১৬ জুন ২০১৯, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
মিডিয়া
অনলাইন ব্যাংকিংয়ে বেসরকারিদের এজেন্টের কাজ করছে সরকারি ব্যাংক: বিআইবিএমের গবেষণা প্রতিবেদন
১৯ ডিসেম্বর ২০১৬, সোমবার,
অনলাইন ব্যাংকিংয়ে অনেক ক্ষেত্রেই সরকারি ব্যাংকগুলো বেসরকারি ব্যাংকগুলোর এজেন্ট হয়ে কাজ করছে। এটা অত্যন্ত লজ্জানক। এ কারণে বেসরকারি ও বিদেশী ব্যাংকের তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে সরকারি ব্যাংকগুলো।
গতকাল রোববার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) আয়োজিত আইটিবিষয়ক এক সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন। বিআইবিএম আয়োজিত সেমিনারটি উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা: রাজী হাসান। বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবুল কাশেম মো: শিরিন, ব্যাংক এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: আরফান আলী, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ইয়াসিন আলীসহ বিভিন্ন ব্যাংকের আইটি বিভাগের প্রধানেরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেমিনারে ‘ব্যাংকের ব্যবসা ও মুনাফা বৃদ্ধিতে আইসিটির প্রভাব’ শীর্ষক একটি গবেষণা উপস্থাপন করা হয়। গবেষণাপত্রটি তৈরি করেছেন বিআইবিএমের সহযোগী অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান আলম, শিহাব উদ্দিন খান ও সহকারী অধ্যাপক কানিজ রাব্বি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা: রাজী হাসান আইটি খাতের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, আইটি ছাড়া ব্যাংকিং কল্পনা করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আগামীর ব্যাংকিং হবে পুরোপরি আইটিনির্ভর। 
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ইয়াসিন আলী পেশাদারিত্ব সৃষ্টির ওপর জোর দিয়ে বলেন, ব্যাংকিং খাতে অনলাইন ব্যাংকিং নিয়ে এখন সমন্বয়হীনতা রয়েছে। ব্যাংকের একটি গ্রুপ শুধু ব্যবসা বাড়ানোর দিকে জোর দিচ্ছে। তারা অনলাইন ব্যাংকিংকে গুরুত্বহীনভাবে দেখছে। অরেকটি গ্রুপ অনলাইনের ওপর জোর দিচ্ছে। এ কারণে তিনি সার্বিক উন্নয়নের জন্য ব্যাংকারদের গ্রুপিং বাদ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিআইবিএমের সহযোগী অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান আলম বলেন, অনলাইন ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে বেসরকারি ও বিদেশী ব্যাংকগুলোর তুলনায় সরকারি ব্যাংক অনেক পিছিয়ে আছে। কিছু কিছু সরকারি ব্যাংক বেসরকারি ব্যাংকের এজেন্ট হয়ে অনলাইন ব্যাংকিং করছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক। তিনি একটি উদাহরণ দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রচুর গ্রাহক গ্রামে। কিন্তু ব্যাংকটি অনলাইনভিত্তিক না হওয়ায় বেসরকারি ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিকাশের এজেন্ট হয়ে কাজ করছে। এটা হতাশাজনক। 
ব্যাংক এশিয়ার এমডি আরফান আলী বলেন, মাত্র ৩২ ভাগ লোকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে। পেপারলেস ব্যাংকিং করতে হলে প্রত্যেক ব্যক্তির একটি করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। ব্যাংকিং খাতকে ডিজিটালাইজেশন না করলে কী কী ক্ষতি হতে পারে তা ভাবার সময় এসেছে। 
ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবুল কাশেম মো: শিরিন বলেন, কয়েকটি ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার কারণে অনলাইন ব্যাংকিং বিশেষ করে এটিএম বুথের প্রসার হচ্ছে না। অথচ অনলাইন ব্যাংকিংয়ের কারণে কস্ট অব ফান্ড কমেছে। আগে ১০০ টাকা সংগ্রহে ৬ টাকা খরচ হতো, এখন মাত্র ২ টাকা। 
আইসিটিতে বিনিয়োগ করা ব্যাংক খাতের জন্য কতটুকু লাভজনক, মূলত সে বিষয় সামনে রেখে গবেষণাটি করা হয়েছে। গবেষণার প্রাথমিক তথ্যউপাত্ত ২১টি ব্যাংক থেকে নেয়া হয়েছে। আর সেকেন্ডারি বা প্রকাশিত তথ্যউপাত্ত আর্থিক খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ছাড়া ব্যাংক ও আইসিটির বিষয়ে গ্রাহকের মতামত জানতে দেশব্যাপী ৫০০ লোকের সাক্ষাৎকারও নেয়া হয়েছে।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথাগত ব্যাংকিং মাধ্যমে এখন বছরে গড়ে ১৭০ কোটি বার লেনদেন হচ্ছে। আর আইসিটির কারণে অনলাইনে ২০০ কোটিবারের বেশি লেনদেন হচ্ছে। প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে ব্যাংক খাতের একজন কর্মী এখন বছরে গড়ে ১০ হাজার লেনদেন সম্পন্ন করছেন। ২০০০ সালের আগ পর্যন্ত ব্যাংকের একজন কর্মীর গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল পাঁচ হাজারের কম। অর্থাৎ প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির সাথে সাথে গত দেড় দশকে ব্যাংকের কর্মীদের কর্মদক্ষতা দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে।
http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/180031