১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, সোমবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
সিআইডির জ্যাকেটধারীরা তুলে নেয় কাওসারকে: ২১ দিনেও হদিস মেলেনি
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, শুক্রবার,
রূপনগরের বাসা থেকে কাওসারকে যারা তুলে নিয়ে যায় তাদের পরনে ছিল সিআইডির জ্যাকেট। ঘরে ঢুকে তারা তাণ্ডব চালায়। কাওসারের স্ত্রীসহ পরিবারের লোকজনকে বেদম মারধর করে। তাদের তাণ্ডবের সময় আশপাশের কেউ ধারেকাছে ঘেঁষতে পারেনি। একপর্যায়ে তারা কাওসারকে সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে চলে যায়। সেই থেকে গত ২১ দিন নিখোঁজ রয়েছেন কাওসার। ইতোমধ্যে একাধিক ব্যক্তি সিআইডির পরিচয় দিয়ে পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেছে।
কাওসার পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঢাকার রূপনগরের জে ব্লকের ইস্টার্ন হাউজিংয়ের ১১ নম্বর রোডের ৭ নম্বর বাড়িতে বসবাস করতেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ মডেল থানার একটি খুনের মামলার আসামি তিনি। ২০১৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ওই মামলাটি হয়। মামলায় কাওসারের শ্বশুর সেরাজুলও আসামি। বাসেত আলী (৬০) নামে একজন খুনের ঘটনায় এ মামলা হয়। খুনের মামলায় আসামি হওয়ার পরে কাওসারের শ্বশুর সেরাজুলও ঢাকায় এসে বসবাস শুরু করেন। কাওসার যে বাসায় ছিলেন ঠিক রাস্তার উল্টো পাশের একটি বাসায় থাকতেন সেরাজুল।
কাওসারের স্ত্রী সাবিনা জানান, গত ২৬ জানুয়ারি রাতে ১৮-২০ জনের একটি দল তাদের বাসায় যায়। তিনি তখন তার বাবার বাসায় ছিলেন। ওই লোকগুলোর মধ্যে দুইজন তার ঘরে প্রবেশ করে। তাদের গায়ে ছিল সিআইডি লেখা জ্যাকেট। সাবিনা বলেন, তার ধারণা লোকগুলো ডিআইডি পুলিশেরই। বাসা থেকে তারা তার বাবাকে আটক করে। পরে তার স্বামীর সন্ধান জানতে চায়। না বললে সাবিনাসহ পরিবারের সবার ওপর চলে অকথ্য নির্যাতন। একপর্যায়ে মারধর সহ্য করতে না পেরে শ্বশুর সেরাজুল জামাইয়ের অবস্থান বলে দেন। ওই লোকগুলো তখন রাস্তার উল্টা পাশে কাওসারের বাসায় চলে যায়। সেখান থেকে তারা কাওসারকে ধরে নিয়ে যায়। এ দিকে সেরাজুলকেও তারা আটক করে গাড়িতে তুলে নেয়। সাবিনা বলেন, লোকগুলো যখন তাদের বাসায় ঢুকে তখন আশপাশের অন্য ঘরগুলোর দরজার সিটকানী বাইরে থেকে তারা আটকে দেয়। তিনি বলেন, ওই লোকগুলো তিনটি মাইক্রোবাস নিয়ে এসেছিল। তারা দেড়টার দিকে বাসায় ঢোকে এবং বাসা থেকে সাড়ে ৩টায় বের হয়। তিন দিন পরে তার বাবা সেরাজুলকে পাওয়া গেছে ঢাকা-সিলেট রোডে। সাবিনা বলেন, তার বাবাকে বাসা থেকে বের করার সময়ই চোখে কালো কাপড় বেঁধে নেয়। একইভাবে তার স্বামীকেও চোখ বেঁধে গাড়িতে তুলে নেয়া হয়। সাবিনা বলেন, তিন দিন পর তার বাবাকে তারা মুক্তি দিলেও তার স্বামী এখনো নিখোঁজ। ইতোমধ্যে ওই খুনের মামলাকে কেন্দ্র করে তাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। তার বাবা জমি বিক্রি করে চার লাখ টাকা দিয়েছেন। অপর এক আসামি সালাম পেঁপে বাগান বিক্রি করে টাকা দিয়েছেন। ওই মামলায় সাত নম্বর আসামি করা হয়েছে সৌদী প্রবাসী আসলামকে। তার কাছ থেকে তিন লাখ টাকা নেয়া হয়েছে। 
এ দিকে দিনের পর দিন কাওসার নিখোঁজ থাকায় পরিবারের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন দফতরে যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু কোনো ফল হয়নি। খুনের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির ইন্সপেক্টর শাহীন আকন্দের কাছেও তারা গিয়েছেন। কিন্তু শাহীন আকন্দ বলে দিয়েছেন তিনি কাউকে গ্রেফতার করেননি। তিনি পরিবারের সদস্যদের খুঁজে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন। ঘটনার ব্যাপারে গতকাল ইন্সপেক্টর শাহীন আকন্দের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সিআইডি কাওসারকে গ্রেফতার বা আটক করেনি। সিআইডি অপারেশনাল কোনো কাজ করে না। তদন্তমূলক কাজ করে থাকে। তিনি বলেন, কাউকে গ্রেফতারের জন্য সিআইডির গাড়ি নেই। সিআইডি কার্যালয়ে কোনো হাজতখানা নেই। তিনি বলেন, কাওসার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি তিনিও শুনেছেন।
এ দিকে কাওসারকে তুলে নেয়ার পরে তার এক বন্ধু আলম রূপনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। আলম বলেছেন, পুলিশ জিডি নিয়েছে কাওসার নিখোঁজ হয়েছেন বলে। আসল ঘটনা জিডিতে উল্লেখ করা যায়নি। জিডির তদন্ত দেয়া হয়েছে রূপনগর থানার এসআই আল মামুনকে। তিনি বলেছেন, জিডির পরে সব থানায় বেতার বার্তা দেয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। আল মামুন বলেন, কাওসার একটি খুনের মামলার আসামি। তাকে কেউ ধরে নিয়েছে না সে নিজেই আত্মগোপন করেছে তা বোঝা যাচ্ছে না।
http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/196533