১৭ নভেম্বর ২০১৯, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
নীতিমালা না থাকায় হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, শনিবার,
দেশে প্রতিবছর স্বর্ণালংকারের চাহিদা বাড়লেও বৈধভাবে স্বর্ণালংকার আমদানির কোন সুযোগ নেই। এতে চোরাচালানের প্রবণতা বাড়ছে। প্রতি বছর হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। বাস্তবে বিভিন্ন দেশ থেকে চোরাই পথে পাচার হয়ে স্বর্ণ এসে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে বৈধভাবে স্বর্ণালংকার ও স্বর্ণের বার আমদানির সুযোগ দেয়ার কথা ভাবছে অর্থ মন্ত্রণালয়। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ কোন নীতিমালা না থাকার কারণেই স্বর্ণের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে ভারত। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার কথা ভাবছেন অর্থমন্ত্রণালয়।
এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, সোনা বাস্তবে নানাভাবে দেশে আসে এবং পাচার হয়। এ ব্যবস্থা থেকে আমরা পরিত্রাণ পেতে চাই। এজন্য বিষয়টি নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা প্রয়োজন। প্রতি বছর চোরাই পথে আসা স্বর্ণ দিয়েই দেশের পাঁচ কোটি মানুষের চাহিদা পূরণ করে থাকেন। যা কোনভাবেই ঠিক নয়। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্যই আমরা নীতিমালা করতে চাই।
স্বর্ণালংকার শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের স্বর্ণশিল্পের কাঁচামাল স্বর্ণবার আমদানিতে বিভিন্ন ধরনের শুল্ক-কর ও পদ্ধতিগত জটিলতা রয়েছে। এসব জটিলতার কারণে বৈধভাবে কেউ স্বর্ণ আনতে চান না। ফলে দেশে চাহিদা বেশি থাকায় চোরাচালানের প্রবণতা বাড়ছে। এতে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। শুল্ক-গোয়েন্দা অধিদফতরের তথ্যমতে, গত পাঁচ বছরে ৮০ মণের ওপর স্বর্ণবার আটক হয়েছে। আর বৈধভাবে স্বর্ণ না আসায় কাঁচামাল সংগ্রহে জটিলতায় পড়েছে স্বর্ণালংকার শিল্প। কয়েক দশক ধরেই আইনি ও পদ্ধতিগত জটিলতা কমানোর দাবি জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। 
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, নীতিমালা না থাকার কারণেই সরকার প্রতি বছর হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। দীর্ঘ দিন ধরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
সর্বশেষ গত ২৬ জানুয়ারি অর্থমন্ত্রীর কাছে তিন দফা প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা স্বাক্ষরিত চিঠিতে স্বর্ণবার আমদানির জন্য সময়োপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন, এলসির মাধ্যমে স্বর্ণ আমদানি প্রক্রিয়ায় ব্যাংকিং নিয়ে চলমান জটিলতা কাটিয়ে উঠতে হবে। ন্যূনতম কর প্রদান সাপেক্ষে কমপক্ষে ১০ কেজি স্বর্ণবার আমদানির অনুমতি, কাস্টমস ডিউটি তিন হাজার থেকে কমিয়ে শিল্প ব্যবসায়ী পর্যায়ে এক হাজার টাকা ও সাধারণ ব্যবসায়ী পর্যায়ে দুই হাজার টাকায় আনা, স্বর্ণালংকার রফতানি প্রক্রিয়া সহজ করা এবং স্বর্ণশিল্প স্থাপন প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর জোর দেয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের এ দাবিকে যৌক্তিক মনে করেন অর্থমন্ত্রী। গত ৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) পাঠানো এক চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি সোনা আমদানির বিষয়ে যে প্রস্তাব দিয়েছে, তা খুবই সময়োপযোগী।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) সভাপতি ও ভেনাস জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী গঙ্গাচরণ মালাকার বলেন, শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হলেও কাঁচামাল হিসেবে বিদেশ থেকে স্বর্ণ আমদানিতে বহু জটিলতা রয়েছে। আইনি জটিলতাগুলো দিন দিন আরও কঠিন হচ্ছে। তাই বৈধভাবে স্বর্ণ আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করে এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থেই আমরা কয়েক দশক ধরে দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু কোনো সুপারিশই আমলে নেয়া হয়নি। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হলে আমরা সাধুবাদ জানাবো। এতে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত কয়েক লাখ স্বর্ণশিল্পী বাঁচবে।
স্বর্ণ আমদানির বৈধতা দেয়ার বিষয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী। এ বিষয়ে সম্প্রতি তিনি বিভিন্ন দফতরে চিঠি দিয়েছেন। যাদের সঙ্গে তিনি আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন শিল্পমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, পরিকল্পনামন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা, প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর, এফবিসিসিআই সভাপতি, বাংলাদেশ উইমেন চেম্বারের সভাপতি, বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, বিচ্ছিন্নভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েক লাখ মানুষ স্বর্ণশিল্পের সঙ্গে জড়িত। যারা বিভিন্নভাবে দেশের প্রায় পাঁচ কোটি মানুষের স্বর্ণালংকারের চাহিদা মেটাচ্ছে। সরকারের সহায়তায় সময়োপযোগী নীতিমালা ও পৃষ্ঠপোষকতার কারণে প্রতিবেশী দেশ ভারতের স্বর্ণশিল্পই বিশ্ববাজারের ৭৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। সুযোগ থাকলেও পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। সে কারণে ভারতের আদলে পিছিয়ে পড়া শিল্পকে এগিয়ে নিতে কয়েক বছর ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন ব্যবসায়ীরা।
http://www.dailysangram.com/post/272311-%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BE-%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%9F%E0%A6%BF-%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0