২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
নিরপেক্ষ নির্বাচনের রূপকথা
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, বুধবার,
|| ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী || আমাদের মধ্যে আমরা যারা আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে ন্যায়বিচার, সুশাসন, নিরপেক্ষতা ইত্যাদি সুমতি আশা করি, তারা বোধকরি নিরুপায় হয়েই সে আশা করি। কখনও মনে করি, এই বুঝি নির্বাচন কমিশন ন্যায়ানুগ কাজ করে ফেলবে। পর মুহূর্তেই আশা ভেঙে খান খান। কখনও মনে করি এই বুঝি প্রেসিডেন্ট একটা নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলবেন। কিন্তু পর মুহূর্তেই দেখি, সে সোনার ছবি নাইরে। আশা করার সময় আমরা ভুলেই যাই যে, কার্যত প্রধান বিচারপতি আর প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া ছাড়া প্রেসিডেন্টের আর কোনো বিষয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কোনো ক্ষমতাই নেই। সেটাই সংবিধানের বিধান। তাঁকে সব কিছু করতে হয়, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে। আর প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিরপেক্ষতা আশা করা বাতুলতা মাত্র।
ফলে বাংলাদেশে এখন হতাশার কাল। বানে ভেসে শেরপুরে এসেছিল এক ভারতীয় হাতি। সেই হাতি, তার গতিবিধি, তার কাদায় আটকে পড়া, শেষ পর্যন্ত মৃত্যু। এই নিয়ে সমাজে ব্যাপক আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছিল। হাজারে হাজারে মানুষ, টিভি ক্যামেরা, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা ছুটছিল সে হাতির পেছনে। স্থির নিস্তরঙ্গ সমাজে কিছুটা আমোদের আশায়। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য এবার যখন সার্চ কমিটির প্রশ্ন এলো, তখনও সমাজের ভেতরে একটি তোলপাড় শুরু হয়ে গেল। হ্যাঁ ভাই, আসিতেছে সার্চ কমিটি। ভাবখানা এমন যে, সার্চ কমিটি গঠিত হলেই বাংলাদেশের সকল সমস্যা দূর হয়ে যাবে। এই সার্চ কমিটি কিছু ফেরেশতার নাম প্রস্তাব করবে। তাদের মধ্য থেকে যোগ্যতমদের নিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন। আর দেশে একটি অবাধ নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে যাবে। সাব্বাস!
এই আশার ভেতরে সর্বাঙ্গ সুন্দরের ধারণার ইউরোপীয় চিন্তা ছিল। কিন্তু তারা কেউ কল্পনাও করেননি যে, এই সমস্ত আয়োজনের পেছনে খড়্গ হাতে দাঁড়িয়ে আছেন অন্য কেউ। সকল ক্ষমতা তার হাতে পুঞ্জীভূত। তার ইচ্ছাই সার্বভৌম। এখানে প্রেসিডেন্টেরও কিছু করার নেই। কিছু করার নেই এ দেশের সাধারণ মানুষেরও। তবু সার্চ কমিটি নিয়ে শেরপুরের হাতির মতো শোরগোল উঠেছিল। কিছু একটা বোধকরি হতে যাচ্ছে, কিছু একটা বোধকরি হবে। এই পরিস্থিতি দেখে তিতিবিরক্ত হয়ে টক-শোর এক আলোচক একদিন তো বলেই বসলেন যে, ওঃ, এখন দরকার ছিল, শেরপুরে আর একটি বুনো হাতির আগমন বা সেই রকম একটা কিছুর। আসলে সার্চ কমিটি দিয়েও কিছু হবে না। নিরপেক্ষ নির্বাচন করার মতো কোনো নির্বাচন কমিশনও গঠিত হবে না। আসলেই হয়নি।
আবার যেই মাত্র প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য চার নির্বাচন কমিশনারের নাম ঘোষিত হলো, তৎক্ষণাৎ মানুষের আশা ভঙ্গ হলো। সুতরাং সামনের দিনগুলো জাতির জন্য যে চরম হতাশা বয়ে আনবে, তাতে আর কোনো সন্দেহই রইলো না। চার কমিশনার সম্পর্কে তেমন কথা না হলেও, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হিসেবে  ‘জনতার মঞ্চে’র খান মুহাম্মদ নূরুল হুদার নাম ঘোষণার পর আর কোনো সন্দেহ রইলো না যে, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। আগামী দিনগুলোও হবে জাতির জন্য এক গোলযোগপূর্ণ সময়। রাজনৈতিক স্থবিরতা দূর হবে না। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটবে। আশার ঘোর কাটিয়ে শীগ্গিরই দেশে ফিরে আসবে ঘন অন্ধকার।
নির্বাচন কমিশন গঠন ও কেয়ারটেকার সরকার নিয়ে ২০০৬ সালে এই ধরনের সংঘাতের ফলে ২০০৭ সালে এদেশে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে ভিন্ন নামে এসেছিল কেয়ারটেকার বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার। তারা ৯০ দিনের সাংবিধানিক ব্যবস্থা ভেঙে আওয়ামী লীগের সহযোগিতায় দু’বছর ক্ষমতায় ছিল। আওয়ামী লীগ ঐ অসাংবিধানিক সরকারকে তাদের ‘আন্দোলনের ফসল’ বলে বুকে টেনে নিলেও সে সরকারের পীড়ন থেকে তারাও রেহাই পায়নি। সেনাসমর্থিত ঐ সরকার ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলা তৈরি করে বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনাকে দেশছাড়া করার চেষ্টা করেছিল। শেখ হাসিনা অবশ্য দেশ ছেড়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য বিদেশে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া দেশ না ছাড়ার ব্যাপারে ছিলেন অনড়। কিছুতেই দেশ ছেড়ে যাননি।
কিন্তু ওই সরকারের বিরুদ্ধে না আদালত, না তাদের সঙ্গে যোগসাজশে ক্ষমতায় আসীন আওয়ামী লীগ সরকার কোনো রকম ব্যবস্থাই গ্রহণ করেনি। না তারা ঐ অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে, না তাদের সাংবিধানিকভাবে কোনরূপ স্বীকৃতি দিয়েছে। ফলে গুরুতর সঙ্কট দেখা দিলে কীভাবে তা মোকাবিলা করা হবে, তার কোনো পথনির্দেশ নেই। সে রকম সঙ্কটই জাতি এখন মোকাবিলা করছে। সে সঙ্কটও তৈরি হয়েছে সিইসি নিয়োগ নিয়ে। এর আগে অন্য কোনো সরকার এ ধরনের বিতর্কিত লোককে সিইসি নিয়োগের চেষ্টা করেনি। 
রকিবউদ্দিনকে নিয়েও এ ধরনের বিতর্ক ছিল না। কিন্তু তিনি ও তার কমিশন ছিল অথর্ব, অযোগ্য ও মেরুদ-হীন। সে বিবেচনায় নূরুল হুদা নিকৃষ্টতম সিইসি। ধারণা করা যায়, দলীয় অন্ধত্বের কারণে তিনি নির্বাচনকালীন রাজনৈতিক পক্ষপাত করতে গিয়ে দেশকে চরম সংঘাতের দিকে ঠেলে দেবেন। চূড়ান্ত বিচারে, বলা যায়, অতীতের মতো নির্বাচনকালে তার নেতৃত্বে দেশে চরম অরাজকতার সৃষ্টি হবে এবং চরম নিরাপত্তা সঙ্কট তৈরি করবে। এর আগে ১৯৯০ সালে নির্বাচনে চালিয়াতি করতে গিয়ে গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের পতন হয়েছিল। ১৯৯৬ সালে বিপর্যয় এড়াতে বিএনপি সরকার তড়িঘড়ি করে মেনে নিয়েছিল বিরোধী দলের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি। ফলে দেশ একটি সামরিক অভ্যুত্থানের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিল।
১৯৯৬ সালে সাবেক সচিব ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীরের নেতৃত্বে এই নূরুল হুদা তৎকালীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা বলে অভিযোগ উঠেছে। ১৯৭৩ ব্যাচ বা তোফায়েল ক্যাডারের অফিসারের বিবেচনা বাদ দিলেও তিনি বিদ্রোহী সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তার অফিস থেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবি খুলে নিয়েছেন বলে কথা রয়েছে। তখন তিনি কুমিল্লার ডিসি ছিলেন। তোফায়েল ক্যাডার হতে মেধার প্রয়োজন ছিল না। মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কিনা, সেটাই বিবেচ্য ছিল। এর বাইরেও তিনি আওয়ামী লীগের প্রতি কতটা পক্ষপাতদুষ্ট, তার বিবরণও পত্রপত্রিকা ও সোশাল মিডিয়ায় প্রচারিত হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় কথা, সরকারি কর্মচারি হিসাবে তার চরম অবাধ্যতা। আর এ কারণেই সিইসির মতো একটি সাংবিধানিক স্পর্শকাতর পদে তাকে কিছুতেই নিয়োগ দেওয়া যায় না। বিএনপি বলেছে, এ রকম একটি নৈতিকতাহীন লোককে সিইসি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার প্রতিফলন হিসেবে। প্রকৃত ঘটনা সেটাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে শুধুমাত্র বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াই। সুতরাং খালেদা জিয়ার প্রতি ব্যক্তিগতভাবে বিদ্বিষ্ট এবং আওয়ামী লীগের প্রতি কৃতজ্ঞ উপযুক্ত লোককেই খুঁজে বের করেছেন শেখ হাসিনা। কারণ আওয়ামী লীগ সরকার তার অবসরের পর তাকে চাকরিতে পুনর্বহাল করে চাকরিতে না থাকা অবস্থায়ই সচিবের পদমর্যাদা দিয়ে সে পদের সকল সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে। সুতরাং জয় বাংলা বলে বিএনপির বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া এই হুদার জন্য স্বাভাবিক ঘটনা।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নম্রভাবে বলেছেন যে, বিপর্যয় এড়াতে নূরুল হুদা যেন শপথ না নিয়েই তার আগে সরে পড়েন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার কি ভেবে দেখেছে যে, বিএনপি যদি এবারও নির্বাচন থেকে দূরে থাকে, তা হলে তার পরিণতি কী হতে পারে? সিইসি প্রতিহিংসাপরায়ণ আওয়ামী লীগার। তার ওপর প্রধানমন্ত্রী, তার মন্ত্রীপরিষদ ও তার  সংসদ বহাল রেখে তাদের সঙ্গে কি বিএনপির প্রতিযোগিতার কোনো মানে হবে? তারা তো নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করবেই। সে কারণেই নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থার প্রশ্ন আসবেই। নির্বাহী বিভাগ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচন পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এদের নিয়ন্ত্রণের সাংবিধানিক ক্ষমতা সিইসির রয়েছে। এখানে তিনি নিরপেক্ষভাবে কাজ করলে নির্বাচন সুষ্ঠু করা সম্ভব।
আমরা প্রায় এক মাস ধরে সার্চ কমিটি সার্চ কমিটি শুনেছিলাম। শেষে দেখলাম, সরকারের পোষ্যদের নিয়ে একটি সার্চ কমিটি গঠন করা হলো। এই কমিটি ভালোই নাটক করেছে। তারা লোক দেখাতে সমাজের নিরপেক্ষ লোকদের সঙ্গে আলোচনা করেছে। পরে আরও চারজনের সঙ্গে আলোচনা করেছে। এরপর তারা প্রথমে ২০টি নামের বাছাই তালিকা করেছে। কেউ জানতে পারেনি, তাদের এই বাছাইয়ের ভিত্তি কী ছিল। তারপর এই সার্চ কমিটি আরও যাচাই বাছাই করে প্রেসিডেন্টের কাছে ১০টি নামের তালিকা চূড়ান্ত করে দেন। প্রেসিডেন্ট যেন কলম খুলেই বসেছিলেন। আর নামগুলো নিয়েও যেন তাকে ভাবতে হয়নি। সার্চ কমিটি কী ভিত্তিতে কাদের নাম দিল, সে কথার জানার আগে জানা গেল প্রেসিডেন্ট কাকে সিইসি আর কাদেরকে কমিশনার নিয়োগ দিয়েছেন। তবে প্রচলিত আছে যে, দৃশ্যপটের বাইরে কেউ হুদাকে সিইসি নিয়োগে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন।
আমরা আবারও দেখতে পেলাম যে, আমাদের রাজনীতিকরা ফের ব্যর্থ হলেন। যতো সদিচ্ছাই থাক না কেন, প্রেসিডেন্ট এই সিইসিকে বাদ দিয়ে নতুন কোনো নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে সিইসি নিয়োগ দিতে পারবেন না। আমরা এটাও জানি যে, যা কিছু করা হচ্ছে তার সব কিছুরই লক্ষ্য নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা। আর পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে, তাতে বিএনপির নির্বাচনে যাওয়াই অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এখানে একমাত্র সম্ভাবনা নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা যদি সরকার মেনে নেয়। কিন্তু সরকার যে জেদাজেদির পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে, তাতে নতুন প্রজন্মের রাজনীতির নেতৃত্বে আসার পথ রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। যার পরিণতিতে সৃষ্টি হচ্ছে এক ভয়াবহ উগ্রবাদী নিষ্ঠুর ঘাতক সন্ত্রাসী প্রজন্ম। ফলে দেশবাসীকে নির্বাচনের নামে রূপকথা শোনাতে বাধ্য হচ্ছে। কিন্তু দলীয় নেতৃত্বের সামান্য একটা ভুলের কারণে গোটা দলের ভাগ্যই বিপর্যস্ত হয়ে যেতে পারে। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে বলা হচ্ছে, বাইরে থেকে কোনো নিপুণ খেলোয়াড় এই চাল চালছে। যাতে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা না থাকে। গণতন্ত্র না ফেরে। হানাহানি হয় এখানকার নিত্যসঙ্গী। আর সেই ঘোলা পানিতে তারা মাছ শিকার চালিয়ে যেতে পারে।
তবে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান দেশে একদলীয় বাকশাল সরকার থেকে ১৯৭৫ সালে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনেন। বিএনপি ১৯৮৬, ১৯৮৮ সালে এবং ২০১৪ সালের ‘পাতানো’ নির্বাচন বর্জন করেছিল। তাতে বিএনপির তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। হয়তো বিএনপিকে ফের কোনো পাতানো নির্বাচন বর্জন করতে হবে। তাতে বিএনপির জন্য ঊনিশ-বিশ তেমন কিছু হবে বলে মনে হয় না। সুতরাং নিজের স্বার্থেই শেখ হাসিনার উচিত হবে রাষ্ট্রপতিকে এই মর্মে পরামর্শ দেওয়া, যাতে তিনি নূরুল হুদার বদলে নতুন কোনো নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে সিইসি নিয়োগ দেন। তা হবে শেখ হাসিনার দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এ রকম সিদ্ধান্ত নিতে পারলে তারা নিজেরাও বাঁচবেন, দেশও বাঁচবে।
http://www.dailysangram.com/post/271896-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%9A%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B0%E0%A7%82%E0%A6%AA%E0%A6%95%E0%A6%A5%E0%A6%BE