১৪ অক্টোবর ২০১৯, সোমবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
সুন্দরবনের অর্ধেক এলাকাজুড়ে অভয়ারণ্য ঘোষণা আটকে গেছে
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, মঙ্গলবার,
বাগেরহাটের রামপালে নির্মাণাধীন কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে আটকে রয়েছে ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সুন্দরবনের অর্ধেক এলাকা অভয়ারণ্যে ঘোষণা। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনের অর্ধেক এলাকাকে সরকার অভয়ারণ্য ঘোষণা করলে তা রামপাল কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে এসে পড়ে অভয়ারণ্য। এতে করে সুন্দরবনের কাছে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে নির্মাণের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীরা হাতে পেয়ে যায় নতুন ইস্যুটি। মূলত এ কারণেই এক বছর ধরে আটকে রয়েছে সুন্দরবনের আরো ১৮টি কম্পার্টমেন্টকে অভয়ারণ্য ঘোষণা। বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক বন অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এতথ্য জানাগেছে।
রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রল ও মায়াবি হরিণ, লবন পানির কুমির, ছয় প্রজাতির ডলফিনসহ ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণী, ৩৩৪ প্রজাতির চিরসবুজ বৃক্ষরাজি, ১৬৫ প্রজাতির শৈবাল, ১৩ প্রজাতির অর্কিড, ৩১৫ প্রজাতির পাখি ও ২১০ প্রজাতির সাদা মাছের অবাধ বিচরণ, বংশবিস্তার ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গত বছরের ২১ জানুয়ারি নতুন করে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের ৭টি, চাঁদপাই রেঞ্জের ৪টি, পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের খুলনা রেঞ্জের ৪টি ও সাতক্ষীরা রেঞ্জের ৩টি কম্পার্টমেন্টকে অভয়ারণ্য ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয় বন বিভাগ। এত করে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ১, ২, ৩, ৪, ৭, ১১ ও ১২-বি কম্পার্টমেন্ট, চাঁদপাই রেঞ্জের ১০, ১২-এ, ১৩ ও ১৪ নম্বর কম্পার্টমেন্ট, খুলনা রেঞ্জের ১৭, ১৮, ১৯ ও ২০ নম্বর কম্পার্টমেন্ট এবং সাতক্ষীরা রেঞ্জের ৪৯, ৫১- বি ও ৫২ নম্বর কম্পার্টমেন্টকে নতুন করে অভয়ারণ্য ভুক্তর কথা বলা হয়। এবিষয়ে সুন্দরবন পূর্ব ও পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তাদের (ডিএফও) কাছে ১৫ দিনের মধ্যে মতামত চেয়ে পাঠায় খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক জহির উদ্দিন আহমেদ। সুন্দরবন পূর্ব ও পশ্চিম বিভাগের দুই ডিএফও ঊর্ধ্বতন কর্র্তপক্ষের কাছে ১৮টি কম্পার্টমেন্টকে অভয়ারণ্য ঘোষণার পক্ষে ম্যাপসহ তাদের ইতিবাচক মতামত পাঠিয়ে দেন। এরপর এক বছর ধরে থমকে রয়েছে সুন্দরবনের অর্ধেক এলাকার ১৮টি কম্পার্টমেন্টকে চূড়ান্তভাবে অভয়ারণ্য ঘোষণার কাজ।
এর আগে ১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর জাতিসংঘের ইউনেস্কো কমিশন এই ম্যানগ্রোভ বনের ৫, ৬, ৫৩, ৫৪, ৫৫, ৪৩ ও ৪৪ নম্বর কম্পার্টমেন্ট এলাকাকে পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণ অভয়ারণ্য নাম দিয়ে বিশ্বের ৫২২তম ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইট (বিশ্ব ঐতিহ্য এলাকা) ঘোষণা করে। ‘বিলুপ্তপ্রায়’ তালিকায় থাকা ইরাবতিসহ ছয় প্রজাতির ডলফিন রক্ষায় ২০১২ সালে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের তিনটি এলাকার নদ-নদীকে ‘ডলফিন অভয়ারণ্য’ ঘোষণা করা হয়। একইভাবে সুন্দরবনের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় ১৮টি নদ-নদী ও খালে মাছসহ সব ধরনের জলজপ্রাণী আহরণও নিষিদ্ধ করা হয়। 
খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) জহির উদ্দিন আহমেদ জানান, মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে এরইমধ্যে সুন্দরবন পরিবর্তিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সংকটাপন্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরকার বিশ্বের বৃহত্তম এই ম্যানগ্রোভ বনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করেছে। সংরক্ষিত এই বনে জাতীয় পশু রয়ের বেঙ্গল টাইগারের বসবাস। এসব দিক বিবেচনায় নিয়ে বন অধিদপ্তর সুন্দরবনের ১৮টি কম্পার্টমেন্টকে অভয়ারণ্য ঘোষণার মাঠ পর্যায়ের কাজ আগেই শেষ হয়েছে। এক বছর ধরে ১৮টি কম্পার্টমেন্টকে অভয়ারণ্য ঘোষণার বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমের কাছে তিনি কোন মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। তবে তিনি বিষয়টি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে দাবি করে আশা প্রকাশ করেছেন, দ্রু সময়ের মধ্যে সুন্দরবনের অর্ধেক এলাকার নতুন ১৮টি কম্পার্টমেন্টকে অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হবে।
সুন্দরবনের প্রাণ-প্রকৃতি নিয়ে কাজ করা সংগঠন সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান পরিবেশবিদ ড. শেখ ফরিদুর ইসলাম অভিযোগ করেছেন, সুন্দরবন সুরক্ষায় সরকার আন্তরিক নয়। আন্তরিক হলে সুন্দরবনের অর্ধেক এলাকাকে অভয়ারণ্য ঘোষণার কাজটি রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিরোধী আন্দোলনকারিদের ভয়ে এক বছর ধরে আটকে রাখতোনা। সুন্দরবনের কাছে কেন বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরী করতে হবে? অনেক বিকল্প স্থানে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করা সম্ভবÑ হাজার-হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেও আর একটি ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন সরকার সৃষ্টি করতে পারবে না। তিনি ১৮টি কম্পার্টমেন্টকে দ্রুত চূড়ান্তভাবে অভয়ারণ্য ঘোষণার পাশাপাশি সরকারকে সুন্দরবন সুরক্ষায় আন্তরিক হবার দাবি জানান। 
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের ডিএফও সাইদুল ইসলাম জানান, বর্তমানে সুন্দরবনের তিনটি ওয়ার্ল্ড হেরিটজে সাইট সংলগ্ন এলাকার ১৮টি কম্পার্টমেন্টকে নতুন করে অভয়ারণ্য ঘোষণা করা গেলে পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের ১২টি কম্পার্টমেন্টের মধ্যে ৯টি অভয়ারণ্য হয়ে যাবে। অভয়ারণ্যের জল-স্থলের সব ধরনের সম্পদ আহরণ নিষিদ্ধ থাকায় বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে একমাত্র ইকো-ট্যুরিস্ট হবে। সুন্দরবনের নতুন এসব অভয়ারণ্যে বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ-বংশবিস্তার ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বনবিভাগের পক্ষে সহজতর হতো।
http://www.dailysangram.com/post/271717-%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A7%87%E0%A6%95-%E0%A6%8F%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%81%E0%A7%9C%E0%A7%87-%E0%A6%85%E0%A6%AD%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A3%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%98%E0%A7%8B%E0%A6%B7%E0%A6%A3%E0%A6%BE-%E0%A6%86%E0%A6%9F%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%9B%E0%A7%87