২০ নভেম্বর ২০১৯, বুধবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
এখনো ইমারত উঠছে পুরনো বিধিমালায়: পরিদর্শকেরা নির্বিকার
২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, সোমবার,
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পরিদর্শকদের চোখের সামনেই ঢাকায় ইমারত উঠছে পুরনো বিধিমালায়। পুরনো বিধিমালাটির কার্যকারিতা ২০১০ সালে শেষ হয়ে গেলেও এখনো ওই বিধিমালা অনুসরণ করে ভবন উঠছে। ১৯৯৬ সালের বিধিমালায় ভবন নির্মাণ করা হলে সামনে-পেছনে এবং দুই পাশে সামান্য জায়গা ছাড়তে হতো। এ সুবিধাটির জন্য এখনো অনেকে ভবন নির্মাণ করছেন। একটি ভবন নির্মাণ করতে দেড় বছর অথবা দুই বছর লাগলেও পুরনো বিধিমালার ভবনটি উঠে যাচ্ছে খুব দ্রুত যাতে নির্মাণ হয়ে যাওয়ার পর তা আগে নির্মাণ করা হয়েছে বলে চালিয়ে দেয়া যায়। 
রাজউকের কর্মকর্তারাই জানিয়েছেন, ‘ইমারত নির্মাণ বিধিমালার কঠোর প্রয়োগ না থাকায় নির্মাণকারীরা বিধিটি মানতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। পুরনো বিধিমালায় ভবনতো উঠছেই এমনকি নতুন বিধিমালায় অনুমোদন করিয়ে নিয়ে তা পুরোপুরি অনুসরণ করা হচ্ছে না। রাজউকের পরিদর্শকেরা এ জন্য দায়ী। এরা মোটা অঙ্কের টাকা বিনিময়ে রাজউকে সঠিক তথ্যটা দেয় না।’
বিধিমালার সর্বশেষ সংশোধনীতেও বাড়ির সামনে ২০ ফুট রাস্তা থাকলে রাস্তা থেকে ভেতর দিকে কমপক্ষে পাঁচ ফুট (দেড় মিটার) জায়গা খালি রাখতে হয়। বিধিমালাটি সঠিকভাবে অনুসরণ করছেন খুব কম বাড়িওয়ালা। 
বাড়ির সামনে ২০ ফুট প্রশস্ত রাস্তা না থাকলে ৫ ফুটের সাথে বাড়ির সামনে ২০ ফুট রাস্তা হতে যতটুকু জায়গা লাগবে এর অর্ধেক ছাড়ার নির্দেশনা দেয়া আছে। এটা ছাড়াও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী বাড়ির পেছনে ও দুই পাশে নির্দিষ্ট জায়গা রেখে বাড়ি বানাতে হয়। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে নির্মাণাধীন ও নির্মিত ইমরাত পরিদর্শনে দেখা গেছে বাড়ির সামনে নকশা অনুযায়ী কিছুটা জায়গা ছেড়ে মূল ইমারত নির্মাণ করা হলেও পেছনে জায়গা ছাড়ার ব্যাপারে ভবন মালিকদের একেবারেই অনীহা রয়েছে। 
ঢাকার বিভিন্ন স্থান পরিদর্শনে দেখা গেছে, নতুন ভবনে সামনের অংশে জায়গা থাকলেও পেছনের অংশে জায়গা একেবারেই ছাড়া হচ্ছে না। ফলে নতুন ইমারত নির্মাণ বিধিমালার উদ্দেশ্যে পুরোপুরি পূরণ হচ্ছে না। 
নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার মো: হারুনুর রশীদ জানিয়েছেন, নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে না পারলে শুধু আইন করে কোনো বিধিমালা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।’ 
রাজউকের পরিকল্পনা বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাজউক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে নিয়মিত। ভবন নির্মাণে ডেভিয়েশন (নকসা বিচ্যুতি) চিহ্নিত করে ম্যাজিস্ট্রেটরা জেল-জরিমানা করছেন। উদ্দেশ্য সচেতনতা সৃষ্টি করা। আমরা জেলকে নিরুৎসাহিত করে থাকি, বাধ্য না হলে জেল দেয়া হয় না। তিনি বলেন, শিগগিরই আমরা এ ব্যাপারে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করব।’ 
ঢাকায় হরাইজন্টাল ও ভার্টিক্যাল (আড়াআড়ি ও ঊর্ধ্বমুখী) উভয় দিকেই নকশা পুরোপুরি অনুসরণ করা হচ্ছে না। সবচেয়ে বেশি নকশা বিচ্যুতি হয়ে থাকে প্রভাবশালীদের দ্বারা। যারা বেশি ক্ষমতাসীনদের সাথে যোগাযোগ রাখেন তারাই বেশি করে নকশা বিচ্যুতি করে থাকেন বলে জানান রাজউকের কর্মকর্তারা। 
রাজউকের উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক শেখ জাহিদ হাসান ফারুক বললেন, এখনো পুরনো বিধিমালায় বাড়ি নির্মাণ হচ্ছে কি না তার জানা নেই। তিনি উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সদস্য বলতে পারবেন। তবে উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণের সদস্য আসমাউল হোসেইনের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গলির ভেতরের নির্মাণাধীন অথবা নির্মিত এপার্টমেন্টগুলোতে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুসরণ না করার প্রবণতা বেশি। রাজউকের লোকজন এ এপার্টমেন্টগুলো দেখেন না অথবা যেতে পারেন না। কিছু কিছু গলিতে গাড়িও প্রবেশ করে না। তা সত্ত্বেও অভিযোগ রয়েছে রাজউকের মাঠ পর্যায়ের পরিদর্শকেরা ঠিকই নিয়মিত মাসোয়ারা নিয়ে আসেন। এরা রাজউককে সঠিক তথ্য দেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে। রাজউক অনুমোদিত নকশা অনুসরণ না করে নির্মিত বাড়ির সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি। এটা রাজউকের পরিদর্শকরাই চিহ্নিত করেছে। এর বাইরে আরো ২০ হাজারের বেশি বাড়ি পাওয়া যাবে যেখানে কোনো- না-কোনোভাবে নকশা বিচ্যুতি ঘটানো হয়েছে।
http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/197391