২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শনিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পাইপ লাইনে গ্যাস বন্ধই হয়ে গেল বহুল প্রতীক্ষার প্রকল্প
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, শুক্রবার,
বন্ধ হয়েই গেল খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্যাস সঞ্চালন প্রকল্প। প্রকল্প শুরুর ১১ বছরে চার দফা সময় বৃদ্ধি করেও আলোর মুখ দেখলো না প্রকল্পটি। অথচ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পাইপ, যন্ত্রপাতি কেনা ও আনুষঙ্গিক কাজে ইতিমধ্যে ব্যয় হয়েছে বৈদেশিক ঋণের ৩৭১ কোটি টাকা। প্রকল্পের কাজ আশাব্যঞ্জক না হওয়ায় এগারো বছর পর প্রকল্পটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রণালয়। ক্রয়কৃত পাইপ-যন্ত্রপাতি সরকারি অন্যান্য কোম্পানীগুলোর কাছে বিক্রির নির্দেশও দিয়েছে মন্ত্রণালয়। উন্নয়নকর্মী ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রকল্পটি বন্ধের ফলে ফিকে হয়ে গেল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও বিনিয়োগ। আর প্রকল্পটি চালুর ব্যাপারে পুনঃবিবেচনার দাবি নাগরিক নেতাদের।
সংশিষ্ট সূত্রমতে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহে সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন স্থাপন প্রকল্পটি অনুমোদন পায় ২০০৬ সালে। গত এগারো বছরে অনেক প্রতিকূলতা পেরিয়ে সম্পন্ন হয় কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থেকে খুলনার আড়ংঘাটা এলাকা পর্যন্ত ১৬৫ কিলোমিটার সঞ্চালন পাইপ লাইন বসানোর কাজ। অপেক্ষা ছিল গ্যাস সংযোগ দেবার। এরই মধ্যে, সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে প্রকল্পটি বন্ধ করে দেবার। অথচ, গত এগারো বছরে কয়েক দফা দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে ৩৭১ কোটি টাকার পাইপ ও যন্ত্রাংশ কিনেছে পেট্রোবাংলার আওতাধীন সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড। যার মধ্যে, বৈদেশিক ঋণ রয়েছে ২৪২ কোটি টাকার। কিন্তু খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচ জেলায় ৮৪৫ কিলোমিটার গ্যাস বিতরণ পাইপ লাইন স্থাপনের কাজই শুরু করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। ফলে প্রকল্পের অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক না হওয়ায় প্রকল্পের কাজ সমাপ্তির নির্দেশ দেয় মন্ত্রণালয়।
সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড’র প্রকল্প পরিচালক এসএম রেজাউল ইসলাম বলেন, প্রকল্পটি বন্ধ করেছে মন্ত্রণালয়। এর বাইরে আর কিছুই বলার নেই। পুরোটাই নির্ভর করছে সরকারের নীতিমালার ওপর। আর এর জন্য সময়ের প্রয়োজন।
সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান রতন ইনকিলাবকে বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে ক্রয়কৃত পাইপ ও যন্ত্রাংশ সরকারি অন্যান্য কোম্পানীগুলোর কাছে বিক্রি করে দিতে। ইতিমধ্যে কিছু যন্ত্রাংশ বিক্রিও করা হয়েছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ ফিরোজ আহমেদ মনে করেন, প্রকল্পটি বন্ধের সিদ্ধান্ত পদ্মার এপারের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। পদ্মা সেতু নির্মিত হওয়ার পর এ অঞ্চলে কলকারখানা গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে যে সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল তা তিমিরেই রয়ে যাবে।
প্রকল্পের কাজ সম্পন্নের ব্যাপারে পুনঃবিবেচনার দাবি জানিয়ে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, বিতরণ লাইন স্থাপনে কালক্ষেপণ, সময় নষ্ট, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও অর্থ অপচয় যারা করেছে তাদের শাস্তির আওতায় আনার দায়িত্ব সরকারের। একই সাথে প্রকল্পটি পুনরায় চালু ও দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাপ্তের দাবি এ অঞ্চলের মানুষের।
প্রসঙ্গত, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে সমৃদ্ধ ও শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে পাইপলাইনে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে দীর্ঘদিনের দাবি এ অঞ্চলের মানুষের। সরকার ২০০৬ সালে এ সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু করেছিল। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে গ্যাস সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট ফেজ-২ এর আওতায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গ্যাস সঞ্চালন লাইন নির্মাণ শুরু হয়। প্রকল্পের দ্বিতীয় অংশে রয়েছে ১৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ভেড়ামারা থেকে ঝিনাইদহ-যশোর হয়ে খুলনা পর্যন্ত পাইপলাইন নির্মাণ। এডিবি ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে ৫৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গ্যাস নেটওয়ার্ক প্রকল্পটি ২০০৯ সালের ২২ ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় পাস হয়। কিন্তু পরবর্তীতে প্রকল্প ব্যয় ৬০০কোটি টাকায় উন্নীত হয়। খুলনা, বাগেরহাট, যশোর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া এ পাঁচ জেলার জন্য প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ছিল ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, জমি অধিগ্রহণে বিলম্ব, মালামাল ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্নসহ নানা কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি ছিল। পরে প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোও হয়েছিল।
- See more at: http://www.dailyinqilab.com/article/64758/#sthash.eduiVu0a.dpuf