১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
কক্সবাজারে চলছে সরকারি জমি ভাগাভাগি
২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, সোমবার,
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের আশেপাশের সরকারি জমি ভাগাভাগি চলছে। এসব জমি ছোট-বড় প্লট বানিয়ে বিক্রি করছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এর বাইরে সরকারি জমি দখল করে পৃথিবীর দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত  কক্সবাজারের বালিয়াড়িতে নারকেল গাছ রোপণ ও ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব ঘরে রোহিঙ্গারা ঘাঁটি গেড়েছে। দেশের শীর্ষ এক গোয়েন্দা সংস্থা এক প্রতিবেদনে এসব কথা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আলী হোসেন মানবজমিনকে বলেন, সরকারি জমিতে ঘর নির্মাণ সংক্রান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেয়েছি। সমুদ্র সৈকতের পাড়ে অবৈধ ঘর উচ্ছেদ চলমান রয়েছে। ধীরে ধীরে সব অবৈধ ঘর উচ্ছেদ করা হবে। আশা করছি কোনো অবৈধ স্থাপনা থাকবে না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কক্সবাজার শহরের ১ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম কুতুবদিয়া পাড়ার বঙ্গোপসাগরের সমুদ্র সৈকতের পাশে সমিতিপাড়া, বাসাইন্যাপাড়া এবং পশ্চিম কুতুবদিয়া পাড়া সংলগ্ন ঝাউবনের ভেতরে এবং বাইরে সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়িতে ছোট-বড় প্লট বানিয়ে বেচাকেনা হচ্ছে। এসব প্লট প্রতি গণ্ডা অর্থাৎ প্রতি দুই শতক ১০ থেকে ২০ হাজার টাকায় ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। পশ্চিম কুতুবদিয়া পাড়া এবং পশ্চিম সমিতিপাড়া সংলগ্ন সৈকতের বালিয়াড়িতে প্রায় ২০/৩০ একর বালিয়াড়ি দখল করে প্রায় এক হাজার নারকেল গাছ রোপণ এবং প্রায় ৪০/৫০টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া, ওই বালিয়াড়িতে বাঁশ ও কাঠের বেড়া দিয়ে ঘিরে বিক্রির জন্য ছোট ছোট শতাধিক প্লট তৈরি করে রাখা হয়েছে। পাশের কুতুবদিয়াপাড়া ও নাজিরারটেক সৈকতেও ঘর তৈরির জন্য ছোট ছোট প্লট বানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে এসব কাজের মূল হোতাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে এদের ঠিকানা ও পিতার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এক দখলদারের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে সে স্থানীয় বন বিভাগ কর্তৃক নিয়োজিত একজন ওয়াচার (অস্থায়ী কর্মী)। ঝাউবাগান এবং বালিয়াড়িতে প্লট তৈরি, বিক্রি, নারিকেল গাছ রোপণ এবং ওই নারকেল বাগানের পাশে ও ঝাউবাগানের মাঝখানে ঘরবাড়ি নির্মাণ করছে সে ও তার দুই সহযোগী। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সে ও তার সহযোগীরা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়িতে নারকেল বাগান সৃষ্টির জন্য জেলা প্রশাসন থেকে কোনো অনুমতি নেয়নি। এসব নারকেল বাগান সৃষ্টি এবং বালিয়াড়িতে প্লট নির্মাণ ও তা বেচাকেনায় বন বিভাগের কক্সবাজার সদর রেঞ্জ অফিসের ফরেস্ট গার্ড এবং কস্তুরাঘাট বিট কর্মকর্তার পরোক্ষ সহযোগিতা রয়েছে। এসব বিষয় নজরে আসার পর কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকটি স্থাপনা (ঘর) উচ্ছেদ করেন। তবে ওই এলাকায় এখনো অবৈধভাবে দখলদার অনেক স্থাপনা রয়েছে। পাশাপাশি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে সমুদ্রতীরের বালিতে বিভিন্ন স্পটে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে ঝুপড়ি ঘর, কুঁড়েঘর ও ডেরা নির্মাণ করা হয়েছে। এসব স্থাপনায় মিয়ানমার থেকে অবৈধভাবে আসা অনেক রোহিঙ্গা নাগরিক অবস্থান করে থাকে। প্রতিবেদনে সুপারিশে বলা হয়েছে, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়িতে গড়ে তোলা সব ধরনের অবৈধ প্লট, স্থাপনা, ঘরবাড়ি, ঝুপড়ি ঘর, কুঁড়েঘর, ডেরা জরুরিভিত্তিতে উচ্ছেদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া যায়। তাই পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য্য হারানোর পাশাপাশি ওই এলাকার জীব- বৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য ধীরে ধীরে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। একই সঙ্গে বালিয়াড়িতে প্লট তৈরি এবং কেনাবেচার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া যায়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি জমি ভাগাভাগির সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসন, বনবিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে চিঠি দেয়া হয়েছে। এসব সরকারি দপ্তরকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত রক্ষা ও নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে সৈকতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ রোধে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
http://www.mzamin.com/article.php?mzamin=54328&cat=3/%E0%A6%95%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B8%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%9A%E0%A6%B2%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BF-%E0%A6%9C%E0%A6%AE%E0%A6%BF-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%BF