২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শুক্রবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
হাজার হাজার রোহিঙ্গা জঙ্গলে অর্ধাহারে অনাহারে কাটাচ্ছে
২২ ডিসেম্বর ২০১৬, বৃহস্পতিবার,
সাইদ, ৩৩ বছর বয়সী ধর্মীয় শিক্ষক, আতঙ্কে রয়েছেন এখনো। গত ৯ অক্টোবর একটি রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপ মংগদুতে সীমান্ত চৌকিতে হামলা চালায়। মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলে রাখাইন অঞ্চলে ওই হামলায় ৯ জন সীমান্ত রক্ষী মারা যায়। সাইদ রাখাইন অঞ্চলের রোহিঙ্গা এবং সে জানত মিয়ানমার সেনাবাহিনী ওই হামলার জবাব দেবে। তাই সে এমন পোশাক পড়ে, যা সে সচরাচর পড়ে না, দাঁড়ি কামিয়ে ফেলে। আরো ১৬ জনের সঙ্গে সে তার গ্রাম ছেড়ে পালায়। বেশ কয়েকদিন জঙ্গলে পালিয়ে ছিল তারা। এরপর তারা নাফ নদী পাড়ি দিতে সক্ষম হয়। এ নদীটি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে বিচ্ছিন্ন করেছে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কুতুপালং ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়। এটি বাংলাদেশের উপকূলীয় শহর কক্সবাজারে। দি ইকোনোমিস্ট, আমাদের সময়.কম।
সাইদের আতঙ্ক সত্যি সত্যি এক ভয়ঙ্কর ঘটনায় পরিণত হয়েছে। মংগদুর অধিকাংশ এলাকা ঘিরে রেখেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। সেখানে সাংবাদিক, ত্রাণকর্মী ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের যেতে দেয়া হচ্ছে না। সেনাবাহিনী বলছে তারা চুরি যাওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ খুঁজছে। কিন্তু খবর পাওয়া যাচ্ছে গণগ্রেফতার, নির্যাতন, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, বেসামরিক মানুষকে হত্যা, পরিকল্পিতভাবে ধর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। অন্তত ৮৬ জনকে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবিতে দেখা গেছে অন্তত ১৫’শ ভবন, অসংখ্য ঘরবাড়ি, দোকানপাট, বাজার ও মসজিদ আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে সেনাবাহিনী। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এসব ছবি বিশ্লেষণ করে দেখেছে, অগ্নিসংযোগের সময় মিয়ানমার সৈন্যরা ট্রাকে করে ওসব গ্রামের আশে পাশে চলাফেরা করছিল। এ্যামনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী পরিকল্পিত হত্যাকা- ও সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে মিয়ানমার সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, এসব অভিযোগ বাড়িয়ে বলা হচ্ছে।
ইতোমধ্যে অন্তত ২৭ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে। সাইদের মত এরা শুধু জানটুকু নিয়ে পালাতে পেরেছে। যারা পারেনি এমন হাজার হাজার রোহিঙ্গা এখনো জঙ্গলে অনাহারে কাটাচ্ছে এবং বাংলাদেশে আশ্রয়ের সুযোগ খুঁজছে। রাখাইন অঞ্চল মিয়ানমার সেনাবাহিনী ঘিরে রাখায় সেখানো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে, কোনো কাজ নেই, ক্ষেতে পাকা ফসল বিনষ্ট হচ্ছে, হাসপাতালে চিকিৎসা পর্যন্ত মিলছে না।
এমন বর্বরতা শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া অং সাং সু চি যিনি মিয়ানমারের ক্ষমতায় সর্বেসর্বা হিসেবে দাবি করেছেন তার সঙ্গে মানায় না। গত বছর নির্বাচনে এক ভূমিধস বিজয়ের মাধ্যমে তিনি ক্ষমতায় আসেন। না জাতিগত নিধন ঠেকাতে তিনি কোনো ভূমিকা নিচ্ছেন, শান্তির দূত হিসেবে না তিনি কোনো দক্ষতা দেখাতে পারছেন। তিনি যখন ক্ষমতায় যেয়ে তার দফতরে পা রাখেন তখন বলেছিলেন, তার প্রথম কাজ হবে দশকের পর দশক ধরে চলা মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধ ঠেকানো। সুচি তা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। উপরন্তু রোহিঙ্গা মুসলমানদের হত্যাযজ্ঞ চলছে। তিনি বলছেন, পরিস্থিতি শান্ত হতে সময় লাগবে। মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে কোচিন ইন্ডিপেন্ডডেন্ট আর্মি, আরাকান আর্মি, টাং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি ও মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক এ্যালায়েন্স আর্মি স্বাধীনতা লাভের জন্যে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। এসব সশস্ত্র গ্রুপের অভিযোগ মিয়ানমার সেনাবাহিনী হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। আর মিয়ানমার সরকার বলছে, এসব সশস্ত্র গ্রুপের সঙ্গে আলোচনা চলছে সংকট নিরসনের জন্যে।
মিয়ানমারে এধরনের সহিংসতা চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। স্বাধীনতা লাভ করলেও জাতিগত নিধন অব্যাহত রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সামরিক শাসন জগদ্দল পাথরের মত দেশটির ক্ষমতায় চেপে বসা ও সেনাবাহিনীর ওপর কখনো বেসমারিক কর্তৃত্ব না থাকায় এধরনের হত্যাযজ্ঞ রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু ক্ষমতায় এসে সুচি এসব ভয়ানক পরিস্থিতি পরিবর্তন ও নিয়ন্ত্রণে আনবেন এমন সুস্পষ্ট অঙ্গীকার দিলেও বিন্দুমাত্র পূরণ  করতে পারেননি তিনি। না তিনি সেনাবাহিনীকে সামলাতে পারছেন, না পরিস্থিতিকে। বরং সাম্প্রতিক সহিংসতায় সুচির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলোর জন্যে সহায়ক একটি নীতি প্রণয়ন করে তাদের সুরক্ষা করা ও সেনাবাহিনীর ওপর বেসামরিক সরকারের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু সুচি কিছুই করছেন না এবং তার এই নিস্ক্রীয়তা প্রমাণ করছে তার সদিচ্ছা ও বিশ্ববাসীকে দেয়া তার অঙ্গীকার কতটা ভিত্তিহীন।
মিয়ানমার ও বিশ্ববাসীর প্রত্যাশা সুচিকে নিয়ে এতটাই উঁচুতে ছিল, যখন তিনি তার রাজধানী নাইপেডুতে ১৭টি জাতিগোষ্ঠী ও কুড়িটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসলেন। এ আলোচনাকে টুয়েন্টি ফাস্ট সেঞ্চুরি পাঙ্গলং কনফারেন্স বলে অভিহিত করা হয়েছিল। এধরনের আলোচনা সুচির প্রয়াত পিতা ১৯৪৭ সালে করেছিলেন। তার পিতা জেনারেল অং সান ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা আদায়ের একজন লড়াকু নায়ক হিসেবে দেশটির শান, কোচিন ও চিন ক্ষুদ্রজাতিকে স্বায়ত্তশাসন দেয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। এ তিনটি জাতিগোষ্ঠী মিয়ানমারের মোট জনসংখ্যার ৭০ ভাগ। আন্তর্জাতিক প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে তাদের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দেয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন জেনারেল অং সান।
এবারও সুচি যখন শান্তি আলোচনায় বসেন, আদতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। সুচি আড়ম্বরপূর্ণ বক্তব্য ও সেনাবাহিনী প্রধান অস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। জাতিগোষ্ঠীর নেতারা নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন এবং প্রত্যেকেই আগামী বছর ফের এক সঙ্গে বসার অঙ্গীকার করেন। জাতিগোষ্ঠীর নেতারা মিয়ানমার সরকারকে এও আশ্বাস দেন তারা পূর্ণ স্বাধীনতা নয় বরং ফেডারেল রাষ্ট্র ব্যবস্থার মধ্যে অধিক স্বাধীনতা চান। সুচি ও সেনাবাহিনী ফেডারেল রাষ্ট্র ব্যবস্থার সমর্থক। কিন্তু আদতে দেখা যাচ্ছে সেনাবাহিনী কোন অবস্থানে রয়েছে তা পরিষ্কার নয়। কারণ জাতিগোষ্ঠীগুলোর ওপর সহিংসতা, নিধন, তাদের জমি কেড়ে নেয়া, ঘরবাড়িতে আগুন দেয়া, সম্পদ লুঠপাট অব্যাহত রেখেছে। বাস্তবে পরিস্থিতি ভিন্ন। সামরিক বাহিনী রচিত সংবিধানে সুচিকে আদতে বেসামরিক সরকার প্রধান হিসেবে সেনাবাহিনীর ওপর কোনো কর্তৃত্বের ক্ষমতা দেয়া হয়নি।
অবাক হওয়া কিছুই নাই যে জাতিগোষ্ঠীগুলো মিয়ানমার সরকারের ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলছে। যদিও সু চির সঙ্গে শান্তি আলোচনায় কোচিন নেতারা অংশ নেন, তবুও ওই জাতিগোষ্ঠীর ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর ওপরও এধরনের সহিংসতা অব্যাহত রেছেছে দেশটির সেনাবাহিনী। চীন সীমান্ত থেকে বাংলাদেশ সীমান্তের লাগোয়া মিয়ানমার সীমান্তে এই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ছে। এসব সীমান্ত পাড়ি দিয়ে সংখ্যালঘুরা আশ্রয় নিচ্ছে চীন, বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশে। মিয়ানমারের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলো তাই আশা করছে বৃহৎ দেশ হিসেবে চীন সহিংসতা বন্ধ করার জন্যে দেশটির ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। কিন্তু চীন তাদের নিরাশ করছে।
এভাবে মিয়ানমারে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লেও সুচির রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি কোথায়? জাতিগোষ্ঠীগুলোর নেতারা বলছেন, সুচির দলের কোনো ভূমিকাই নেই। একজন ক্যাথলিক সাই ফিলিপ বলেন, জাতিগোষ্ঠী নিধনে সবধরনের অপকৌশল কাজে লাগানো হচ্ছে, গ্রাম দখল, জোরপূর্বক নিয়োগ, উচ্চ কর আরোপ, হত্যা, নারী ধর্ষণ, লুঠপাট, বাড়ি ঘরে অগ্নিসংযোগ ইত্যাদি।
তবে জাতিগোষ্ঠীগুলোর সংগ্রামে সমর্থন আগের চেয়ে কমে গেছে। সুচির সঙ্গে আলোচনায় যোগ দেয়নি নর্থান এ্যালিয়েন্স গ্রুপ, যেগুলোর তিনটি অস্ত্রবিরতি চুক্তিও করেনি। এরপরও মিয়ানমার সেনাবাহিনী তাদের ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টি করে সংগ্রাম বিমুখ করার চেষ্টা করছে। এরফলে তাদের মধ্যে বিভক্তি আরো বাড়ছে। শান অঞ্চলের সংসদে মিয়ানমার সেনাবাহিনী প্রচ- প্রভাব ধরে রেখেছে। এবং এতকিছুর পরও সুচি তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারছেন না।
সু চির কাছ থেকে রোহিঙ্গারা তাদের জাতিগোষ্ঠী পরিচয় ফিরে পায়নি। লজ্জাজনকভাবে সুচি এসব ব্যাপারে ভীতিজনকভাবে নিশ্চুপ। সম্ভবত বৌদ্ধ হওয়ার কারণে সুচি চান না তার সম্প্রদায় ও শক্তিশালী সেনাবাহিনীর সমর্থন হারাতে। তাই রোহিঙ্গারা সুচির কাছে বহিরাগত। সুচি মনে করেন মুসলমান হওয়ার কারণে বাংলাদেশের সঙ্গেই রোহিঙ্গাদের একটা সম্পর্ক রয়েছে। সহস্রাব্ধ বছর ধরে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলে বাস করলেও সুচি তাদের অবলীলায় তার দেশের নাগরিক হিসেবে অস্বীকার করছেন। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনা থাকলেও তাতে কান দিচ্ছেন না সুচি। এমনকি রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করতে এখন নারাজ, দুটি কমিশন গঠন করেছেন বিতর্কিত ব্যক্তিদের দিয়ে এবং সে কমিশনে কোনো রোহিঙ্গা নেই যাতে এ সংখ্যালঘুদের দুর্দশার কথা কেউ শুনতে পারে।
সুচির এই নীরবতা সম্ভব হচ্ছে মিয়ানমারের সংবিধানের কারণে যেখানে বলা হয়েছে যারা শুধু দেশটির নাগরিক তাদেরকেই কেবল মৌলিক চাহিদা পূরণের সুযোগ দেয়া হবে। তাই মিয়ানমার সরকার যখন সেনাবাহিনীকে রাখাইন অঞ্চলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পাঠিয়েছে, তখন সংবিধান অনুসারেই রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও নিরাপদে রাখা সম্ভব হয়ে উঠছে না। গণগ্রেফতার, হত্যাযজ্ঞ, নারী ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুঠপাট নির্বিচারে চলছে। বছরের পর বছর হাজার হাজার রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিলেও তাদের সংখ্যা কয়েক লাখ ছাড়িয়ে গেছে। সাগরে ভেসে তারা থাইল্যান্ডে গেলেও সেখানে অভিযান চলার পর রোহিঙ্গারা টিকতে না পেরে তাদের অনেকের থাই জঙ্গলে বা সাগরেই সলিল সমাধি ঘটেছে।
মিয়ানমারের জাতিগোষ্ঠী নিয়ে রাজনীতি ঔপনিবেশিক আমলের স্মরণচিহ্ন হয়ে আছে। ১৩৫টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীকে মিয়ানমারের জনগোষ্ঠী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও রোহিঙ্গাদের তা করা হয়নি। রোহিঙ্গারা তাই রাষ্ট্রবিহীন পরিচয়হীন জাতিগোষ্ঠী নাগরিক হয়ে পড়েছে নিজেদের দেশেই। সংসদে সুচির রাজনৈতিক দল এনএলডির সংসদ সদস্য উ থিয়েন মং তাই বলেছেন, কোনো ধর্ম বা মানুষের বিরুদ্ধে তিনি অবস্থান না নিলেও রোহিঙ্গাদের এক ইঞ্চি ভূমিও তিনি দিতে রাজি নন। এই হুমকি তাই ছড়িয়ে পড়েছে মিয়ানমারের বিভিন্ন সীমান্তে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে।
মিয়ানমারের বৌদ্ধদের মধ্যেও রোহিঙ্গা বিরোধিতা প্রবল। সিতুই শহরের চা দোকানে কাজ করেন এমন এক নারী জানান, রোহিঙ্গা মুসলমানরা আমাদের সঙ্গে বাস করতে পারে না কারণ তারা জানে না কল্যাণ জিনিষটি কি? মাউং লা কিয়া নামে আরেক ব্যক্তি বলেন, মুসলমানরা যখন নিজেদের জন্যে মুরগি জবাই করতে পারে তখন আমাদেরও হত্যা করতে দ্বিধা করবে না। ইউ পিনয়া থা মিন্ট নামে এক বৌদ্ধ ভিক্ষু বলেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের যে কোনো ইসলামিক দেশ নিয়ে যেতে পারে।
সুচির অনিচ্ছার বিপরীতে মিয়ানমারে জাতিগোষ্ঠী সহিংসতার বিষয়টি অনেক বেশি মনোযোগ দাবি করে। কিন্তু তা যদি অমীমাংসিত থেকে যায় তাহলে সুচির দেশের জন্যে বড় ধরনের সংকট ডেকে নিয়ে আসতে পারে। একটি আশঙ্কা রয়েছে তা হচ্ছে মিয়ানমারে জিহাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। রোহিঙ্গারা ইসলামী চরমপন্থার প্রতি সমর্থন দেখাতে পারে। তবে অনেকেই মিয়ানমারের ভবিষ্যত নিয়ে আশাহত হয়ে পড়েছেন। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ বলছে রোহিঙ্গাদের মধ্যে একটি গ্রুপ সশস্ত্র প্রশিক্ষণ নিচ্ছে এবং তাদের অর্থসহায়তাও দেয়া হচ্ছে। রোহিঙ্গা হত্যাযজ্ঞের বিষয়টি বিশ্বের তরুণ মুসলিমদের বীতশ্রদ্ধ ও উত্তেজিত করে তুলতে পারে। সুচি রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক মূল্য দেওয়ার ভয়ে কথা বলছেন না কিন্তু তার এ নীরবতা আরো চরম খেসারত ডেকে আনতে পারে।
আরেকটি বিপদজনক পরিস্থিতি মিয়ানমারের জন্যে হতে পারে তা হচ্ছে পরিস্থিতি আরো সংকটময় হয়ে উঠলে যা দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভাটা পড়তে পারে। যে সব বিদেশী বিনিয়োগকারী মিয়ানমারের দিকে লক্ষ্য রাখছেন তারা দেশটিতে বিনিয়োগে আগ্রহ হারাতে পারেন। সুচির অবধারিত কর্তব্য হচ্ছে মিয়ানমারে শান্তি ফিরিয়ে আনা, স্থিতিশীল পরিস্থিতি নিশ্চিত করা। যে সব সংগ্রামরত ক্ষুদ্রজাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে অস্ত্রবিরতি চুক্তি হয়েছে আগের সরকারের আমলে তা টিকিয়ে রাখা। এজন্য সেনাবাহিনীর ওপর সুচির কর্তৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। তরুণদের কর্মসংস্থানে সম্পৃক্ত করা সুচির আরেক চ্যালেঞ্জ যা মোকাবেলা করতে না পারলে তাদেরকে উত্তেজিত করে হাতে অস্ত্র তুলে দেয়ার সুযোগ নিতে পারে অন্য কেউ।

http://www.dailysangram.com/post/264269-হাজার-হাজার-রোহিঙ্গা-জঙ্গলে-অর্ধাহারে-অনাহারে--কাটাচ্ছে