২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ: সোনারগাঁওয়ে পুলিশের দুই এসআই কনস্টেবলসহ ৯ জন অবরুদ্ধ
২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, সোমবার,
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে একটি শিল্পকারখানায় চাঁদা দাবির অভিযোগে থানার এসআই আমিনুল, আব্দুল লতিফ ও কনস্টেবলসহ ৯ জনকে অবরুদ্ধ করেছে এলাকাবাসী। গতকাল রোববার রাতে উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের মিরেরবাগ এলাকায় কাউছার টেক্সটাইল নামে একটি শিল্পকারখানায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ সদস্য অবরুদ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ অঞ্চল) সাজিদুর রহমান, সোনারগাঁও থানার ওসি তদন্ত ওবায়েদুল হক রাতেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অবরুদ্ধদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। এ ঘটনায় ওই এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত রাত পৌনে ১১টায় অবরুদ্ধরা উদ্ধার হননি।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সোনারগাঁও থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ও আব্দুল লতিফ তাদের সঙ্গীয় দুই কনস্টেবল নিয়ে সাদা পোশাকে গতকাল সন্ধ্যায় মিরেরবাগ এলাকায় কাউছার টেক্সটাইল মিল এলাকায় অবস্থান নেয়। এ সময় তারা স্থানীয় কারাবন্দী সন্ত্রাসী হিমেলের স্ত্রী রুমা আক্তারকে ওই শিল্পকারখানার ভেতরে পাঠিয়ে শিল্প মালিক বিল্লাল হোসেনের অবস্থান নিশ্চিত হন। পরে এসআই আমিনুল ও আব্দুল লতিফ দুই কনস্টেবল ও স্থানীয় চিহ্নিত দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী হাবিবুর রহমান হাবিব, মিঠু, গোলজার, জয়নালকে সাথে নিয়ে ওই শিল্পকারখানার ভেতরে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে কারখানা মালিক বিল্লাল হোসেনকে আটক করে মারধর করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ সময় ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন মারধরের শিকার হয়ে ডাকাত বলে চিৎকার শুরু করেন। বিষয়টি এলাকাবাসী জানতে পেরে স্থানীয় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিলে এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে তাদের অবরুদ্ধ করেন। পরে অবরুদ্ধদের মধ্যে দুইজন নিজেকে থানা পুলিশের এসআই ও দুইজন কনস্টেবল বলে দাবি করেন।
এ দিকে পুলিশ সদস্য অবরুদ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ অঞ্চল) সাজিদুর রহমান, সোনারগাঁও থানার ওসি তদন্ত ওবায়েদুল হক রাতেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। 
এলাকাবাসীর দাবি, ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন এলাকায় মাদক বিরোধী আন্দোলন করে আসছিল। সম্প্রতি স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী হিমেল মাদকসহ থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ায় বিল্লালের স্ত্রী ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে অসাধু পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় বিল্লালকে মারধর করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালায়।
জামপুর ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড সদস্য সুজন মিয়া জানান, সন্ত্রাসীদের নিয়ে সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরা টাকার দাবিতে ব্যবসায়ী বিল্লøালকে মারধর করায় এলাকাবাসী ডাকাত সন্দেহে তাদের অবরুদ্ধ করেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজিদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি। তিনি আরো বলেন, পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা পেলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সুপারিশ করা হবে।
http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/197401