১৭ নভেম্বর ২০১৯, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
চট্টগ্রাম বন্দরে চার দিনের ধর্মঘটে ক্ষতি শত শত কোটি টাকা: জাহাজ শ্রমিকদের ধর্মঘট প্রত্যাহার ; ষড়যন্ত্র আছে কিনা তা খতিয়ে দেখার দাবি ; আইন করে বন্দরে ধর্মঘট বন্ধের দাবি
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, বুধবার,
আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বৃদ্ধির কারণে এমনিতেই চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। তার ওপর বিভিন্ন অজুহাতে আন্দোলন-সংগ্রাম-ধর্মঘটের কারণে দিনের পর দিন অচল থাকে দেশের অর্থনৈতিক হাব হিসেবে খ্যাত চট্টগ্রাম বন্দর। আর এর চরম খেসারত দিতে হয় ব্যবসায়ীদের। শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া লাইটার জাহাজ শ্রমিকদের ধর্মঘট চার দিনের মাথায় মঙ্গলবার বিকালে প্রত্যাহার হয়েছে। কিন্তু এই চার দিনে ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের কয়েকশ’ কোটি টাকার ক্ষতি হয়ে গেছে। চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ শিল্পের বিকাশ বাধাগ্রস্ত করতে কোনো ষড়যন্ত্র হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।
 
 
বর্ধিত বেতন-ভাতা কার্যকর ও বকেয়া পরিশোধের দাবিতে শনিবার ধর্মঘটে যায় লাইটার শ্রমিকরা। মঙ্গলবার ঢাকায় শ্রম পরিচালকের দফতরে জাহাজ মালিক প্রতিনিধি দল এবং শ্রমিক প্রতিনিধিদের বৈঠক শেষে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়া হয়।
 
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যারা বাংলাদেশে শিল্পের বিকাশ চায় না, উন্নয়ন চায় না, চট্টগ্রাম বন্দরকে ধ্বংস করতে চায় তারাই বিভিন্ন সময়ে নানা অজুহাতে চট্টগ্রাম বন্দরকে অচল করে রাখে। তাছাড়া এ ধরনের সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সরকারেরও যেন কোনো মাথাব্যথা নেই। যত মাথাব্যথা যেন আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের। সংশ্লিষ্ট আমদানি-রফতানিকারকরা বলছেন, যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রাম কিংবা সংকটে সরকারের নীতিনির্ধারকরা সুন্দর সুন্দর কথা বললেও কার্যত কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয় না। কালক্ষেপণ করা হয় দিনের পর দিন। যার সর্বশেষ উদাহরণ লাইটার জাহাজ শ্রমিক ধর্মঘট।
 
তারা বলছেন, আগে থেকে আলটিমেটাম দিয়ে এলেও সরকারের নীতিনির্ধারকরা এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণ করা হয় চার দিন। অথচ এই চার দিনে ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের যে বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়ে গেছে তা আগামী এক মাসেও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না। তাছাড়া ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়া হলেও আবার যে লাইটার জাহাজ শ্রমিকরা ধর্মঘটে যাবে না তার কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।
 
ধর্মঘটের কারণে কেবল বন্দরের বহির্নোঙরেই মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ১১ লাখ টন আমদানি পণ্য নিয়ে অলস বসেছিল ৩২টি মাদার ভেসেল। দুপুর পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের ১৬ ঘাটে কয়েক লাখ টন পণ্য নিয়ে বসেছিল আরও অন্তত দেড়শ’ লাইটার জাহাজ। এসব জাহাজ থেকে এখন একযোগে পণ্য খালাস শুরু হলে যে কনটেইনার জট সৃষ্টি হবে তা সামাল দিতেই হিমশিম খেতে হবে চট্টগ্রাম বন্দরকে।
 
এদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফায়ার সার্ভিসের সেবার মতোই চট্টগ্রাম বন্দরের জরুরি সেবা ২৪ ঘণ্টা চালু থাকতে হবে। কিন্তু সেটি হচ্ছে না। কখনও ইকুইপমেন্ট সংকটে, কখনও শ্রমিক ও লোকবল সংকটে, কখনও ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দরের হ্যান্ডলিং বা অপারেশনাল কার্যক্রমে বিঘœ ঘটে। আবার সরকারি ছুটির সময়ে কাস্টম হাউস বন্ধ থাকার কারণে ছাড়পত্র না পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট পণ্যটি খালাস নেয়া যায় না। সবকিছুরই বলি হতে হয় আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের অর্থনীতি। রুদ্ধ হচ্ছে অগ্রযাত্রা।
 
চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি ও এফবিসিসিআইর সহসভাপতি মাহবুবুল আলম এ প্রসঙ্গে মঙ্গলবার বিকালে যুগান্তরকে বলেন, লাইটার জাহাজ শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে গেজেট হয়েছে। আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা জাহাজের বর্ধিত ভাড়া দিচ্ছেন। অথচ কিছু কিছু জাহাজ মালিক শ্রমিকদের বর্ধিত বেতন দেননি। এটা যেমন দুঃখজনক, তেমনি আবার হুট করে লাইটার জাহাজ শ্রমিকদের ধর্মঘটে চলে যাওয়াটাও দুঃখজনক। বন্দরে এ ধরনের পরিস্থিতি বা জটিলতা যাতে তৈরি না হয় সে বিষয়ে সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী মহলকে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। কারণ ধর্মঘটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আমদানিকারক, ব্যবসায়ী ও পোর্ট ইউজারদের। চার দিনের ধর্মঘটের কারণে সময়মতো পণ্য খালাস নিতে পারেননি আমদানিকারকরা। কাঁচামাল সংকটে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে অনেক কারখানায়। গুনতে হয়েছে পোর্টের নানা ডেমারেজ। ব্যাহত হয়েছে শিল্প উৎপাদন। টাকার অঙ্কে এই ক্ষতির পরিমাণ কয়েকশ’ কোটি টাকা।
 
এ প্রসঙ্গে যুগান্তরের সঙ্গে কথা হয় চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক মাহফুজুল হক শাহর। মঙ্গলবার বিকালে তিনি বলেন, লাইটার জাহাজ শ্রমিকদের ধর্মঘট প্রত্যাহার হয়েছে সেটা বড় কথা নয়। কেন ধর্মঘট হয়েছে, কারা করছে এ ধর্মঘট, তাদের উদ্দেশ্য কী, এর পেছনে দেশের শিল্প বিকাশ বাধাগ্রস্ত করার কোনো ষড়যন্ত্র আছে কিনা- তা খতিয়ে দেখতে হবে। তিনি বলেন, আগামী ২৭ মে থেকে শুরু হচ্ছে রমজান। রমজান সামনে রেখে আমদানিকারকরা লাখ লাখ টন ভোগ্যপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানি করেছেন। চার দিনের ধর্মঘটে এসব পণ্য আটকা পড়েছে। এ অবস্থায় ধর্মঘট করা মানে দেশের মানুষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা। দেশের অর্থনীতি ও শিল্প বিকাশ বাধাগ্রস্ত করা। তিনি আইন করে চট্টগ্রাম বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক হাবকে হরতাল-অবরোধ ও ধর্মঘটমুক্ত রাখার দাবি জানান। একই সঙ্গে বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে দ্রুত উদ্যোগ নেয়ার দাবিও জানান।
 
চট্টগ্রামের শীর্ষস্থানীয় আরেকজন আমদানিকারক বিএসএম গ্রুপের এমডি আবুল বশর চৌধুরী। তিনি যুগান্তরকে জানান, আর্জেন্টিনা থেকে তিনি এক লাখ ১৬ হাজার টন গম আমদানি করেন। ধর্মঘটের কারণে তার গম নিয়ে আসা দুটি মাদার ভেসেল বহির্নোঙরে চার দিন ধরে অলস বসে আছে। ১৯টি লাইটার জাহাজ ২৪ হাজার টন গম খালাস করে বন্দরের বিভিন্ন ঘাটে অপেক্ষা করলেও ধর্মঘটের কারণে সেসব গম খালাস করা যায়নি। দুই জাহাজের ভাড়া বাবদ দৈনিক তাকে ২০ লাখ টাকা করে গচ্চা দিতে হবে। আবার গমের এই চালানের জন্য ২১৬ কোটি টাকার যে ব্যাংক ঋণ রয়েছে তারও বাড়তি সুদ গুনতে হবে। এই বাড়তি খরচের কারণে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে গিয়ে তাকে পড়তে হবে বড় ধরনের বেকায়দায়।
http://www.jugantor.com/first-page/2017/02/15/101140/%E0%A6%9A%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AE-%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%98%E0%A6%9F%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%B6%E0%A6%A4-%E0%A6%B6%E0%A6%A4-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%9F%E0%A6%BF-%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE