢাকা-রোম আর জার্মানির ফ্রাংকফুর্ট রুট। দীর্ঘদিন ফ্লাইট না থাকায় রোম স্টেশনটিও বন্ধ করা হল এবার। একইভাবে কার্যক্রম না থাকায় গুটিয়ে নেয়া হচ্ছে বাহরাইন ও দিল্লির স্টেশনও। ১৯৯২ সাল থেকে ঢাকা-দিল্লি ও ১৯৯৩ সাল থেকে ঢাকা-হংকং রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করে এলেও হজ ফ্লাইট নির্বিঘœ করতে ২০১৪ সাল থেকে এ দুই রুটে ফ্লাইট সাময়িক বন্ধ রাখা হয়। একপর্যায়ে দিল্লিতে চার কর্মকর্তার মধ্যে একজনকে রেখে তিনজনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। এদিকে বিমানের একটি সূত্র জানায়, বিমানের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল জামাল উদ্দিন থাকার সময় জাপান, গুয়াংজুসহ ৬টি আন্তর্জাতিক রুট চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। ঢাকা-গুয়াংজু-ঢাকা রুট চালুর জন্য স্লটও বরাদ্ধ করা হয়েছিল এক বছরের। আগামী মাসে এ স্লটের বরাদ্দ শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু বিমান কর্তৃপক্ষ এখনও ঢাকা-গুয়াংজো রুট চালু করতে পারেনি। একইভাবে ঢাকা-নারিতা রুট চালুর জন্যও স্লট বরাদ্দ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেটাও চালু করতে পারেনি বিমান।
http://www.jugantor.com/last-page/2017/02/21/102885/%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%89%E0%A6%87%E0%A7%9F%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%B8%E0%A6%B9-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A4-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%80-%E0%A6%85%E0%A6%AB%E0%A6%BF%E0%A6%B8-%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7