২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শনিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
বিদ্যুতের ৪ প্রকল্পে নেয়া হচ্ছে চড়া সুদে ঋণ: কঠিন শর্তসহ ঋণে সুদের হার হবে ৩ থেকে ৫ শতাংশ
২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, সোমবার,
বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণে চড়া সুদ ও কঠিন শর্তে নেয়া হচ্ছে ১৭ হাজার ৬০২ কোটি টাকার ঋণ। এ অর্থে তিনটি নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে প্রিপেইড মিটারিং প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে তিনটি বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থায়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু এই অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ এসব ঋণ চড়া সুদের পাশাপাশি নানা ধরনের শর্ত থাকে। বিশেষ করে বায়ার্স ক্রেডিটে যে দেশ থেকে ঋণ নেয়া হবে সে দেশ থেকেই অধিকাংশ পণ্যই কিনতে হবে। এ ছাড়া ইসিএ (এক্সপোর্ট কেডিট এজেন্সি) থেকে ঋণ নেয়া হলে যারা কাজ পাবে তারাই এসব এজেন্সি থেকে অর্থ সংগ্রহ করবে। এই দুটি উৎসেই সুদের হার অনেক বেশি এবং পণ্য ক্রয়েও নানা শর্ত থাকে। এ ছাড়া এসব ঋণ পরিশোধের সময় কম দেয়া হয়। অর্থায়নের আরেকটি উৎস হচ্ছে ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) ঋণ। এতেও সুদের হার বেশি এবং বিভিন্ন ফি যুক্ত করা হয়। পরিশোধের সময় কম থাকে।
 
 
সংশ্লিষ্টরাও স্বীকার করেছেন, নানা শর্তসহ এসব ঋণে সুদের হার হবে তিন থেকে পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে সব মিলিয়ে ৩৪ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ইতিমধ্যেই এ ধরনের ঋণ নেয়ার বিষয়ে সম্মতিও দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। তবে নতুন এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে সরকারের লক্ষ্য পূরণে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।
 
এদিকে চড়া সুদের ঋণের বিষয়ে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। তারা বলছেন, ধারণক্ষমতার বেশি ঋণ নেয়া উচিত হবে না। নিলেও বিনিয়োগের সুফল পেতে ঋণের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
 
দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) উন্নয়ন সহযোগিতাসংক্রান্ত জাতীয় নীতির এক পরামর্শ সভায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান চীনসহ বিভিন্ন উৎসহ থেকে চড়া সুদে ঋণ নেয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। এ সময় তিনি বলেন, এসব ঋণের বিষয়ে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। শ্রীলংকা এই ঋণ নিয়ে পরিশোধের ঝামেলায় পড়েছে। যেভাবে রিটার্ন আসার কথা ছিল সেভাবে না আসায় তাদের এ অবস্থা হয়েছে। অন্যদিকে ঢাকায় আন্তর্জাতিক একটি সংস্থায় কর্মরত এক বিশেষজ্ঞ এর আগে যুগান্তরকে বলেছেন, উচ্চ সুদে ঋণ নেয়ার বিষয়ে সরকারকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কেননা অনেক দেশই এ ধরনের ঋণ নিয়ে এখন দেউলিয়া হওয়ার পথে। তাই এখন থেকে হিসাব-নিকাশ করেই এ ধরনের ঋণ নেয়া উচিত। আবার ঋণের অর্থ যেন সঠিকভাবে ব্যবহার হয় এবং যে উদ্দেশ্যে নেয়া হয় তা পূরণ করতে পারে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
 
তবে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) ভারপ্রাপ্ত সচিব কাজী শফিকুল আযম রোববার যুগান্তরকে বলেন, সরকারি আইন-কানুন মেনে এরকম ঋণ নিলে কোনো সমস্যা হবে না। তা ছাড়া দেশের ঋণের ধারণক্ষমতা এখনও পূরণ হয়ে যায়নি। সুতরাং ঋণ নেয়ার সুযোগ রয়েছে।
 
বিদ্যুতের এই চরটি প্রকল্পের মধ্যে রি-পাওয়ারিং প্রজেক্ট অব ঘোড়াশাল সিক্স ইউনিট প্রকল্পটি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। দুই হাজার ৬৪২ কোটি ৭৩ লাখ ৩২ হাজার টাকা মোট ব্যয়ের মধ্যে বৈদেশিক ঋণ নেয়া হচ্ছে দুই হাজার ২৬০ কোটি ১১ লাখ টাকা, যা বায়ার্স ক্রেডিট হিসেবে নেয়া হবে। তবে কোনো দেশ বা সংস্থার কাছে নেয়া হবে সেটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। প্রকল্পটির বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের ২৬ মে প্রকল্পের ওপর যাচাই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইনহাউজ ফ্যাজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রকল্পের বিপরীতে সর্বনিন্ম দরদাতার দরপ্রস্তাব অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।
 
এ ছাড়া কনস্ট্রাকশন অব মহেশখালী ১২০০-১৪০০ মেগাওয়াট কোল ফায়ারড আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল থার্মাল পাওয়ার প্লান্ট (চতুর্থ ইউনিট) প্রকল্পটি ২০১৯-২০ অর্থবছরের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। এতে মোট ২৭ হাজার ছয় কোটি ৬৬ লাখ ৬২ হাজার টাকা ব্যয়ের মধ্যে বৈদেশিক ঋণ থেকে অর্থায়নের লক্ষ্য ১২ হাজার ২৪২ কোটি ১৮ লাখ টাকা। যা ইসিএ (এক্সপোর্ট ক্রেডিট এজেন্সি) ঋণ থেকে সংগ্রহ করা হবে। প্রকল্পের অবস্থা সম্পর্কে জানা গেছে, খসড়া উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবের (ডিপিপি) ওপর ২০১৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরামর্শক মহেশখালীতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে মাস্টার প্লান প্রণয়নের কাজ করছে। এর ভিত্তিতেই ডিপিপি পুনর্গঠন করা হবে।
 
তিন হাজার ২৫৩ কোটি ৭৬ লাখ ১৭ হাজার টাকা ব্যয়ে কনস্ট্রাকশন অব খুলনা ২০০-৩০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট প্রকল্পটি চলতি অর্থবছর থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। বৈদেশিক উৎস থেকে ইসিএ ঋণ নেয়া হবে দুই হাজার ১৩ কোটি ৯৫ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। প্রকল্পের অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট দর অনুমোদন দিয়েছে। এর ভিত্তিতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করে গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। ওই বছরের ২৩ অক্টোবর প্রকল্পের ওপর যাচাই কমিটির সভা হয়েছে। এ ছাড়া প্রি-পেমেন্ট প্রজেক্ট ফর বিপিডিবি’স সিক্স ডিস্ট্রিবিউশন জোনস শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে এক হাজার ৫১৯ কোটি ৯৪ লাখ ৮১ হাজার টাকা। এর মধ্যে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইডিবি) ঋণ নেয়া হবে এক হাজার ৮৬ কোটি ৪৩ লাখ ৫৬ হাজার টাকার। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক হোসাইন আহমেদ রোববার যুগান্তরকে বলেন, প্রকল্পগুলো আমাদের নয়, তাই সুদের হার বিষয়ে কিছু বলার নেই। আমরা শুধু নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে মতামত দিয়ে থাকি। যেমন কোন বিদ্যুৎ কেন্দ্র রিপাওয়ারিং করা প্রয়োজন বা রিপাওয়ারিং করলে লাভ হবে কিনা, ইত্যাদি বিষয়ে মতামত দিয়ে থাকি।
http://www.jugantor.com/last-page/2017/02/20/102578/%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A7%AA-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A7%87-%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A7%9F%E0%A6%BE-%E0%A6%B9%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%9A%E0%A7%9C%E0%A6%BE-%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%87-%E0%A6%8B%E0%A6%A3