২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শনিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
মোটা চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ৫-৭ টাকা: দাম বাড়িয়ে অসাধু শুল্ক প্রত্যাহারের চেষ্টা ব্যবসায়ীদের : খাদ্যমন্ত্রী
২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, সোমবার,
মোটা চালের দাম কেজিতে পাঁচ থেকে সাত টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। চলতি অর্থবছরে চাল আমদানির ওপর শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করায় ভারত থেকে চাল আমদানি অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। গত বছর যেখানে ভারত থেকে আড়াই থেকে তিন লাখ টন চাল আমদানি হয়েছে, সেখানে এ বছর একই সময়ে চাল এসেছে মাত্র ৩৭ হাজার টন। আর এ সুযোগে স্থানীয় অসাধু ব্যবসায়ীরা সরবরাহ কমে যাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে দফায় দফায় চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। হঠাৎ করে দাম বাড়িয়ে এসব অসাধু ব্যবসায়ীরা চাল আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারত থেকে চাল আমদানিতে কোনো ধরনের শুল্ক না থাকায় এতদিন এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী ফ্রি স্টাইলে চাল আমদানি করত। এতে কৃষকেরা তাদের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হতেন। এর ফলে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতির শিকার হন। এসব দিক বিবেচনায় নিয়ে সরকার ভারত থেকে চাল আমদানিতে শুলকারোপ করায় হঠাৎ করে চালের আমদানি আশঙ্কাজনকহারে কমে গেছে। এতে চালের বাজারে কিছুটা ‘টান’ পড়লেও কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন। যদিও সরকারের এই দাবির পক্ষে কোনো সত্যতা নেই বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের অভিযোগ কৃষকরা তো মওসুমের শুরুতেই তাদের উৎপাদিত ধান-চাল কমদামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। ফলে এখন দাম বাড়লেও তাদের কোনো লাভ নেই। এ লাভের টাকা ফড়িয়া, আড়তদার ও চালকল মালিকদের পকেটস্থ হচ্ছে। আর এ চালের বাজারের ‘সিন্ডিকেট’ কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টির মাধ্যমে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। 
এ দিকে গতকাল রাজধ্নাীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারভেদে মোটা চালের গত দুই-তিন মাসে ১২-১৪ টাকা বেড়েছে। অর্থাৎ তখন মোটা পাইজাম বিক্রি হয়েছে ২৭-২৮ টাকা কেজিতে, যা এক মাস আগেও ছিল ৩৫-৩৬ টাকা কেজি। আর এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪২ টাকায়। বিআর ২৮ বিক্রি হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৫ টাকায়। বিআর ২৯ পুরনো ৪২ থেকে ৪৫ টাকা, আর নতুন ৪০-৪২ টাকায়। 
খিলগাঁও তালতলা সুপার মার্কেটের শরীয়তপুর রাইস এজেন্সির কর্মচারী মো: রানা গতকাল এ প্রতিবেদককে জানান, শুধু মোটা চালের দামই বাড়েনি, চিকন চালের দামও আগের তুলনায় বেড়েছে। বাসমতি আগে বিক্রি হযেছে ৫৫ টাকা কেজি, আর এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজিতে। জিরা নাজির ৫৫ টাকা থেকে ৫৮ টাকায়, মিনিকেট ৫২ থেকে ৫৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছ্।ে এসব চিকন চাল এক মাস আগেও অন্তত কেজিতে পাঁচ টাকা কমে বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ মোটা, চিকন সব ধরনের চালের দামই কমবেশি বেড়েছে।
এ দিকে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, চালের দাম বাড়িয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা চাল আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারের চেষ্টা করছেন। তবে এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের এ কৌশল কাজে আসবে না বলে তাদের হুঁশিয়ার করে দিয়ে তিনি বলেন, কোনো অবস্থায়ই চালের ওপর সরকারের আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে না। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, এবার মোটা চালের দাম বৃদ্ধির মূল কারণটা হচ্ছে, গত বছর এই সময়ে ভারত থেকে আড়াই থেকে তিন লাখ টন চাল এসেছে বিনা শুল্কে। এখন সরকার শুল্ক আরোপের পর এ বছর এই সময়ে ভারত থেকে চাল এনেছে ৩৭ হাজার টন। এক সময় এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী ভারত থেকে ফ্রি স্টাইলে চাল আমদানি করত, যার ফলে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হতেন। ট্যাক্স আরোপের ফলে কৃষকেরা এখন লাভবান হচ্ছেন।
এর আগে গণমাধ্যমে চালের দাম বাড়ার খবর আসায় গত বুধবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে চালকল মালিকদের সাথে বৈঠকও করেছেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। এ নিয়ে পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, চালের দাম বেড়েছে বলে মিডিয়ায় খবর আসছে। মিল মালিকদের মাধ্যমে আমরা প্রকৃত অবস্থা জানতে বসেছিলাম। তাদের কাছ থেকে অত্যন্ত ইতিবাচক বক্তব্য পেয়েছি। তারা আমাদের কাছে সঠিক চিত্র তুলে ধরেছেন যে, কোনো সমস্যা নেই। এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী পাইকারি বাজারের সাথে অসামঞ্জস্যভাবে চালের দাম বৃদ্ধি করেছে। এ জন্য খুব বেশি প্রতিক্রিয়া হয়েছে, এটা আমি বলব না। অসাধু ব্যবসায়ী তারাই যারা মনে করছে, কোনো রকম একটা অবস্থার সৃষ্টি করে যাতে শুল্কটা প্রত্যাহার করতে পারেন। কিন্তু শুল্ক প্রত্যাহারের প্রশ্নই ওঠে না। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে চাল আমদানির ওপর শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়। এতে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন। আমরা কৃষকদের লাভবান করতে চাই মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, দাম একটু বেশি থাকলে কৃষকেরা লাভবান একটু বেশি হন। কৃষকেরা এখন খুশি, তারা লাভবান হচ্ছেন। কাজেই কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্ত হতে আমরা দেব না। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, এ মুহূর্তে চালের বাজার স্থিতিশীল আছে। আমন মওসুমের শেষ সময়ে এবং বোরো মওসুমের শুরুতে দাম সবসময়ই একটু বাড়ে। লিঙ্ক পিরিয়ডে দাম বাড়াটাই স্বাভাবিক। তবে তা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে। দুই মাস পর যখন বোরো সংগ্রহ শুরু হবে, তখন বাজারে মোটা চালের আর অভাব থাকবে না।
বর্তমানে ৯ লাখ টন খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে জানিয়ে কামরুল ইসলাম বলেন, বাজারে চিকন চালের দাম খুব বেশি বাড়েনি। গত বছর এ সময়ে মোটা চালের দাম যে অবস্থায় ছিল, তা থেকে এখন দুই থেকে আড়াই টাকা বেশি আছে। পাইকারি বাজারে মোটা চালের দাম একটু বেশিই বেড়েছিল, যেটা ৩৪ টাকা থেকে সাড়ে ৩৪ টাকা হয়ে গিয়েছিল সেটা এখন পাইকারি বাজারে আরেকটু কমে ৩৩ থেকে সাড়ে ৩৩ টাকা হয়েছে। সরকার ৩৩ টাকা দরে আমন চাল কিনছে জানিয়ে তিনি বলেন, এবার সিদ্ধান্ত ছিল আমরা তিন লাখ টন আমন চাল কিনব। সম্ভব হলে বেশি কিনব। এ মুহূর্তে তিন লাখ ২৬ হাজার টন আমন আমাদের ঘরে চলে এসেছে। আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত আমন সংগ্রহ অভিযান চলবে। এখনো দৈনিক ৪০০ থেকে ৮০০ টনের চুক্তি হচ্ছে। চালের দাম যদি বেশি রকম বাড়তি বা অসামাঞ্জস্য থাকত তাহলে মিল মালিকরা আমাদের ৩৩ টাকা দরে চাল দিতে পারত না।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রশীদ বলেন, মোটা চালের বাজার বেড়েছে এটা সত্য। যতটুকু বেড়েছিল তা থেকে আবার কেজিতে এক টাকা কমে গেছে। আমরা আশা করি নতুন করে আর চালের বাজার বাড়ার সম্ভাবনা নেই। দেশে পর্যাপ্ত চাল আছে। যে অবস্থায় গেছে তা স্থিতিশীল থাকবে ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, পাইকারি দামে বাজার তেমন বাড়েনি। কিন্তু রিটেইলে কিছু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আছে তারা সুযোগ-সুবিধা পেলেই কেজিতে দুই-এক টাকা বেশি নিয়ে থাকে।
http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/197350